রবিবার ৩, জুলাই ২০২২
EN

অর্থনীতির ক্ষতি কাটানো অনেক বড় চ্যলেঞ্জ : গভর্নর

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে সম্প্রতি অর্থনীতিতে যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠা এক বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতে খেলাপী ঋণের হার সহনশীল পর্যায়ে রাখা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে সম্প্রতি অর্থনীতিতে যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠা এক বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতে খেলাপী ঋণের হার সহনশীল পর্যায়ে রাখা, সকল পর্যায়ে সুশাসন, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরীক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা সংরক্ষণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা ইত্যাদি চ্যালেঞ্জও আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। মঙ্গলবার  কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত ব্যাংকার্স সভায় গভর্নর এসব কথা বলেন। আতিউর বলেন,  রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে গত বছরের সর্বশেষ প্রান্তিকে দেশের অর্থনীতি বেশ খানিকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও ব্যাংকিং খাত ও অর্থনীতির সার্বিক সূচকগুলো বর্তমানে ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। মূল্যস্ফীতি, রেমিট্যান্স প্র্রবাহ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, আমদানি-রপ্তানি, চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ইত্যাদি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রবৃদ্ধি-বান্ধব মুদ্রানীতি ঘোষণার কথা জানিয়ে গভর্নর বলেন,  চলতি অর্থবছর শেষে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, রিজার্ভ মানি ও ব্যাপক মুদ্রা যোগানের প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বসীমা যথাক্রমে ১৬.২ ও ১৭.০ শতাংশে নির্ধারণ এবং বেসরকারি খাতে ঋণ যোগানের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১৬.৫ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের মাত্রা পরিমিত রাখা, অর্থনীতির বহিঃখাতের স্থিতিশীলতা অর্জন ও বিনিময় হারে অস্বাভাবিক অস্থিতিশীলতা পরিহার করাও মুদ্রানীতির অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি। আতিউর বলেন, মুদ্রা পাচার ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ আন্তঃসরকার সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল এ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) এর ‘গ্রে-লিস্ট’ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। এতদিন লিস্টে থাকায় এলসি খোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এক শতাংশ পর্যন্ত চার্জ দিতে হতো। এখন এই চার্জ অনেকটাই কমে আসবে। আতিউর বলেন, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় রাখার স্বার্থে মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজার উভয় বাজারের স্থিতিশীলতা আমাদের বজায় রাখতে হবে। পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঋণভারগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তার লক্ষ্যে সরকারকে প্রদেয় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা থেকে ৯০০ কোটি টাকার একটি তহবিল আইসিবি’র মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সম্প্রতি কিছু কিছু ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়নে নানা অজুহাতে অনীহা ও বিলম্ব প্রদর্শন করছে-এ ধরনের অনেক অভিযোগ আসছে জানিয়ে আতিউর বলেন, এ কারণে যাদের অনুকূলে গ্যারান্টি ইস্যু করা হয়েছিলন তারা আর্থিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই ব্যাংক গ্যারান্টির মূল্য যথাসময়ে পরিশোধে গাফিলতি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের রিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুসিয়ারি দেন গভর্নর। ঋণ পুনঃতফসিল ঋণের পরিশোধসূচি অনুযায়ী আদায় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে এসব ঋণ আদায়ে নিজ নিজ ব্যাংকে ‘রিকোভারি ইউনিট’ গঠন করতে পরামর্শ দেন তিনি।  বৈঠকে সকল তফসিলি ব্যাংকের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। [b]ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *