শুক্রবার ৩, ডিসেম্বর ২০২১
EN

এফআর টাওয়ারে নকশা জালিয়াতি : ১৬ জনের বিচার শুরু

রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতির আরেক মামলায় রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ সৈয়দ কামাল হোসেন এই আদেশ দেন।

রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতির আরেক মামলায় রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ সৈয়দ কামাল হোসেন এই আদেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায়  তত্ত্বাবধায়ক মো. মোফাজ্জেল হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল বাকীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, বিচারক আগামী ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

আইনজীবী মাহমুদ হোসেন বলেন, আজ বিচারক ১৬ আসামিকে দোষী কিংবা নির্দোষ প্রশ্ন করলে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

বিচার শুরু হওয়া ১৬ আসামি হলেন এফআর টাওয়ারের মালিক সৈয়দ মো. হোসাইন ইমাম ফারুক (এস এম এইচ আই ফারুক), রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, এফআর টাওয়ার ওনার্স সোসাইটির সভাপতি ও কাসেম ড্রাইসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাসভীর-উল-ইসলাম, রাজউকের সাবেক পরিচালক মো. শামসুল আলম, সহকারী পরিচালক শাহ মো. সদরুল আলম, সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক জাহানারা বেগম, সহকারী পরিচালক মেহেদউজ্জামান, রাজউকের উচ্চমান সহকারী মো. সাইফুল আলম, ইমারত পরিদর্শক (নকশা জমা গ্রহণকারী) ইমরুল কবির, ইমারত পরিদর্শক মো. শওকত আলী, উচ্চমান সহকারী মো. শফিউল্লাহ, সাবেক অথরাইজড অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম, নিম্নমান সহকারী মুহাম্মদ মজিবুর রহমান মোল্লা, অফিস সহকারী মো. এনামুল হক ও শওকত আলী।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৫ জুন দুদকের উপপরিচালক মো. আবুবকর সিদ্দিক ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে তিনিই মামলার তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে ২০২০ সালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে রাজউকের ভুয়া ছাড়পত্রের মাধ্যমে এফআর টাওয়ারকে ১৯ তলা থেকে বাড়িয়ে ২৩ তলা করা, উপরের ফ্লোরগুলো বন্ধক দেওয়া ও বিক্রি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর এফআর টাওয়ারকে ১৫ তলা পর্যন্ত নির্মাণে ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন এবং নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮ তলা পর্যন্ত বাড়ানোর আরেক মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুদক। সে মামলায়ও গত ১৮ অক্টোবর একই আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

২০১৯ সালের ২৮ মার্চ এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ভবনটির কয়েকটি ফ্লোর পুড়ে যায়। ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে এবং আগুনে পুড়ে নিহত হন অন্তত ২৬ জন। এছাড়া শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

এমআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *