মঙ্গলবার ২৫, জানুয়ারী ২০২২
EN

আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন ওদের!

সামাজিক প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে প্রতিদিন আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নবোনে ওরা। তথাকথিত সমাজব্যবস্থাকে তোয়াক্কা না করে অন্যান্য ছেলেদের মতই এসব মেয়েরাও এখন স্কুলে আসে সাইকেল চালিয়ে

সামাজিক প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে প্রতিদিন আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নবোনে ওরা। তথাকথিত সমাজব্যবস্থাকে তোয়াক্কা না করে অন্যান্য ছেলেদের মতই এসব মেয়েরাও এখন স্কুলে আসে সাইকেল চালিয়ে।

লুকায়িত স্বপ্নকে সত্যি করার লক্ষ্যে হাজারো সাইকেল বালিকাদের ছুটে চলার দৃশ্য যেন আগামীর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ারই একটি পূর্বাভাস।

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় প্রতিদিন চোখে পড়ে স্কুলগামী এমন সাইকেল বালিকাদের। প্রতিদিন সকাল হতে না হতেই উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামঅঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের রাস্তাগুলোতে হাজারো সাইকেল বালিকারা ছুটে চলে জ্ঞান আহরণে।

দূরন্ত সাইকেল বালিকারা পড়াশোনার কাজসহ অন্যান্য কাজে বাইসাইকেল ব্যবহার করেন। স্থানীয় খোকসা জানিপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীসহ উপজেলার মোট প্রায় ২ হাজার ছাত্রী প্রতিদিন স্কুলে আসে বাইসাইকেল চালিয়ে। সময়, অর্থ ও শ্রম বাঁচানোর পাশাপাশি শারীরিকভাবেও উপকৃত হচ্ছেন এসব স্কুল শিক্ষার্থীরা।

মুক্তভাবে চলাফেরা করায় এসব শিক্ষার্থীরা হয়ে উঠছে প্রতিবাদী ও চিন্তাশীল। আগের মত এখন আর ঘন্টার পর ঘন্টা রিকশা-ভ্যান বা যাতায়াতে অন্য বাহনগুলোর জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। ফলে স্কুল-প্রাইভেটে দেরিও হয় না।

সরেজমিনে শিমুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, এই স্কুলের প্রায় শতাধিক ছাত্রী বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসে।

কারো কারো বাড়ি ৮-১০ কিলোমিটার দূরে। তবে দূরত্ব পড়াশোনাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। দূরত্ব আর অন্ধত্বকে জয় করেছে উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ের ছাত্রীরাই বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুল করে।

এ ছাড়াও শোমসপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শোমসপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খোকসা- জানিপুর মাধ্যমিক স্কুল, মোড়াগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সেনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঈশ্বরদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধোকড়াকোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আমবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আমলাবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জয়ন্তীহাজরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ওসমানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এইচডি আজিজুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই হাজারের অধিক ছাত্রী প্রতিদিন স্কুলে আসে সাইকেলে চেপে।

খোকসা জানিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী শতাব্দী চক্রবতী জানায়, শুধু ছেলেরাই নয় আমাদেরও অধিকার আছে বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসার। আমি ১০/১২ কিলোমিটার দূর থেকে স্কুলে আসি।

আরেক ছাত্রী তৌষি জানায়, আমরা এখন আর ভ্যান-রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে থাকি না। আবার সময়মত স্কুলে আসতেও পারি। তবে যাদের বাইসাইকেল কেনার মত সামর্থ্য নেই, তাদের আক্ষেপও কম নয়। একটি সাইকেলই পারে তাদের সাইকেল চালানোর অধিকার পূরণ করতে।

আক্ষেপের সাথে রুনা খাতুন জানায়, আমি ৮-১০ কিলোমিটার দূর থেকে স্কুলে আসি পায়ে হেঁটে। আমারও ইচ্ছে করে অন্য বান্ধবীর মত বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসতে।

খোকসা জানিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার বানু বলেন, আমার খুব ভাল লাগে যখন দেখি আমাদের মেয়েরা লাইন ধরে স্কুলে আসে।

এ বিষয়ে খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেবেকা খান বলেন, আমাদের সমাজে নারীর প্রতি যে বিরুপ আচরণ ছিল তা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। সেজন্যই তো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নারীদের আজ অবাধ অবস্থান।

মেয়েরা যে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসছে এটা কিন্তু দেশের জন্য একটি দারুণ সংবাদ। তবে যাদের সাইকেল কেনার মত সামর্থ্য নেই তাদেরকে আমি সাইকেলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো।

মুক্ত স্বাধীনতায় ছুটে বেড়ানো এসব সাইকেল বালিকাদের মতই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ, যার ইঙ্গিত আজকের এই স্বপ্নময়ী বালিকাদের সাইকেলে ভেসে চলা।

এসএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *