বুধবার ৮, ডিসেম্বর ২০২১
EN

কিটো ডায়েট নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে যা বললেন ডা. জাহাঙ্গীর কবীর

করোনার টিকা বিষয়ক একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করে বিতর্কের মুখে পড়েন সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় চিকিৎসক জাহাঙ্গীর কবীর।

করোনার টিকা বিষয়ক একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করে বিতর্কের মুখে পড়েন সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় চিকিৎসক জাহাঙ্গীর কবীর।

সাত দিনের মধ্যে বিভ্রান্তিকর ও অবৈজ্ঞানিক সব ভিডিও কনটেন্ট অনলাইন থেকে না সরালে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় চিকিৎসকদের একটি সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিজ (এফডিএসআর)।

টিকা নিয়ে সেই ভিডিও নিজের পেজ থেকে সরিয়ে নিয়েছেন ডা. জাহাঙ্গীর কবীর এবং ক্ষমাও চাইলেন তিনি।

তবে ডা. জাহাঙ্গীর কবীরের দাবি, তিনি কিটো ডায়েট পরামর্শক নন, তিনি মূলত পাঁচটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ভুল বক্তব্য দেয়া হচ্ছে।

ডা. জাহাঙ্গীর কবীর আরো জানান, তিনি ভুলের ঊর্ধ্বে নন, তার ভুল হলে যেন তাকে ধরিয়ে দেয়া হয়। মঙ্গলবার এ নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন এ চিকিৎসক।

কিটো ডায়েট বিষয়ক তার সেই স্ট্যাটাসের অংশটি পাঠকের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো -

‘সমালোচনা এসেছে তার মধ্যে অন্যতম হল আমার পরামর্শকে কিটো ডায়েট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমি বহুবার নানান ভিডিওর মাধ্যমে বলেছি যে আমি শুধুমাত্র ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলি না। আমি মূলত পাঁচটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি অটোফেজি, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক প্রশান্তির চর্চা করাকে সমানভাবে গুরুত্ব দেই। ৎ

আমি কখনোই ঔষধ বিরোধী না, আমি সব সময় বলে এসেছি জরুরি চিকিৎসায় ঔষধ অপরিহার্য। তবে লাইফস্টাইল রোগগুলো লাইফস্টাইল মডিফাই করে প্রতিরোধ করা যেতে পারে এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমিও আমার রোগীদের প্রয়োজনে ঔষধ লিখছি সুতরাং ঔষধের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আমি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছি যেন স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ঔষধ ছাড়া সুস্থ থাকতে পারেন।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যেসব রোগীরা সরাসরি আমার পরামর্শ নেন আমি তাদেরকে নিয়মিত অবজারবেশনে রাখার চেষ্টা করি এবং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আমার পরামর্শের নানান প্রভাব ও প্রতিকারের বিষয়ে আলোকপাত করে থাকি।’

‘সর্বপরি আমি মনে করি চিকিৎসক সমাজে আমরা সবাই সহকর্মী, একে অপরের সহযোগী। এখানে রয়েছেন আমার সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ, শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই-বোন,বন্ধুরা ও আগামীর সম্ভাবনাময় জুনিয়র ডাক্তারগণ। জনস্বার্থে সকল চিকিৎসকই একেকজন যোদ্ধা। করোনা মহামারীর এই চরম দুর্দিনে ডাক্তারদের মত যোদ্ধারাই নিজেদের জীবন ঝুঁকির কথা ভুলে জরাগ্রস্থ মানুষের পাশে থেকেছে এখনো আছে।

আজকের পুরো বিশ্ব চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের সাথে জড়িত সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি সকলের প্রতি সম্মান রেখে বলছি মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে তাই আপনারা আমার কোনো ভুল ধরিয়ে দিলে আমি তা শুধরে নিব। নিজের ভুলকে আমি ভুল হিসেবে গ্রহণ করে তা শুধরে নিব আর আপনাদের কাছেও আমার অনুরোধ আপনারা আমার পূর্বের ভুলগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেননা আমরা তো সকলে মিলে মানব সেবার ব্রতেই চিকিৎসা পেশাকে বেছে নিয়েছি আর সেজন্য আমরা একে অপরের প্রতি সম্মান রেখে একযোগে কাজ করতে পারি।

আমি নিজেও একজন চিকিৎসক, সবসময়ই প্রত্যেক চিকিৎসকের সম্মান রক্ষা ও অবদান স্বীকার আমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। বহু আগে থেকেই আমি নিজেও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও দায়িত্ব নিয়ে সোচ্চার আছি। সেই লক্ষ্যে আমি ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস এন্ড রেসপন্সিবিলিটিস (এফডিএসআর) এর সাথে প্রোগ্রাম করেছিলাম, তা আমার পেজ থেকে শেয়ার করেছিলাম সকলের উদ্দেশ্যে।

তবুও মানুষ হিসেবে আমি ভুলের ঊর্ধ্বে নই। তাই আমার কথায় হয়তো অনেক সহকর্মী - সিনিয়র চিকিৎসক কষ্ট পেয়েছেন কিংবা মনক্ষুন্ন হয়েছেন। আমি তাদের সবার প্রতি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’ 

এবিএস

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *