রবিবার ২৭, নভেম্বর ২০২২
EN

আজাদ মরেও বিহারীদের আজাদ করতে পারলো না

আজাদ ছিল সহজ-সরল, অবলা। কারো লগে কোনো বিতণ্ডায় জড়ায় নাই। ঘটনার দিন ভোরে গুলাগুলির শব্দ আর চিক্কারে ঘর থেকে বাইরে আইসাই লাশ হয় আজাদ। আজাদ মরেও আমাগো আজাদ করতে পারে নি। গেছে আসামী কইরা।

আজাদ ছিল সহজ-সরল, অবলা। কারো লগে কোনো বিতণ্ডায় জড়ায় নাই। ঘটনার দিন ভোরে গুলাগুলির শব্দ আর চিক্কারে ঘর থেকে বাইরে আইসাই লাশ হয় আজাদ। আজাদ মরেও আমাগো আজাদ করতে পারে নি। গেছে আসামী কইরা।

কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর মিরপুর পল্লবী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত বিহারী আজাদের মা সায়িদা আক্তার।
মঙ্গলবার বিহারী ক্যাম্পের ভিতরে নিজ বাসায় কথা হয় মা সায়িদা আক্তারের সাথে। এসময় টাইমনিউজবিডি'র কাছে এসব কথা বলেন তিনি।

১৪ জুন ভোরে সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ যুবলীগের লোকজন ও পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন আজাদ (৩৫)। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজাদকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আজাদের মা টাইমনিউজবিডি'কে বলেন, "পুলিশ ও বাইরে থেকে আসা লোকজন আমার পোলা আজাদ'রে মাইরা ফালাইছে। কোনো দোষ ছিল না ওর। অন্যের লাশ দেখতে গিয়ে নিজে লাশ হয়েছে আজাদ।"

তিনি বলেন, "আজাদ হত্যার বিচার কার কাছে চামু। কে করবে বিচার? যারা বাঁচাইবো হেরাই তো ব্যাবাক গুলি চালাইয়া মাইরা ফেললো আমার পোলারে।

তিনি বলেন, "আজাদ মইরাও আমাগো বাঁচাইবার পারে নাই। যারা আমার পোলারে মাইরা ফালাইলো হেরাই উল্টো আমাগোর বিরুদ্ধে মামলা দিছে। তাহলে বিচার করবো কেডা?" একথা বলে বারবার ডুকরে কেঁদে উঠেন মা সায়িদা আক্তার।
তিনি বলেন, "আজাদ হাতের কাজ জানতো। বেনারসি শাড়ির উপর হাতের কাজ করেই পরিবার চালাতো। আজাদের বউ দুই বাচ্চা লইয়া আমি এহন কি করমু। কার কাছে যামু। কে আমাগো খাওয়াইবো। দিশা পাইতাছিনা।"

নিহত বোন রোজিনা আক্তার বলেন, "এলাকার এমপি ইলিয়াস মোল্লা জি এমনে কাওয়ালী অনুষ্ঠান হলে, মিলাদ হলেও আমাগো এলাকায় আসতেন খাইতেন ঘুইরা যাইতেন। অথচ আমার ভাইসহ এতোগুলা মানুষ মররো মোল্লা এমপি একবারও দেখা করতে আসে নি।

তিনি বলেন, মোল্লা এমপি'ই বলতে পারবে কারা আমার ভাইকে মাইরা ফালাইছে। কেউ বিচার না করলে বিচার আল্লাহ'য় করবে।"

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে নিথর হয়ে পড়ে আছেন আজাদের বাবা আব্দুস সাত্তার (৭২)। সন্তানের মৃত্যু সংবাদ শোনার পর থেকেই খাওয়া চলা বন্ধ। ক্যাম্পের অন্ধকার ঝুপড়ি ঘরে নিথর পড়ে আছেন তিনি। কথাও বলছেন না কারো সাথে। শারীরিক অবস্থার কতা জিজ্ঞাসা করা হলে আব্দুস সাত্তার চেয়ে থাকেন মুখের দিকে ভাবলেশহীনভাবে দৃষ্টিতে।

স্ত্রী সুলতানা এবং দুই ছেলে সাগর(৮) ও সোহাগ(৫)কে নিয়ে কালশী-বিমানবন্দর নতুন রাস্তার পূর্ব পাশের বস্তিতে বসবাস করতেন আজাদ। সে বেনারসী শাড়ি পল্লীতে হাতের কাজ করতেন। রাস্তার পশ্চিম পাশে বিহারী ক্যাম্পে থাকতেন তার মা-বাবা ও ভাই-বোনসহ অন্যান্যরা।

ঘটনার দিন শনিবার ভোরে গোলাগুলির শুরুর আগে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসেন আজাদ। বেড়িয়েই পড়েন বিহারীদের সাথে বহিরাগত ও পুলিশের সংঘর্ষের মাঝে। সেখানে পুলিশের গুলিতে ঝাঝরা হয় আজাদ (৩৫)। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা,জেইউ,১৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) //এসএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *