বুধবার ১, ফেব্রুয়ারি ২০২৩
EN

অভ্যন্তরীণ বাজার রক্ষা করতে গম রপ্তানি বন্ধ করেছে ভারত : জয়শঙ্কর

বাজারে ফটকাবাজদের প্রবেশাধিকার কমাতে এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজার রক্ষা করতেই ভারত গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার (৩ জুন) গ্লোবসেক ২০২২ ব্রাতিস্লাভা ফোরামে তিনি একথা বলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইট টাইমস।

এর আগে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক খাদ্য সংকট সৃষ্টির আশঙ্কার মধ্যেই গত মাসের মাঝামাঝিতে বিদেশে গম রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে ভারত।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, আমরা যা দেখলাম তা হলো- নিম্ন আয়ের ক্রেতারা নিষ্পেষিত হচ্ছিলেন। আমাদের সদিচ্ছাকে ব্যবহার করে প্রকৃতপক্ষে বেচাকেনা বন্ধ করা হচ্ছে, আমাদের সদিচ্ছাকে (খরাপভাবে) ব্যবহার করা হচ্ছে। আর তাই এটি বন্ধ করার জন্য আমাদের কিছু করতে হতো। কারণ এই বিষয়টি আমাদের দেশেও প্রভাব ফেলছিল, মূলত গমের দাম বেড়ে যাচ্ছিল।

তিনি বলেন, সুতরাং, আমরা যা করেছি সে সম্পর্কে আমি খুব স্পষ্ট হতে চাই। আমরা আসলে বলেছি, ফটকাবাজদের আমরা ভারতীয় বাজারে উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার দেবো না। এতে ভারতীয় গ্রাহক এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলো (স্বল্পোন্নত দেশ) খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতো।

এস জয়শঙ্কর দাবি করেন, ভারত সাধারণত বছরে ২০ লাখ থেকে ৩০ লাখ গম রপ্তানি করলেও গত বছরে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির রপ্তানিকৃত মোট গমের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ লাখ।

অন্যদিকে রুশ বার্তাসংস্থা স্পুটনিক জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেছেন, উচ্চ-আয়ের দেশগুলোতে গমের সরবরাহ পরিবর্তন করে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ইয়েমেন এবং সুদানের মতো ভারতীয় গমের ঐতিহ্যবাহী ক্রেতাদের দিকে মনোনিবেশ করতে চায় ভারত।

তিনি বলেন, চলতি বছর তাপপ্রবাহ আমাদের ওপর বেশ খারাপভাবে প্রভাব ফেলার আগে প্রত্যাশা ছিল যে আমরা যথেষ্ট পরিমাণ রপ্তানি করতে পারবো, কিন্তু পরে দেখলাম আমাদের গমের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সংকটের একটি বড় অংশই করেছে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরা।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নিয়ে যা ঘটেছে, গম নিয়ে তেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক, আমরা সেটা চাই না। মূলত করোনা মহামারির মধ্যে ধনীরা টিকা পেয়েছিল এবং দরিদ্রদের সৃষ্টিকর্তার ভরসায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে সংবাদমাধ্যম বলছে, ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) গত ১৩ মে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই প্রজ্ঞাপনে ভারত থেকে অবিলম্বে গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়। মূলত ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। কারণ এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী গম সরবরাহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ডিজিএফটি’র এই আদেশের পরপরই ১৪ মে থেকে গম রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। দেশটির এই সিদ্ধান্তে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক খাদ্য নিরাপত্তা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত রপ্তানি বন্ধের বিষয়ে ভারতের এই সিদ্ধান্তের পর ইউরোপের বাজারে প্রতি টন গমের দাম রেকর্ড ৪৫৫ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

অবশ্য গত মাসের শেষের দিকে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে এবং প্রয়োজন রয়েছে এমন দেশের কাছে গম রপ্তানির অনুমতি দেবে ভারত। তবে ব্যক্তিগত সরবরাহকারীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে না। কারণ এটি কেবল কালোবাজারকে উপকৃত হবে।

এমআই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *