সোমবার ২৭, জুন ২০২২
EN

এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ পেছাল

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় আদালতে বাদীপক্ষের সাক্ষীরা উপস্থিত না হওয়ায় সাক্ষ্য গ্রহণ পিছিয়ে আগামী ২৭ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় আদালতে বাদীপক্ষের সাক্ষীরা উপস্থিত না হওয়ায় সাক্ষ্য গ্রহণ পিছিয়ে আগামী ২৭ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

আজ (২৪ জানুয়ারি) রোববার বেলা ১১টার দিকে আট আসামি আদালতে উপস্থিতিতে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো: মোহিতুল হকের আদালতে এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি রাশিদা সাঈদা খানম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বাদীপক্ষের আইনজীবী সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ছিনতাই মামলা এক‌ই আদালতে একসাথে বিচার কাজ শুরু করার আবেদন করেন। বিচারক তা খারিজ করে আগামী তারিখে সাক্ষী হাজির করার নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করে আজ ২৪ জানুয়ারি প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছিল আদালত।

গত ৩ ডিসেম্বর সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আবুল কাশেমের আদালতে আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরান থানার উপপরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। এতে সাইফুর রহমানকে প্রধান করে ছয় জনের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণে জড়িত থাকা এবং অপর দুই জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর গত ১৭ জানুয়ারি বেলা ১১টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার পুলিশ এজাহারভুক্ত মামলার আট আসামিকে আদালতে হাজির করলে সকল আসামির উপস্থিতেই মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়া, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুমকে আসামি করা হয়।

এর আগে গত ৩ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর এই মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ ছিল। এদিন বাদীর পক্ষে আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রবাসে স্বামীকে আটকে রেখে নববধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার রাতেই নির্যাতিতার স্বামী বাদী হয়ে নগরের শাহপরান থানায় ছয় জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্বামীকে নিয়ে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন নির্যাতনের শিকার তরুণী (২৫)। ফেরার সময় তারা গাড়ি থামিয়েছিলেন নগরের টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে। স্ত্রীকে প্রাইভেটকারে রেখে স্বামী পার্শ্ববর্তী দোকানে গিয়েছিলেন। ওই সময় প্রাইভেটকারটি ঘিরে ধরে কয়েকজন তরুণ। প্রাইভেটকারসহ ওই দম্পতিকে তারা নিয়ে যায় বালুচর এলাকার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ভেতরে। সেখানে স্বামীর সামনেই গাড়ির ভেতর সংঘবদ্ধভাবে তরুণীকে ধর্ষণ করে ৬ তরুণ। পরে তাদের মারধর করে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয় ধর্ষকরা। আটকে রাখে তাদের গাড়িও। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ৬ আসামিসহ সন্দেহভাজন আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব ও পুলিশ।ইউএনবি

এমবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *