বুধবার ৭, ডিসেম্বর ২০২২
EN

আদালতে তারেক সাঈদের জবানবন্দি

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় তারেক মোহাম্মদ সাঈদ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় চাকুরীচ্যুত র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক অবসরে পাঠানো সেনাবাহিনীর লে. কর্ণেল তারেক সাঈদকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন। আদালতের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই জবানবন্দি দিচ্ছেন বলে জানায় ওই সূত্র।

এর আগে সাঈদের ৬ দফায় ৩২ দিনের রিমান্ড শেষ হয় মঙ্গলবার।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন কমকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সকাল ৯টায় তারেক সাঈদকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়েছে। তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে রাজী হয়েছেন। এর মধ্যে ৩২ দিনের রিমান্ডে সে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের খাসখামরায় তারেক সাঈদকে নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে তারেক সাঈদের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়ায় আরিফ হোসেন ও এম এম রানা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তারা জবানবন্দীতে সাত খুনের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। ৩০ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দু’টি করে বস্তায় বেঁধে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

কে এই তারেক সাঈদ মাহমুদ

র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক হিসেবে নারায়ণগঞ্জে কর্মরত ছিলেন লেফটেনেন্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ। ছয় কোটি টাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জে প্যানেল মেয়র নজরুলসহ সাতজনকে হত্যার সাথে সম্পৃত্ততার অভিযোগে গত মে মাসেই তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

লেফটেনেন্ট কর্নেল তারেক সাঈদ বড় হয়েছেন সেনা পরিবারে। বাবা কর্নেল মুজিব সেনাবাহিনীর ইঞ্জিয়ারিং কোরে থাকা অবস্থায় অবসরে যান।

তারেকের মায়ের নাম দেলোয়ারা বেগম। মুজিব-দেলোয়ারা পরিবারে তারেকরা চার ভাই স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। বড়ভাই খালেদ সুমন পেশায় চিকিৎসক, তারেক লেফটেনেন্ট কর্নেল, টুটুল মুসা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লেফটেনেন্ট কমান্ডার এবং সবার ছোট ওমর ডানিডার (ডেনিস ডেভেলপমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি) ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত।

তারেক কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ এবং টুটুল-ওমর মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করেন।তারেক বিয়ে করেছেন ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মেয়েকে।

র‌্যাব-১১ এর কমান্ডার হিসেবে লেফটেনেন্ট কর্নেল তারেক সাঈদের আওতাধীন এলাকা ঢাকা (নবাবগঞ্জ এবং দোহার থানা ), নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষীপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

ঢাকা,১৮ জুন(টাইমনিউজবিডি.কম)//এএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *