শুক্রবার ৩, ডিসেম্বর ২০২১
EN

আদালত অবমাননার সীমাবদ্ধতা

ইকতেদার আহমেদ: আদালত অবমাননা তিন ধরনের। এর একটি আদালতের অভ্যন্তরে বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকাবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর উক্তি বা আদালতের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি। আর অপর দু’টির একটি হলো আদালতের আদেশ অমান্য এবং অপরটি হলো আদালতের বাইরে কোনো সভা বা সমাবেশ অথবা পত্রিকায় প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদন বা নিবন্ধে আদালত বা বিচারক বা আদালত কর্তৃক ঘোষিত বা চলমান কোনো মামলার রায় বা মামলা বিষয়ে অবমাননাকর উক্তি।

ইকতেদার আহমেদ: আদালত অবমাননা তিন ধরনের। এর একটি আদালতের অভ্যন্তরে বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকাবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর উক্তি বা আদালতের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি। আর অপর দু’টির একটি হলো আদালতের আদেশ অমান্য এবং অপরটি হলো আদালতের বাইরে কোনো সভা বা সমাবেশ অথবা পত্রিকায় প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদন বা নিবন্ধে আদালত বা বিচারক বা আদালত কর্তৃক ঘোষিত বা চলমান কোনো মামলার রায় বা মামলা বিষয়ে অবমাননাকর উক্তি।

প্রথমোক্ত আদালত অবমাননা দণ্ডবিধির ২২৮ ধারার অধীন দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এ ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ অধ্যায়ের বিধি-বিধান সাপেক্ষে যে আদালতের সম্মুখে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে উক্ত আদালত তাৎক্ষণিক বিচারের মাধ্যমে উক্ত দিনের বিচার কার্য সমাপ্তির পূর্বে অনধিক ২০০ (দইশত) টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে একমাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন বা ক্ষেত্র বিশেষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত অবমাননাকারীকে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ পূর্বক অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন। শেষোক্ত দু’টি আদালত অবমাননা বিষয়ে বলা হয় আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬ এর ৩ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য এবং এ ক্ষেত্রে অবমাননাকারীকে আদালত অনধিক ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দুই হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত ছিল।

আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬ আদালত অবমাননা বিষয়ে হাইকোর্টের দণ্ড প্রদানের ক্ষমতার সীমারেখা নির্ধারণকল্পে আমাদের বর্তমান বাংলাদেশ পাক-ভারত উপমহাদেশের অংশ হিসেবে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনাধীন থাকাবস্থায় ওই সালে প্রণীত হয়। এ আইনটিতে আদালত অবমাননার দণ্ডের উল্লেখ থাকলেও আদালত অবমাননার ব্যাখ্যা দেয়া না থাকায় এ সীমারেখার ব্যাপ্তি প্রায়ই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।

ভারত ও পাকিস্তান এ দুটি দেশ যারা আমাদের মতো আদালত অবমাননা আইনটি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছিল, এ প্রশ্নটি সুরাহাকল্পে যথাক্রমে ১৯৭১ ও ১৯৭৪ সালে নতুন আদালত অবমাননা আইন প্রণয়ত করে পূর্বের আইন বাতিলের মাধ্যমে আদালত অবমাননার সংজ্ঞা নির্ধারণ করে সীমারেখার ব্যাপ্তি সংক্রান্ত বিতর্ক অবসানের প্রয়াস নিয়েছে।

বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সর্বত্র সমাজ গতিশীল। গতিশীল সমাজে আইন স্থবির হলে সে আইন সময় ও যুগের চাহিদা মেটাতে পারে না। তাই সময় ও যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে আইনের পরিবর্তনও অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। কখনো কখনো পূর্বের আইন বাতিলের মাধ্যমে নতুন আইন প্রণয়ন করে আইনকে যুগোপযোগী করা হয়। আবার কখনো দেখা যায় কোনো আইনের এক বা একাধিক ধারা সংযোজন, বিয়োজন বা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে আইনকে যুগোপযোগী করা হয়।

পৃথিবীর সব সভ্য, উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আদালত অবমাননা সংজ্ঞায়িত হওয়ায় বিগত কয়েক দশক ধরে আদালতের রায় ও বিচারকদের বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিবন্ধ প্রকাশ এবং আলোচনা লেখক, প্রকাশক ও আলোচক কারো জন্য কোনো ধরনের হয়রানির কারণ হয়ে দেখা দেয়নি। আমাদের আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬ কে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ২০০৮ সালে আদালত অবমাননা অধ্যাদেশ এবং ২০১৩ সালে আদালত অবমাননা আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। অধ্যাদেশ ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আদালত অবমাননার সীমারেখার ব্যাপ্তি নির্ধারণের প্রয়াস নেয়া হয়েছিল। অধ্যাদেশ ও আইন উভয়ই অনেকটা সমরূপ বিধান সম্বলিত ছিল। অধ্যাদেশ ও আইনটির বৈধতা বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়েরের মাধ্যমে আপত্তি উত্থাপিত হলে শুনানির পর হাইকোর্ট বিভাগ অধ্যাদেশ ও আইন উভয়টিকে অবৈধ ঘোষণা করে।

আমাদের সংবিধানের ১০৮ ধারায় সুপ্রিম কোর্টকে ‘কোর্ট অব রেকর্ড’ উল্লেখ পূর্বক এর অবমাননার জন্য তদন্তের আদেশ দান বা দণ্ডাদেশ দানের ক্ষমতাসহ আইনসাপেক্ষে অনুরূপ আদালতের সব ক্ষমতার অধিকারী করেছে। সংবিধানের ১০৮ ধারা অবলোকনে প্রতীয়মান হয় আদালতের বাইরে সংঘটিত যেকোনো ধরণের আদালত অবমাননা বিষয়ে আদালত অবমাননা সংক্রান্ত আইন কার্যকর থাকার আবশ্যকতা রয়েছে।

২০১৩ সালে আদালত অবমাননা আইন প্রণয়নকালে উক্ত আইনের ২০ ধারা বলে আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬ রহিত করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আদালত অবমাননা আইন, ২০১৩ এর ৮টি ধারা বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন পূর্বক ধারাসমূহের বাতিল চাওয়া হলেও শুনানির পর হাইকোর্ট বিভাগ সম্পূর্ণ আইনটি বাতিল করে দেয়। সম্পূর্ণ আইনটি বাতিল করার কারণে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বর্তমানে কোনো আদালত অবমাননা আইন কার্যকর আছে কিনা? এ বিষয়ে অধিকাংশ আইনজ্ঞের মতামত আদালত অবমাননা আইন, ২০১৩ বাতিল ঘোষণার সময় আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬ অস্তিত্ববিহীন থাকায় একটি অস্তিত্বহীন আইনকে কার্যকর বলার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে তারা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায়ে একটি বাতিল বিধানকে বৈধতা বা সিদ্ধতা দান বিষয়ে যে আলোচনা করা হয়েছে তার প্রতি আলোকপাত করেন।

ওই আলোচনার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে প্রতীয়মান হয় পঞ্চম সংশোধনী রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের ৯৫নং অনুচ্ছেদে Second Proclamation Order No IV, 1976-এর মাধ্যমে যেভাবে সংশোধন করা হয় তা বৈধ ঘোষণা করে এবং সেভাবে থাকবে মর্মে অভিমত ব্যক্ত করে। এ বিষয়ে আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয় Second Proclamation (Seventh Amendment) Order, 1976 দ্বারা অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সংবিধানের ৯৫নং অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ব্যাপারে পরিবর্তন করা হয়। ৯৫নং অনুচ্ছেদের এ সংশোধনী মূল ৯৫নং অনুচ্ছেদের সহব্যাপী যা চতুর্থ সংশোধনী পূর্ববর্তী বলবৎ ছিল যেখানে রাষ্ট্রপ্রতি কর্তৃক প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে বিচারক নিয়োগের বিধান ছিল। কিন্তু Second Proclamation (Seventh Amendment) Order, 1976 দ্বারা প্রবর্তিত এ পরামর্শমূলক বিধান ঝবপড়হফ Second Proclamation (Tenth Amendment) Order, 1977 দ্বারা সংশোধিত ৯৫নং অনুচ্ছেদ সংশোধনের পর Second Proclamation Order, IV of 1976 দ্বারা সংশোধিত ৯৫ নং অনুচ্ছেদকে বৈধভাবে হাইকোর্ট বিভাগ মার্জনা করতে পারেনা যেহেতু ৫ম সংশোধনী পাস হওয়ার দিন তা কার্যকর ছিল না। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের উপরোক্ত অবস্থান দ্বারা এটি স্বীকৃত যে, একটি আইন বাতিলের কারণে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়লে সে আইনটিকে আপনা-আপনিভাবে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।

এখন দেখা যাক আদালত অবমাননা আইন, ২০১৩ এর যে ৮টি ধারা বাতিল চেয়ে আপত্তি উত্থাপনের কারণে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক রুল জারি করা হয় উক্ত ধারাসমূহে কী বলা হয়েছিল। ধারাসমূহ অবলোকনপূর্বক দেখা যায়- ৪নং ধারায় বলা হয়েছিল, নির্দোষ প্রকাশনা বা বিতরণ অবমাননা নয়। ৫নং ধারায় বলা হয়েছিল, পক্ষপাতহীন ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ আদালত অবমাননা নয়। ৬নং ধারায় বলা হয়েছিল, কোনো ব্যক্তি অধস্তন আদালতের বিচারক সম্পর্কে কোনো বিবৃতি বা মন্তব্য করলে তা আদালত অবমাননা হবে না। ৭নং ধারায় বলা হয়েছিল, কতিপয় ক্ষেত্র ব্যতীত খাস কামরায় বা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত বিচারিক কার্যধারা সম্পর্কে পক্ষপাতহীন ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশ আদালত অবমাননা নয়। ৯নং ধারায় বলা হয়েছিল, এ আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য নয় এরূপ কোনো লঙ্ঘন, প্রকাশনা বা অন্য কোনো কার্য এ আইনের পরিধিভুক্ত গণ্যে আদালত অবমাননার দায়ে শাস্তিযোগ্য হবে না। ১০, ১১ ও ১৩(২)নং ধারায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা প্রসঙ্গে বলা হয়েছিল, কোনো কর্মকর্তা রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন, বিধিমালা, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে কোনো পরিপত্র, প্রজ্ঞাপন বা স্মারক জারি করলে বা আদালতের কোনো রায় আদেশ বা নির্দেশ যথাযথ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন বা প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলা যাবে না।

প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত আদালত অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি আইনজীবী নিয়োগসহ আদালত অবমাননা মামলা পরিচালনার জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ সরকারি খাত থেকে অগ্রিম গ্রহণ করতে পারবেন এবং ওই ব্যক্তি আদালত অবমাননার অভিযোগ হতে অব্যাহতি লাভ করলে অগ্রিম হিসেবে গৃহিত অর্থ সরকারকে ফেরত প্রদান করতে হবে না। তবে শর্ত দেয়া হয়েছিল যে, ঐ ব্যক্তি আদালত অবমানার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ও দণ্ড প্রাপ্ত হলে তাকে অগ্রিম হিসেবে গৃহীত সমুদয় অর্থ ফেরত প্রদান করতে হবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কার্য বা দায়িত্ব পালনকালে আদালত অবমাননার মামলায় জড়িত থাকাবস্থায় প্রজাতন্ত্রের কর্ম হতে অপসারিত, অবসরপ্রাপ্ত বা অন্য কোনোভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মে তার স্থায়ীভাবে কর্ম অবসান হলে আদালত ওই ব্যক্তিকে আদালত অবমাননার দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করতে পারবে। এ ছাড়া আরো বলা হয়েছিল, আদালত অবমাননার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত কেউ আপিলে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলে আদালত তার দণ্ড মওকুফ বা হ্রাস করতে পারবে।

রিট মামলাটির রায় প্রদানকালে হাইকোর্ট বিভাগ অভিমত ব্যক্ত করে যে, যেকোনো আইনেই দেশের সব নাগরিককে সমান অধিকার দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু আদালত অবমাননা আইন, ২০১৩ তে সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিক এ দুটি বিশেষ শ্রেণীকে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক। আইনটিতে আদালতের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে, যা সংবিধানের ২৭, ১০৮ ও ১১২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।

সংবিধানে যদিও সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে অন্য কোনো আইন যদি সংবিধানের সাথে অসমঞ্জস্য হয় তাহলে, সে আইনের যতখানি অসমঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে কিন্তু কোন্ আদালত কর্তৃক সে আইন বাতিল হবে সে বিষয়ে সংবিধান নিশ্চুপ। যদিও মৌলিক অধিকার বলবৎ করবার জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হয়েছে কিন্তু একজন ব্যক্তির বেআইনি কার্য সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনকে আকৃষ্ট করে কিনা সে বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেই সম্ভবত বঙ্গবন্ধু সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে ৪৪নং অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন পূর্বক তৃতীয় ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করবার জন্য আইনের দ্বারা সংসদ কর্তৃক একটি সাংবিধানিক আদালত, ট্রাইব্যুনাল অথবা কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান করেছিলেন।

কিন্তু পঞ্চম সংশোধনী দ্বারা সে বিধানটি রহিত করে এ বিষয়ে ৭২’র সংবিধানে বর্ণিত ৪৪নং অনুচ্ছেদের বিধান পুনঃপ্রবর্তিত হলেও পরে এ বিষয়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত রায়ে কোনো ধরনের আলোকপাত করা হয়নি। তাছাড়া এ বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন যে, উচ্চাদালতের একজন বিচারক শপথগ্রহণের সময় ব্যক্ত করেন যে, তিনি সংবিধান ও আইনের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করবেন। তাই একজন বিচারক শপথগ্রহণ করাকালীন সংবিধান বা আইনের যে বিধান কার্যকর ছিল সে বিধান উক্ত বিচারক কর্তৃক বাতিলের সুযোগ আছে কিনা সে প্রশ্নটি এসে যায়।

আদালত অবমাননা আইন বাতিল পরবর্তী সরকার পক্ষ সংক্ষুব্ধ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করেছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা দেশের সর্বোচ্চ আদালত হতে এমন সিদ্ধান্ত আসুক যা আদালত অবমাননার বেড়াজালে বস্তুনিষ্ঠ, নির্দোষ, পক্ষপাতহীন ও আইনি বিশ্লেষণধর্মী প্রকাশনায় অন্তরায় না হয়ে দাঁড়ায়।

লেখক: সাবেক জজ ও সাবেক রেজিস্ট্রার, সুপ্রিম কোর্ট
E-mail: iktederahmed@yahoo.com

(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)

এমবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *