বুধবার ১, ফেব্রুয়ারি ২০২৩
EN

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র দমনপীড়নের প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিম এশীয় দেশটির ওপর চাপ বাড়াতে সোমবার তারা এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ছিল ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) ও বিক্ষোভ দমনের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ কর্মকর্তারা।

তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আইআরজিসি কোঅপারেটিভ ফাউন্ডেশন ও এর পরিচালনা পর্ষদের ৫ সদস্যের ওপর; ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী নাসের রাশেদি এবং আইআরজিসির ৪ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও তাদের কালো তালিকায় ঢুকেছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর বর্বরতা চালানোর বেশিরভাগ অর্থ আসা আইআরজিসির একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্তম্ভকে লক্ষ্য করেই তারা এবারের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তালিকায় এর সঙ্গে জাতীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ে দমনপীড়নে সমন্বয় করা ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও স্থান পেয়েছে।

ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্ক এমনিতেই ভালো না, সেপ্টেম্বরে নীতি পুলিশ হেফাজতে কুর্দি নারী মাশা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতা দমনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির সরকারি বাহিনীগুলো যে ভয়াবহ দমনপীড়ন চালিয়েছে, তার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কের ফাটল আরও চওড়া করেছে।

মাশা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরান যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেখছে, তাকে ১৯৭৯ সালে ইসলামে বিপ্লবের পর দেশটির শাসকগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলা হচ্ছে। তেহরান এ অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীকে দুষছে।

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আইআরজিসি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দমনপীড়ন চালিয়েই যাচ্ছে এবং এরা মানবাধিকারের বিস্তৃত লংঘনের মাধ্যমে বিক্ষোভ দমানোর ক্ষেত্রে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের শিয়া মোল্লাতন্ত্রের সুরক্ষায় এই আইআরজিসি গঠিত হয়েছিল; বাহিনীটিতে এখন সেনা, নৌ ও বিমান ইউনিট মিলিয়ে আনুমানিক এক লাখ ২৫ হাজারের মতো সদস্য আছে বলে মনে করা হয়।

আইআরজিসি ধর্মীয় মিলিশিয়া বাহিনী বাসিজেরও নেতৃত্বে আছে, যে বাহিনীটিকে প্রায়ই দমনপীড়নের কাজে ব্যবহার করা হয়।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, আইআরজিসির বিনিয়োগ ও ইরানের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এর উপস্থিতি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কোঅপারেটিভ ফাউন্ডেশন আইআরজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরই বানানো প্রতিষ্ঠান।

এটি ‘দুর্নীতি ও লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে’ এবং এর অর্থে আইআরজিসি বিদেশে নানান কর্মকাণ্ড করে বেড়ায় বলেও অভিযোগ মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের।

“যতদিন ইরানের শাসকরা সহিংসতা, নামকাওয়াস্তে বিচার, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডসহ নানান উপায়ে জনগণকে দমিয়ে রাখতে থাকবে ততদিন তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে আমরা এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবো,” বিবৃতিতে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসবাদ ও আর্থিক গোয়েন্দা তথ্যের আন্ডার সেক্রেটারি ব্রায়ান নেলসন।

এইচএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *