রবিবার ৩, জুলাই ২০২২
EN

অবৈধ গ্যাস লাইন নাকি মৃত্যুফাঁদ

সরকার রাজধানী ঢাকার আশেপাশে ২৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ অবৈধ গ্যাস বিতরণ লাইন শনাক্ত করেছে যেখান থেকে হাজার হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়েছেন বিপুল সংখ্যক গ্রাহক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা না করেই এমন সঞ্চালন লাইন করা হয়েছে যা ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিরাট ফাঁদ তৈরি করেছে।

সরকার রাজধানী ঢাকার আশেপাশে ২৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ অবৈধ গ্যাস বিতরণ লাইন শনাক্ত করেছে যেখান থেকে হাজার হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়েছেন বিপুল সংখ্যক গ্রাহক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা না করেই এমন সঞ্চালন লাইন করা হয়েছে যা ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিরাট ফাঁদ তৈরি করেছে। এখন এমন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে ঠিকই, কিন্তু যখন প্রকাশ্যে এমন সরবরাহ লাইন নির্মাণ করা হয় তখন কেন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি? গাজিপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার জহিরুল ইসলামের বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। মাত্র এক বছর আগে যখন সংযোগ আসে তখন তার স্ত্রীর বেশ উপকারই হয়েছিল। তিনি জানতেন সংযোগটি অবৈধ। কিন্তু বৈধ হবে এমন আশায় তিনি সংযোগ নিয়েছিলেন। এখন দুদিন ধরে তার বাড়িতে আবার কেরোসিন দিয়ে রান্না হচ্ছে। শুধু গাজিপুরেই নয়, রাজধানী ঢাকার আশেপাশে তিতাস গ্যাস কোম্পানির বিতরণ লাইনের এলাকাগুলোতে ইসলামের মতো অসংখ্য গ্রাহক অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়েছিলেন। মূলত গ্যাস সংকটের কারণে ২০০৯ সালের জুলাই থেকে শিল্প কারখানায় এবং এর এক বছর পর অর্থাৎ ২০১০ সালে জুলাইয়ে বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংযোগ দেয়া বন্ধ রাখে সরকার। কিন্তু গত চার-পাঁচ বছরে চাহিদা বেড়েছে। বলা হচ্ছে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে তিতাসের কাজ করতো এমন কন্ট্রাকটররা অবৈধ সংযোগ দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সংযোগ দিতে গিয়ে কোনো নিয়মকানুনের বালাই ছিলনা, মানা হয়নি কোন নিরাপত্তা ঝুঁকির দিকও। কোথাও বা গাছের ওপর দিয়েও গ্যাসের পাইপ টানা হয়েছে। এমন কথাই বলছিলেন তিতাস গ্যাস কোম্পানির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর। মনসুর বলেন সংযোগ যখন বন্ধ ছিল তখন ১লক্ষ ৬৫ হাজার সংযোগ অবৈধভাবে নেয়া হয় এবং তিতাসের পক্ষ থেকে তাদের বৈধ হবার সুযোগ দেয়া হয়। এর বাইরেও অসংখ্য অবধৈ গ্রাহক রয়ে যায়। আর এই বৈধ করার প্রক্রিয়ারই সমালোচনা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম। কিন্তু যখন প্রকাশ্যে এমন সরবরাহ লাইন নির্মাণ করা হয় তখন কেন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি? জবাবে মনসুর বলেন, তাদের অভিযান সবসময়ই চলেছে কিন্তু বিভিন্ন সময়ই দেখা গেছে তাদের লোকজন অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে আক্রমণের মুখে পড়েছেন। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মি তামিম বলছিলেন সরকারকে শক্ত হাতেই তৈরি হওয়া মৃত্যুর ফাঁদগুলো বন্ধ করতে হবে। [b]ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডিডটকম) // ইএইচ[/b]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *