মঙ্গলবার ৪, অক্টোবর ২০২২
EN

আন্দোলন থামাতে এবার ইরানের সামরিক বাহিনীর হুমকি

পুলিশ হেফাজতে তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তা টানা ৭ দিনেও প্রশমিত না হওয়ায় এবার ইরানের আন্দোলনকারীদের হুমকি দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে সামারিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘গত সাত দিন ধরে দেশে যে উন্মত্ততা চলছে — তা দেশের ইসলামিক শাসন ব্যবস্থাকে নস্যাৎ করার অশুভ চক্রান্তের অংশ।’

‘যদি অবিলম্বের এই বিক্ষোভ বন্ধ না হয়, সেক্ষেত্রে শত্রুদের মোকাবিলা করতে মাঠে নামতে বাধ্য হবে সেনা সদস্যরা।’

ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের তেজ কমাতে দেশটির সরকারপন্থীরাও আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার থেকে তাদের আন্দোলন শুরু হওয়ার কথা।

 মাথায় হিজাব না থাকায় ইরানের নৈতিকতা পুলিশের হাতে (মর‌্যালিটি পুলিশ) গ্রেপ্তার, হেফাজতে থাকা অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হওয়া এবং পরে হাসপাতালে মারা যাওয়া তরুণী মাশা আমিনির (২২) মৃত্যুতে ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। শুক্রবার বিক্ষোভের সপ্তম দিন চলছে।

গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার রাজধানী তেহরানে ইরানের নৈতিকতা পুলিশের হাতে গেপ্তার হন মাশা আমিনি। গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার মৃত্যু হয় মাশার।

ইরানের স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী পড়াশোনা সূত্রে ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশে থাকতেন মাশা, গত সপ্তাহে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে তেহরান এসেছিলেন।

তার মৃত্যুর খবর প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল কুর্দিস্তানে। পরে দ্রুততার সঙ্গে অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে সেই বিক্ষোভ।

ইরানের মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৩০টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ; এবং গত সাত দিনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩১ জন।

শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশন জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ইরানে জনপরিসরে নারীদের বাধ্যতামূলক হিজাব পরাসহ কঠোর পর্দাবিধি রয়েছে। এই বিধিগুলো কার্যকর হচ্ছে কি না, তা তদারক করে দেশটির নৈতিকতা পুলিশ।

এর আগে ২০১৯ সালে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল ইরানে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তারপর এত বড় বিক্ষোভ দেশটিতে আর হয়নি দেশটিতে।

এমআই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *