বুধবার ১, ফেব্রুয়ারি ২০২৩
EN

অভিনেত্রী শিমু হত্যা : স্বামীসহ দুই আসামি রিমান্ডে

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও গাড়িচালক এস এম ফরহাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও গাড়িচালক এস এম ফরহাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগম এই আদেশ দেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আনোয়ারুল কবির বাবুল এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আজ ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) চুন্নু মিয়া আসামিদের হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক দুজনকে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। 

এর আগে আজ বিকেলে কেরানীগঞ্জ থানায় এ মামলা করা হয়। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞতা পরিচয় আসামিও করা হয়েছে।

মামলাটি করেছেন রাইমা ইসলাম শিমুর বড় ভাই হারুন অর রশিদ। বিষয়টি জানিয়েছেন শিমুর মেজ ভাই শহিদুল ইসলাম খোকন ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সালাম মিয়া।

ওসি বলেন, ‘আমরা বিস্তারিত তদন্ত করছি। তদন্তে আর কারও নাম এলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ডে নিয়ে তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

শিমুর ভাই শহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘আমার বড় ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় শিমুর স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল, নোবেলের বন্ধু ফরহাদ ও আরেকজনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। তবে, আরেকজনের নাম এখনি বলতে চাচ্ছি না আমরা। কারণ, তিনি পালিয়ে যেতে পারেন। এ ছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় আসামিও আছে।’

এর আগে দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার তাঁর নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। শিমুকে হত্যার দায় প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন তাঁর স্বামী নোবেল। এ ছাড়া আর কোনো কারণ আছে কি না, বিস্তারিত তদন্তের পর আমরা স্পষ্টভাবে জানতে পারব।’

মারুফ হোসেন সরদার আরও বলেন, ‘কেরানীগঞ্জের আলিয়াপুর ব্রিজের নিচ থেকে শিমুর লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থলের সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং তাঁর কলাবাগানের বাসার সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আমরা সন্দেহজনকভাবে তাঁর স্বামী নোবেল ও নোবেলের বন্ধু ফরহাদকে রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসি। তাঁদের বক্তব্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাঁদের আটক করি।’

ঢাকার পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমাদের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পেরেছি যে, ফরহাদ শিমুকে গুম করার কাজে সহযোগিতা করেছেন। এ ছাড়া আর কেউ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা বিস্তারিত তদন্ত না করে বলা যাবে না। লাশটি আলিয়াপুর ব্রিজের ওখানে ফেলা হয়েছে গুম করার জন্য। আর কোথায় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করা হয়েছে, বিস্তারিত তদন্ত না করে বলা যাবে না। এ ছাড়া যেকোনো হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে যদি বিস্তারিত বলা হয়, তাহলে অপরাধীরা ওইভাবে হত্যাকাণ্ড করার চেষ্টা করতে পারে।’

গত রোববার সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন রাইমা ইসলাম শিমু। ওই দিন রাতেই কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিমুর স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল। জিডিতে নোবেল দাবি করেন, ‘গত রোববার অনুমানিক সকাল ১০টার দিকে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায় শিমু। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত (জিডি করার সময় পর্যন্ত) বাসায় ফেরেনি। তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’

এরপর গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আলিয়াপুর ব্রিজের নিচ থেকে রাইমা ইসলাম শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর শিমুর স্বামী নোবেল ও ফরহাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তারা হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন বলে দাবি করে পুলিশ।

এমআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *