মঙ্গলবার ৩০, নভেম্বর ২০২১
EN

আইন পড়ুন, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ুন

একজন আইনজীবী এবং তার আইন পেশা বিচার ও প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আইনের ভাষায় একজন আইনজীবীকে ‘অফিসার অফ দ্য কোর্ট’ বলা হয়। রাষ্ট্র ও আদালতের পক্ষে সুসংগঠিত আইন পেশা ব্যতীত কার্যকরভাবে বিচার পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কারণ, আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে কে বা কারা আসামীর পক্ষে বা বিপক্ষে অথবা কোন ঘটনার পক্ষে বা বিপক্ষে আদালতের সামনে পেশাদারিত্বের যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপন করার দায়িত্ব নিবে। সুতরাং এটি যথাযথভাবে বলা যায় যে, একটি সুসংহত রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থাকে সুসজ্জিত করার জন্য আইনজীবীদের ভূমিকা অপরিসীম।

একজন আইনজীবী এবং তার আইন পেশা বিচার ও প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আইনের ভাষায় একজন আইনজীবীকে ‘অফিসার অফ দ্য কোর্ট’ বলা হয়। রাষ্ট্র ও আদালতের পক্ষে সুসংগঠিত আইন পেশা ব্যতীত কার্যকরভাবে বিচার পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কারণ, আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে কে বা কারা আসামীর পক্ষে বা বিপক্ষে অথবা কোন ঘটনার পক্ষে বা বিপক্ষে আদালতের সামনে পেশাদারিত্বের যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপন করার দায়িত্ব নিবে। সুতরাং এটি যথাযথভাবে বলা যায় যে, একটি সুসংহত রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থাকে সুসজ্জিত করার জন্য আইনজীবীদের ভূমিকা অপরিসীম।

বাংলাদেশে আইন পেশার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
১৯৭১ সালে পাকিস্তান হতে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের নিজস্ব সংবিধান গঠন এবং আইনি ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়। আইনি কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র আইন বিভাগ চালু করা হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বর্তমানে বহুসংখ্যক আইনজীবী তৈরি হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে তারা দেশের বিচার বিভাগে তাদের অবদান রেখে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল
স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইন অনুশীলনকারিদের জন্য ১৯৭২ সালে ‘বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল’ আদেশের অধীনে প্রতিষ্ঠিত একটি সংবিধিবদ্ধ ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। এটি ১৯৭২ সালের ৪৬ নং অর্ডার বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে পাশ হয়। সংস্থাটি বাংলাদেশের আইনজীবীদের জন্য সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হিসেবে কাজ করে বলে এটিকে আইনজীবী তৈরীর কারখানাও বলা যেতে পারে।

আইনজীবী হওয়ার উপায়
বার কাউন্সিল অনুচ্ছেদ ২৭(১) অনুযায়ী, অ্যাডভোকেট হওয়ার যোগ্যতাগুলো নিশ্নরূপ:-

(১) বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে;
(২) ন্যূনতম বয়স ২১ বছর হতে হবে (সর্বোচ্চ বয়সের কোনো সীমা নেই);
(৩) আইন বিষয়ে ডিগ্রি থাকতে হবে - বার কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত;
(৪) এ্যাডভোকেট তালিকাভূক্তির পরীক্ষায় পাশ করতে হবে;
(৫) নিবন্ধন ফি দিতে হবে এবং বার কাউন্সিলের অন্যান্য শর্তাবলী পূরণ করতে হবে।

ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন যেখানে
একসময় সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল আইন বিষয়ে পড়াশোনা মানেই ওকালতি করা। কথিত ছিল যে, ‘আইন বিষয়ে পড়বে যে, বটতলার উকিল হবে সে’। কালের পরিক্রমায় মানুষের সেই ধারণার পরিবর্তন এসেছে। আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা গ্রাজুয়েটদের জন্য এখন যোগ হয়েছে নিত্যনতুন মাত্রা ও সম্ভাবনা। দেশের প্রায় সকল সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং আইন কলেজে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় যোগদানের সুযোগ রয়েছে।

আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে আনন্দের সংবাদ হলো- বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী জজ কিংবা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে ‘সরকারের প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা’ হিসেবে আদালতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একমাত্র আইনের শিক্ষার্থীরাই এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে লোভনীয় চাকরি পেতে পারে এবং তাদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় পৃথক বেতন কাঠামো, যা যেকোনো সরকারি প্রথম শ্রেণির পদের দেড়গুণ।

বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডার, নন-ক্যাডার চাকরি ছাড়াও ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে অন্য বিষয়ের স্নাতকদের মতোই আইনের স্নাতকদের রয়েছে সমান সযোগ-সুবিধা।

তবে বিশেষ কিছু পেশা আছে, যেখানে শুধু আইনের ¯œাতকরাই কাজ করার সুযোগ পায়। বার কাউন্সিলের অধীনে এ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষার মাধ্যমে নিম্ন আদালত ও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও পদোন্নতির মাধ্যমে পরবর্তীতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের জাস্টিস হিসেবে নিয়োগ লাভের সুযোগ রয়েছে।

আয়কর বারের অধীনে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আয়কর আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারবে। রয়েছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন: UNHCR, UNDP, WHO, UNICEF, IOM, ILO প্রভৃতিতে চাকরি লাভের সুযোগ। বিভিন্ন বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, বহুজাতিক কোম্পানি ও এনজিওতে আছে আইন কর্মকর্তা বা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে কাজ করার সুযোগ।

কমিশনড অফিসার পদমর্যাদায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীতে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ‘জাজ অ্যাডভোকেট জেনারেল’ হিসেবে যোগ দেওয়া যায়।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘সহকারী সচিব’ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। আদালতে সরকারি আইন কর্মকর্তা বা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি/জিপি) হিসেবে নিয়োগ হয়। বিদেশে ইমিগ্রেশন কেস অফিসার বা ল’ অফিসার হিসেবে কাজ করেন অনেকে। আইনি পরামর্শক বা উপদেষ্টা হিসেবেও ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। এছাড়া আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে কারো গবেষণার প্রতি ঝোঁক থাকলে গবেষক হওয়ারও সুযোগ তো আছেই।

ব্যারিস্টারও হতে পারবেন
ব্যারিস্টার শব্দটি শুনলে অনেকেরই ইচ্ছা হয় ব্যারিস্টার হওয়ার। ব্যারিস্টার হওয়ার জন্য আমাদের দেশে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, যেখানে ইংল্যান্ডের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী আইন পড়ানো হয়ে থাকে। ব্রিটিশ স্কুল অব ল, ভূঁইয়া একাডেমি, নিউ ক্যাসেল ল-একাডেমি, লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজ (এলসিএলএস) প্রভৃতি। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ইংল্যান্ডের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একই সময়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকেন। তাঁদের উত্তরপত্রের মূল্যায়নটাও হয় ইংল্যান্ডে। এসব স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে আইনে অনার্স পাস করার পর ইংল্যান্ডে সরাসরি বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়।

এইচএসসি বা সমমানের ডিগ্রিধারী যে কেউ এসব প্রতিষ্ঠানে তিন-চার বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। সেক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি মিলে তাঁদের জিপিএ-৫ থাকতে হবে। অবশ্য এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ার নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই।

ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন আর ইউনিভার্সিটি অব নর্দামব্রিয়া মূলত এ দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে ব্রিটিশ ডিগ্রি নেয়ার সুযোগ দেয়। তবে ঘরে বসে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় বা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে আইন বিষয়ে অনার্স করা গেলেও নয় মাসের বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্সের জন্য ইংল্যান্ডে যেতেই হবে।’

বার অ্যাট-ল সনদ
বার অ্যাট-ল ইংল্যান্ড বার কাউন্সিলের একটি অত্যন্ত সম্মানজনক সনদ। কোর্সটি ইংল্যান্ডের চারটি ইনস্ (লিংকনস্ ইন, গ্রেইস ইন, ইনার টেম্পল ও মিডল টেম্পল)- এর মধ্যে যেকোনো একটি থেকে সম্পন্ন করতে হয়। সনদ ইন থেকে দেয়া হলেও পড়াশোনাটা কোনো একটি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই করতে হয়।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
আইনশাস্ত্র অনেক বিস্তৃত বিষয়। আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে রয়েছে উচ্চশিক্ষার অবারিত সুযোগ। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রয়েছে এলএলবি, এমফিল ও পিএইচডি করার অবারিত সুযোগ। তাছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইনটেলেকচ্যুয়াল প্রোপার্টি, বিজনেস ল, সমুদ্র আইন, সাইবার ক্রাইম, পরিবেশ আইন ইত্যাদি বিষয়ে এমএস করার সুযোগও রয়েছে।

লেখক: আলমগীর হোসেন (আল-আমিন), মাস্টার্স অধ্যয়নরত, আইন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
alaminmiu72@gmail.com

(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)

এমবি

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *