রবিবার ২, অক্টোবর ২০২২
EN

অবশেষে দুদককে ঋণ জালিয়াতির নথি দিচ্ছে সোনালী ব্যাংক

অবশেষে ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সোনালী ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। শিগগিরই প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে, এই বিষয়টি দুদক কর্মকর্তাদেরকে টেলিফোন এবং চিঠির মাধ্যমে আশ্বস্ত করেছে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

অবশেষে ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সোনালী ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। শিগগিরই প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে, এই বিষয়টি দুদক কর্মকর্তাদেরকে টেলিফোন এবং চিঠির মাধ্যমে আশ্বস্ত করেছে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত ১০ মার্চ অনলাইন দৈনিক 'টাইমনিউজবিডি.কম'-এ '৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি, দুদককে নথি দিচ্ছে না সোনালী ব্যাংক' শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্ত কাজে বাধা সৃষ্টি করছে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তরা। দুদকের অনুসন্ধানী কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান দুদক কর্মকর্তারা। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এর পর সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। একই সঙ্গে গত ১৩ মার্চ সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয় থেকে চিঠি পাঠিয়ে সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার ম্যানেজার/ ডেপুটি ম্যানেজারকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে দুদকের চাহিদা মোতাবেক নথিপত্রের সত্যায়িত ২ সেট প্রেরণের অনুরোধ জানানো হয়। সোনালী ব্যাংকের এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দুদকের চাহিদা মোতাবেক নথিপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহের অনুরোধ সত্বেও এখনো প্রেরণ করা হয়নি। চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের দ্বিতীয় দফা চিঠির চাহিদা মোতাবেক নথিপত্র সরবরাহের অনুরোধ সত্বেও আপনারা সারা দেননি। এর ব্যার্থতার দায়ভার আপনাদের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারদের উপর বর্তাবে। জানা যায়, প্রায় ৭  হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত সোনালী ব্যাংকের শাখাগুলো হচ্ছে; ঢাকায় লোকাল অফিস, বৈদেশিক বাণিজ্য কর্পোরেট শাখা, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কর্পোরেট শাখা, হোটেল রুপসী বাংলা (শেরাটন) কর্পোরেট শাখা, আগারগাঁও শাখা, গুলশান শাখা, নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখা, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখা ও লালদীঘি কর্পোরেট শাখা। দুদকের অনুসন্ধানী টিমের প্রধান মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী  টাইমনিউজবিডিকে জানান, বহুল আলোচিত সোনালী ব্যাংক থেকে হলমার্ক, পারটেক্স গ্রুপের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির ঘটনা তদন্তকালে আরও শতাধিক প্রতিষ্ঠানের  জালিয়াতি ও বিদেশে অর্থপাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।   দুদকের এই অনুসন্ধানী কর্মকর্তা গত বছর ২ ডিসেম্বর সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের ৫টি শাখা থেকে  ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় নথি সরবরাহের অনুরোধ জানান। কিন্ত সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে দুদকের পাঠানো ওই চিঠির আলোকে কোনো নথিপত্র পাঠায়নি। এমনকি অফিসিয়ালভাবে সোনালী ব্যাংক থেকে দুদকের সঙ্গে যোগাযোগও করেনি। পরে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের অনুসন্ধানী টিমের পক্ষ থেকে মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী দ্বিতীয় দফা নথিপত্র চেয়ে সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু তাতেও সাড়া দেয়নি সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর অবশেষে দুদকের চিঠির আলোকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেয়ার বিষয়ে সাড়া দিচ্ছেন সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। [b]ঢাকা, একে, ১৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *