মঙ্গলবার ৭, ডিসেম্বর ২০২১
EN

ইংলিশদের বিপক্ষে প্রথম দেখা স্মরণীয় করে রাখতে চায় বাংলাদেশ

আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। আবুধাবির শেখ যায়েদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-২০ ম্যাচ খেলার কোনো অভিজ্ঞতা নেই।

আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। আবুধাবির শেখ যায়েদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-২০ ম্যাচ খেলার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে এই প্রথম ইংলিশদের মুখোমুখি হবে মাহমুদুল্লাহ বাহিনী। এই বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল তাদের। কিন্তু আইপিএলে তাদের ক্রিকেটাররা খেলবে বলে সফরটা আটকে দেয় ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। অবশ্য বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডকে দু’বার হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে টাইগারদের। ওয়ানডেতে ২০১১ বিশ্বকাপে ২ উইকেটে ও ২০১৫ বিশ্বকাপে ১৫ রানে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

২০১৫ বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে ইংলিশ দলকে বিদায় করে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। যদিও পরের বিশ্বকাপে ২০১৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে কার্ডিফে অসহায় আত্মসমর্পণ টাইগারদের।

বাছাই পর্বের বৈতরণী পার হয়ে আসা দলটির সামনে শ্রীলঙ্কা দুঃস্বপ্নের পর এবার আরো কঠিন পরীক্ষা। হারের ধকল কাটানোর চেষ্টারত জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকা বাংলাদেশ দলকে তাই স্বচক্ষে দেখার উপায় ছিল না। তবে দলের প্রতিনিধি হয়ে পড়ন্ত বিকেলে ভিডিও বার্তায় নাঈম শেখ জানিয়েছেন, আশাহত নয় টাইগার শিবির। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিন বিভাগেই ভালো করতে হবে বাংলাদেশকে। আগামীকাল (আজ) সুপার-১২ পর্বে আমরা দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলব। সবাই কষ্ট, হতাশা ঝেড়ে ফেলে ইংল্যান্ডকে হারানোর জন্যই মাঠে নামব।

তবে বাংলাদেশ দলের ইংল্যান্ড বধের পরিকল্পনা যে অনেকটাই কন্ডিশননির্ভর, সেটিও বোঝা গেল গিবসনের কথায়। বিশাল বাউন্ডারির আবুধাবির উইকেট যদি স্পিনসহায়ক হয়, সে ক্ষেত্রে ইংলিশদের চেপে ধরার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশ দলের। গিবসন জানান, ‘যদি কন্ডিশন আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে সাহায্য না করে, তখন ব্যাটসম্যানরা উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওরা ৫৫ রান তাড়া করতে নেমে ৪ উইকেট হারিয়েছে। মঈন রান আউট হয়েছিলেন। কিন্তু বাকি ব্যাটসম্যানরা আগ্রাসী খেলাটা খেলতে গিয়ে আউট হয়েছিল। আমরা যদি আমাদের দিনে ভালো খেলি, তাহলে ওরাই আমাদের জেতার বা ম্যাচে কিছু একটা করার সুযোগ করে দেবে। আমরা যদি ওই সুযোগগুলো নিই, তাহলে ফল আমাদের পক্ষে আসবে।’

ওয়ানডে, টেস্টে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু মজার বিষয় ক্রিকেটের খুদে সংস্করণে ইংলিশদের বিপক্ষে কখনোই খেলেনি টাইগাররা! দৃশ্যত তাই ‘অচেনা’ ইংল্যান্ডের জন্যই প্রস্তুত হচ্ছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দল। অন্তত টি-২০ তে ইংল্যান্ড ‘নতুন’ প্রতিপক্ষই সাকিব-মুস্তাফিজদের জন্য এবং প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ায় আজকের ম্যাচটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ।

ইংল্যান্ড বড় প্রতিপক্ষ হলেও কাল বাংলাদেশ জয়ের জন্যই খেলবে। মুশফিকুর রহীম বলেছিলেন, ‘এটা সত্যি খারাপ লাগে যে ভালো খেলে হারলে সেই ভালো খেলার কোনো মানে নেই। তবে আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে, এই ফরম্যাটে বড় দল বা ছোট দল বলে কিছু নেই। সামনে একইভাবে আমরা এগোতে চাই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা জয়ের জন্যই খেলব।’
লঙ্কানদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৬২ রান করা নাঈম শেখ জানান, কন্ডিশনে মানিয়ে নিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে চায় বাংলাদেশ। আমরা আগের ম্যাচে একটা ভুলের কারণে জিততে পারিনি। ইনশাআল্লাহ আমাদের ফোকাস থাকবে সামনের ম্যাচগুলোতে যেন তিনটা ডিপার্টমেন্টে ভালো করতে পারি।’

নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড ছয় উইকেটে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। তাই বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট ইংল্যান্ডকে হারাতে হলে সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ রাউন্ড ওয়ানে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু করেছিল। এরপর ওমান-পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে নিশ্চিত করে সুপার টুয়েলভ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু হয় বিশ্বকাপের মূল লড়াই। এবার সামনে ইংল্যান্ড। তাদের বিপক্ষে লড়াইটা খুব সহজ হবে না। গিবসনের ভাষায় ‘ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ খুব শক্ত। ওদের চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে।’

ওমানের বিপক্ষে চার উইকেট নিলেও ছন্দে নেই মোস্তাফিজুর রহমান। তারপরও এই বাঁহাতি পেসারের ওপর ভরসা রেখেছেন পেস বোলিং কোচ। তাকে দিয়েছেন কার্যকরি পরামর্শ। গিবসন বলেন, ‘সে যেকোনো কন্ডিশনেই আমাদের মূল বোলার। তার কাটারগুলো বাংলাদেশে খুব কার্যকরী ঠিকই, তবে সে দ্রুত কন্ডিশনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। নতুন, পুরনো দুই বলেই সে আমাদের অস্ত্র।’

ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগান বাংলাদেশের সাথে লড়াই করতে প্রস্তুত। তার কথায়, ‘বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের খাটো করে দেখা কিংবা হালকা করে দেখার কোনো উপায় নেই। একটা কঠিন ও জমজমাট লড়াই হবে আশা করছি। আমাদের বাড়তি কোনো অনুশীলন করা হয়নি। আমরা নিজেদের দিকেই ফোকাস দিচ্ছি। সবকিছুতেই অর্থাৎ তিন বিভাগেই সেরাটা দেয়ার জন্য প্রস্তুত। আতঙ্কের কিছু নেই। আমরা জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।’

 এবিএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *