রবিবার ২৭, নভেম্বর ২০২২
EN

অসাংবিধানিক শক্তিকে ঠেকাতে নির্বাচন হয়েছে : অ্যাটর্নি জেনারেল

৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেনঅ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। মঙ্গলবার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি খোরশেদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে অ্যাটর্নি জেনারেল তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন

৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন  রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে  অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেনঅ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

মঙ্গলবার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি খোরশেদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে  অ্যাটর্নি জেনারেল তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, ওই সময় নির্বাচন দেয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নির্বাচন না হলে অন্য কোনো অসাংবিধানিক শক্তি ক্ষমতা দখল করতে পারতো। 

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়াকে কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না মর্মে হাইকোর্টের রুলের উপর শুনানিকালে তিনি এ কথা বলেন।

আদালতে মাহবুবে আলম বলেন, নির্বাচনটা ছিল সরকারের নীতি। এছাড়া সংবিধানের বাধ্যবাধকতা থাকায় এবং অরাজনৈতিক কেউ যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্যই মূলত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধানিকভাবেই হয়েছে’ জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি বলেন, সরকারের নীতির ব্যাপারে আদালত কোনো আদেশ দিতে পারে না। এছাড়া নির্বাচনের আগে অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা বেড়ে গিয়েছিল। দেশকে আইনগতভাবে পরিচালনা করতেই মূলত নির্বাচন দেয়া হয়েছিল।

আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচনের কিছু নজিরানা উপস্থাপন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময়ে বিনা ভোটে বা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়েছেন বলে আদালতকে জানান তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য উপস্থাপনের পর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুরাদ রেজা বক্তব্য পেশ করেন। তার বক্তব্য অসমাপ্ত রেখে আগামীকাল পর্যন্ত এ মামলার কা‌র্যক্রম মূলতবি করা হয়।

এর আগে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত কেন অবৈধ নয় মর্মে হাইকোর্টের দেয়া রুলের উপর অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে পাঁচজন তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এরমধ্যে ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক উল হক, বদিউল আলম মজুমদার এ নির্বাচনকে অসাংবিধানিক ও বেআইনি বলে তাদের মতামত পেশ করেছেন। অপরদিকে আজমালুল হক কিউসি ও রোকন উদ্দিন মাহমুদ নির্বাচনকে সঠিক বলে উল্লেখ করেছেন।

এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা সংক্রান্ত ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের এ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধৃ) হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করার জন্য ড.কামাল হোসেন,এম আমির-উল ইসলাম, রফিক উল হক, মওদূদ আহমদ,রোকন উদ্দিন মাহমুদ, আজমালুল হক কিউসি ও বদি-উল আলম মজুমদারকে ঠিক করেন আদালত। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য শোনার জন্য আদালত তাদেরকে বন্ধু হিসেবে এ্যামিকাস কিউরি ঘোষণা করেন।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একক প্রার্থীকে নির্বাচিত করার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯ ধারা কেন সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না,তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট ।

এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত  বেঞ্চ  এ রুল জারির আদশে দেন।

রুলে ১০ দিনের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদসচিব,আইনসচিব,প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে  জবাব দিতে বলা হয়েছে।

২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার আবদুস সালাম সুপ্রিমকোর্টে রিট আবেদনটি করেন। পরে ওই রিটের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ১৬ ফেব্রুয়ারিতে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন  আইনজীবী হাসান এম এস আজিম। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো.আল আমীন সরকার।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯ ধারা অনুসারে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর বা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর একক প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা যায়। এটি সংবিধানের ৭,১১,২৭,৩১,৬৫(২),১২১ ও ১২২(২)অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।

ঢাকা. কেএ, ১৭ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *