রবিবার ২, অক্টোবর ২০২২
EN

ঐশীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় তাদের একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দু'টি চার্জশিট বিচারিক আদালতে দাখিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হাসানের আদালতে চার্জাশিট দুটি উপস্থাপন করা হয়

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় তাদের একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দু'টি চার্জশিট বিচারিক আদালতে দাখিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হাসানের আদালতে চার্জাশিট দুটি উপস্থাপন করা হয়। ঐশীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস চার্জশিট উপস্থাপনের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিচারক চার্জশিট দুটি দেখে বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর জন্য  নির্দেশ দিয়েছেন।’ গত ৯ মার্চ ডিবি ইন্সপেক্টর আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে ঐশীসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে পৃথক দুটি চার্জশিট দাখিল করেন।  একটি চার্জশিটে ঐশী ছাড়াও তার বন্ধু জনি ও রনিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অপর চার্জশিটে হতাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে গৃহকর্মী সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। বর্তমানে ঐশী কাশিমপুর কারাগারে আটক রয়েছে।   চার্জশিটে বলা হয়েছে, ঐশী অত্যন্ত কৌশলী মেয়ে। পরিবারের প্রথম সন্তান হওয়ায় সে অত্যন্ত আদরের ছিল। একারণে সে ইচ্ছামত চলত। আসাদুজ্জামান জনি এবং মিজানুর রহমান রনির মতো উশৃঙ্খল বন্ধুদের সঙ্গে মিশে পরিবারের বাইরের পরিবেশের প্রতি মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ওই কারণে পরিবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং বাবা-মায়ের শাসন তার প্রতি অমানবিক আচরণ হিসেবে ভাবত। বন্ধু জনি তাকে দুবাইয়ে ড্যান্স করার প্রস্তাব পায়। দুবাই যাওয়ার জন্য বাবা মাহফুজুর রহমানের কাছে তিরিশ হাজার টাকা চায় ঐশী। বাবা দুবাই যেতে নিষেধ করলে সে ঘটনার একমাস আগে চামেলীবাগের বাসা থেকে বনশ্রীতে বন্ধু জনির সহায়তায় ১৫ দিন সাবলেট ছিল। ওইসময়ই জনিকে নিয়ে বাবা-মাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সুচতুর ঐশী বাবা-মাকে হত্যার পর নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে মা স্বপ্না রহমানের মোবাইল ফোন থেকে বন্ধুর খালার বাড়িতে আশ্রয় চাইতে মিথ্যা কথা বলে বাসা থেকে মালামালসহ পালিয়ে যায়। যে ডেগার জাতীয় ছোরা দিয়ে বাবা-মাকে হত্যা করেছিল এবং যে কাপে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে কফি পান করিয়েছিল তা ধীরস্থিরভাবে ধুয়ে হাতের ছাপ নষ্ট করে ফেলে। এসময় ভাই ঔহী যাতে ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী না হতে পারে এ জন্য সে মা-বাবাকে হত্যার সময় তাকে বাথরুমে আটকে রাখে। হত্যার পর আলামত রক্ত মুছে, নিজে গোসল করে এবং ওহীকে বাথরুম থেকে বের করে। খুন করার পর সে অভিজ্ঞ খুনির মতো মায়ের হাতের চুরি ও আংটি খুলে নেয়। গৃহকর্মী সুমিকে দিয়ে আলুর চিপস ভেজে খায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব আচরণ ঐশীর মানসিক পরিপক্কতার প্রমাণ দেয়। এর আগে ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পর দিন তাদের মেয়ে ঐশী রহমান রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করে। [b]ঢাকা, কেএ, ৮ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর [/b]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *