মঙ্গলবার ৩০, নভেম্বর ২০২১
EN

অবক্ষয় ও আমাদের করণীয়

করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবে পুরো বিশ্বই এখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক এই মহামারীর কারণে মানুষের মধ্যে যখন ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটতে শুরু করেছে তখনও আমরা এক্ষেত্রেও পশ্চাদমুখী। কারণ, করোনা ভাইরাসের চাইতে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে ধর্ষক নামের ভয়াবহ ভাইরাস। এমতাবস্থায় জাতি বিক্ষুদ্ধ, লজ্জিত এবং প্রতিবাদমূখর হয়ে উঠেছে। সিলেটের ঘটনার ক্ষত শুকাতে না শুকাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ঘটনা আমাদেরকে আতংকিত করে তুলেছে। অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পীকার প্রত্যেকেই গৌরাবান্বিতা নারী। নারী নির্যাতন প্রতিরোধেরতাদের আন্তরিকতা কোন ঘাটতি নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে জাতি ধর্ষণ নামের এই মহামারী থেকে আজও মুক্ত নয়।

করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবে পুরো বিশ্বই এখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক এই মহামারীর কারণে মানুষের মধ্যে যখন ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটতে শুরু করেছে তখনও আমরা এক্ষেত্রেও পশ্চাদমুখী। কারণ, করোনা ভাইরাসের চাইতে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে ধর্ষক নামের ভয়াবহ ভাইরাস। এমতাবস্থায় জাতি বিক্ষুদ্ধ, লজ্জিত এবং প্রতিবাদমূখর হয়ে উঠেছে। সিলেটের ঘটনার ক্ষত শুকাতে না শুকাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ঘটনা আমাদেরকে আতংকিত করে তুলেছে। অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পীকার প্রত্যেকেই গৌরাবান্বিতা নারী। নারী নির্যাতন প্রতিরোধেরতাদের আন্তরিকতা কোন ঘাটতি নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে জাতি ধর্ষণ নামের এই মহামারী থেকে আজও মুক্ত নয়।

আমাদের দেশে যে শুধু ধর্ষণ হচ্ছে তাই নয় বরং অশ্লীল কাজগুলো ভিডিও করে তা ইউটিউবে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এমন অপকর্মের প্রতিবাদ না করার জন্য সবাইকেই শাস্তি ভোগ করতে হবে। তা দুনিয়ায় হোক কিংবা আখেরাতে হোক। আমরা এখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার চেতনা হারিয়ে ফেলেছি। অথচ আমাদের দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস পোষণ করেন। এমন দেশে এইসব অনাকাঙ্খিত ঘটনা কিভাবে ঘটতে পারে তা করো বোধগম্য নয়। এমতাবস্থায় কিছু ভাই-বোন ধর্ষণ সহ নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদ করছেন। এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই । কিন্তু এই প্রতিবাদের আওয়াজ খুবই ক্ষীণ; অপ্রতুল।

আমাদের দেশে নানাবিধ কারণেই ধর্ষণ, নারীর প্রতি সহিংসতা সহ নানাবিধ অপরাধ ক্রমবর্ধমান। আর বর্তমানে ধর্ষণ একেবারে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। আমাদের দেশের আর্ত-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এর নানাবিধ কারণও বিদ্যমান। কারণগুলো হচ্ছে-

১। পারিবারিক শিক্ষার অভাব :

পিতামাতার জন্য সন্তানসন্ততি আল্লাহর পক্ষ থেকে পবিত্র আমানত। শিশু জন্ম নেয়ার পর তার জন্য উত্তম নাম রাখা বাবা মায়ের দায়িত্ব। নামের প্রভাব সন্তানের চরিত্রে প্রভাব ফেলে। শিশুরা ছোট বেলা থেকে বাবা মা-কে অনুসরণ করে। পরিবার হলো সন্তানের ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র গঠনের প্রাইমারি ইনস্টিটিউশন। নেপোলিয়নে বোনাপোর্ট বলেছেন ‘If you give me a good mother, I will give you a good nation’. পিতা-মাতার পোশাক, কথাবার্তা, আচার আচারণ ইত্যাদি অবশ্যই শালীন ও মার্জিত হতে হবে। পিতামতার পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্য-সদস্যা যেমন ভাই বোন নিকটাত্মীয়কেও উত্তম আচরণের অধকারী হতে হবে। শৈশব থেকে কৈশোর এবং কৈশোর থেকে যৌবন সর্বাবস্থায় ভাল সঙ্গ দিতে হবে। কথায় আছে ‘সৎ সঙ্গে সরগবাস অসৎ সঙ্গে সথে সর্বনাশ’। বর্তমান যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ অসৎসঙ্গ। অশালীন আচরণ, ধূমপান, মাদকাশক্তি ইত্যাদি অসৎসঙ্গের প্রভাবেই বেশী হচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই মা-বাবাকে যে শিক্ষা দিতে হবে সেটা হলো What is right & what is wrong? আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য, দায়িত্ব কর্তব্য কি? হৃদয়ের মাঝে শ্রষ্টার প্রতি অবিচল বিশ্বাস এবং তাকে ভয় করার শিক্ষা দিতে হবে। এসেত্রে অবশ্যই বাবা-মা তাদের সামনে উত্তম আদর্শ হবেন। সন্তানের সাথে বাবা-মায়ের সম্পর্ক হবে বন্ধুত্বপূর্ণ। যাতে সন্তানরা সব ব্যপারে তাদের সাথে শেয়ার করতে পারে।

২। সমাজে উত্তম নীতি ও আদর্শের মূল্যায়ন না থাকা
সমাজে যারা সৎ, জ্ঞানী, উন্নত চরিত্রের অধিকারী তাদের প্রতি অবজ্ঞা অবহেলা এবং মূল্যায়ন না করার কারণে অসৎ লোকদের দৌরাত্ব বেড়ে যায়। বর্তমানে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দূর্নীতি ও অসততার সয়লার । এমনকি এই থাবা থেকে রাজনীতিবিদ, সমাজপতি, ব্যবাসায়ী শিক্ষাবিদ কেউ বাদ পড়েনি। জনগণের কোটি কোটি টাকা আজ তাদের আয়ত্বে। বাহ্যিক ভাবে আমরা যতই নিজেদেরকে সুফি বা দরবেশ হিসেবে পেশ করি না কেন তা শুধু মানুষকে বিভ্রান্তই করবে।

৩। নারীর মর্যদা ও সম্মান লুন্ঠিত করে তাকে ভোগ্য পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা।

নারীজাতি সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সম্মানিত সৃষ্টি। সেই নারীকে আমরা আজ সেবাদাসী, ভোগ্যপণ্য হিসেবে ব্যবহার করছি। নারী দেহকে অশ্লীল, অশালীন ভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে পুরুষদের মাঝে কামভাব ও যৌন আবেদন সৃষ্টি হচ্ছে। পর্ণগ্রাফির লাগামহীন ছাড়াছড়ি যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কর্মক্ষেত্রের কিছু কিছু পদের জন্য যেমন রিসিপশনিষ্ট এয়ারহোস্টেস অফিসের বসের পিএস নির্ধারণের জন্য অবশ্যই অবিবাহিত, সুন্দরী স্মার্ট মেয়েদের নিয়োগ দেয়া হয়। সমাজের উল্লেখযোগ্য অংশে আজ নারীরা যৌনহয়রানির স্বীক্ষার হচ্ছেন।

৪) ধর্ষণের চিত্রকে ভিডিও ও সিনেমাতে নগ্নভাবে প্রকাশ করা।

আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে অশ্লীলতাকে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন পাটি নাইটক্লাবে যারা থার্টিফাস্ট নাইট, র‌্যাগডে, ভালবাসা দিবস আমাদের সামনে আজ উচ্ছৃঙ্খলতার এক নগ্ন রূপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। যেখানে নারী পুরুষ তথা যুবক-যুবতীদের অবাধ মেলামেশা ধর্ষণকে উসকে দিচ্ছে। অথচ আল কোরআনে আল্লাহপাক বলেছেন। তোমরা জেনা ব্যভিচারের ধারে কাছেও যেওনা।

৫। নারীর নিরাপত্তার অভাব নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা এর কারণ।

অনেক ক্ষেত্রে রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। যেমন-নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আমাদের নারী সমাজ নিরাপত্তাহীন ( ভিকটিম কোন নারী আজ থানায় যেতে ভয় পায় কারণ সেখানে গিয়ে তাকে আবারো ভিকটিম হতে পারেন)। আমাদের দেশে এমন অনেক ঘটনা আছে যেখানে নারীরা পুলিশ কর্তৃক নির্যাতিত হয়েছে।

৬। বর্তমান সমাজে বিবাহ কঠিন হয়ে যাওয়া এবং বিবাহ বহির্ভূত অনৈতিক কাজ সহজ হওয়া।

যুব সমাজের বেকারত্ত¡, যৌতুকের বোঝা, নারীপুরুষের অবাধ অনৈতিক সম্পর্ক যেমন লিভ টুগেদার সামাজিকভাবে বিবাহকে কঠিন করে ফেলেছে। পারিবারিক দায়িত্ব কাধে না নেয়ার মানসিকতার আজ যুবসমাজকে প্রভাবিত করছে। পরিণত বয়সে সন্তানদের বিয়ে দেয়ার ব্যপারে অভিভাবকের উদাসীনতাও এর একটি বড় কারণ। এক্ষেত্রে সামাজিকভাবে অভিভাবকের পাশাপাশি আত্নীয় স্বজনকেও বিয়েশাদীর উদ্যোগ নেয়া দরকার।

৭। বিচারহীনতার সংস্কৃতি

যারা নারী নির্যাতন, নারী ধর্ষণ করছে তাদের যেমন মানুষের ভয় নেই আল্লাহকে তারা ভয় পায় না। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার পরও বিভিন্ন ফাক-ফোঁকড় দিয়ে সে বের হয়ে যাচ্ছে। জামিন পেয়ে পূর্বের চাইতে আরো শক্তিশালী হয়ে সমাজের সামনে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে অন্যায় করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়া বিরাট ভূমিকা পালন করছে।

নারী নির্যাতন তথা সামাজিক নৈতিক অবক্ষয় প্রতিরোধে করণীয় :

১। উন্মত, পূর্ণাঙ্গ নৈতিক শিক্ষা প্রদানে কার্য্যকর ভূমিকা গ্রহণ।
এই শিক্ষা হতে হবে শিশু বয়স থেকে বৃদ্ধাবস্থা পর্যন্ত। (It is a continuous process) শিক্ষার শুরু হবে পরিবার নামক প্রাইমারি প্রতিষ্ঠান থেকে। এই পরিবার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা হবে বাবা, মা, বড় ভাই, বোন নিকট আত্নীয়। একটি শিশু জন্ম মানেই তা বাবা মায়ের কাছে বিরাট আমানত। তাকে অবহেলা না করে সানন্দে গ্রহণ করা এবং তাকে সুস্থ স্বাভাবিক বেড়ে উঠানোর দায়িত্ব একমাত্র বাবা-মারই । এ ব্যাপারে অবশ্য বাবা-মাকে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।

স্কুলের শিক্ষার ব্যপারে অবশ্যই ভাল Ideal স্কুল ঠিক করতে হবে। যে সকল স্কুল আধুনিক টিচিং এর নামে বাচ্ছাদেরকে অশালীনতা ও উচ্ছংখলতা শেখায় সেই সকল স্কুলে সন্তানদের পাঠিয়ে তাদের কাছ থেকে ভাল কিছু আশা করা যায় না। স্কুল-কলেজের ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যসূচীতে অবশ্যই ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের সুষ্পষ্ট সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা দিতে হবে। কর্মস্থলে অফিস আদালতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পনা মাফিক কিছু সময়ের জন্য Moral education দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি ভয় সৃষ্টি করতে হবে। One head for you another head to help others এই ব্রত নিয়ে কাজ করতে হবে। কালামে পাকে বলা হয়েছে, ‘তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, মানবতার কল্যাণের জন্য তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে। তোমরা সৎ ও ন্যায্য কাজের আদেশ দিবে অন্যায় ও অসৎকাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখবে।
২। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা

অন্যায় যে করে এবং অন্যায় যে সহে তারা সমান অপরাধী। চোখের সামনে অন্যায় ধর্ষণ দেখার পরেও আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে আছি। কিছু লোক অন্যায়কারীর কাজকে আবার ভিডিও করে মানুষকে দেখাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জাকর ও রীতিমত দূর্ভাগ্যজনক। অথচ উচিত ছিল অন্যায়কারীর হাতকে ধরে ফেলা। তঅন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে শক্তি দিয়ে, কথা দিয়ে, যদি তাও সম্ভব না হয় তবে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করতে হবে। সামাজিকভাবে অন্যায়কারীকে বয়কট করতে হবে। কোন বাবা-মায়ের সন্তান যদি ধর্ষণকারী হয় তবে অবশ্যই বাবা-মা নিজেই আইনের আশ্রয় নিয়ে সন্তানকে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকা সবচেয়ে বেশী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মজলুম মানুষের পাশে দাড়াতে হবে। আজ যদি তাদের মা-বোন স্ত্রী এহেন নির্যাতিত হতেন তাহলে কি তারা চুপচাপ বসে থাকতে পারতেন? হাদীসে এসেছে, ‘যখন পাপকাজ অতিমাত্রায় বেড়ে যাবে তখন তোমাদের মধ্যে পুন্যবান লোকজন থাকা সত্তে¡ও তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে।’ সহীহ বুখারী

৩। এবিষয়ে আলেমদেরকে মসজিদের থেকে সোচ্ছার হতে হবে। সমাজের মানুষের মাঝে নৈতিক শিক্ষায় দায়িত্ব বিশেষভাবে আলেম সমাজের উপর বর্তে। মসজিদের ইমামকে অবশ্যই ইসলামের সঠিক ধারণার অধিকারী হতে হবে। নামাজের আগে বা পড়ে সামজিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্ব্যোগ প্রকাশ করা, অন্যায়ের প্রতিবাদের আমাদের ভূমিকা কি হবে সে বিষয়ে খুতবায় আলোচনা করতে হবে। মসজিদ-মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নৈতিক শিক্ষার উত্তম স্থান।

৪। পুলিশ প্রশাসন তথা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরকে সম্মান করতে হবে। তাদেরকেও নৈতিক শিক্ষার আওতায় আনতে হবে। রক্ষককে ভক্ষক হলে চলবে না । মা-বোনের ইজ্জত ও সম্মান রক্ষার্থে তাদেরকেও আন্তরিক হতে হবে। সৎ ও ত্যাগী পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে অবশ্যই পুরষ্কার দেয়ার ব্যবস্থা কার্যকর এবং অনৈতিক পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

৫। মিডিয়া কর্মীদের নির্যাতিত মা বোনদের পাশে থাকতে হবে। আসল ঘটনা প্রকাশ করে অন্যায়কারীর মুখোশ উন্মোচন করে দেয়া এবং ভিকটিমের পাশে দাড়ানোই মিডিয়া কমীদের কাজ। আসুন আমার আপামর জনসাধারণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করি এবং নিন্মোক্ত প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন প্রদান করে অন্যায়ে বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই এবং মহান আল্লাহ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করি।

ধর্ষণ তথা নারী নির্যাতন প্রতিরোধের নিন্মোত্ত প্রস্তাবনা :

১। বর্তমান আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড করতে হবে। যা ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।
২। ধর্ষকের বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইবুনাল গঠন করে ৬ মাসের মাধ্যে রায় চূড়ান্ত করতে হবে।
৩। এই আইনটি সকল পর্যায়ে জামিন অযোগ্য হতে হবে।
৪। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাকে সর্বস্তরের সিলেবাসে বাধ্যতামূূলক করতে হবে।
৫। প্রত্যেক ক্ষেত্রে যেমন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মস্থলে নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি থাকতে হবে।
৬। সকল ধরনের অশ্লীল পত্রিকা সাহিত্য, ভিডিও প্রচারণা বন্ধ করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
৭। নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে বিজ্ঞাপনে ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।
৮। সকল ধরনের মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ করতে হবে।
৯। বেকার যুবক-যুবতীদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

লেখিকা: প্রফেসর ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, সেক্রেটারি, নারী অধিকার আন্দোলন।

(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)

এমবি

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *