বুধবার ৭, ডিসেম্বর ২০২২
EN

কঠোর নিরাপত্তায় শৈলেনকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়ার এপিএস সৌমেন্দ্র লাল চন্দ্র শৈলেনকে টানা ৯ দিনের রিমান্ডে এনে কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়ার এপিএস সৌমেন্দ্র লাল চন্দ্র শৈলেনকে টানা ৯ দিনের রিমান্ডে এনে কঠোর নিরাপত্তা  ও গোপনীয়তা বজায় রেখে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অঢেল অবৈধ সম্পদের মালিক শৈলেনকে  প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছেন উপ পরিচালক এ কে এম মেসবাহ উদ্দিন ।

এই বিষয়টি দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য  নিশ্চিত করেছেন ।

এদিকে শৈলেনের বিরুদ্ধে বিপুল অংকের অর্থ বিদেশে পাচার, ৪০৩টি হজ্ব এজেন্সির লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া এবং নামে বেনামে বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে।

তার  নামে- বেনামে বহু সম্পদের  মধ্যে পটুয়াখালীতে ৩ তলা বাড়ি এবং ভারতে বসবাসকারী শৈলেনের দুই ভাই, এক বোন ও ভগ্নিপতির নামে বাড়ি ও ব্যবসা রয়েছে। ভারতে  শৈলেনের  ভাই সচিন চন্দ্র ও রবিন চন্দ্র  বোন নমিতা চন্দ্র এবং ভগ্নিপতি কিষেণ মিত্রের নামে অঢেল সম্পদ রয়েছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, শৈলেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর এপিএস নিয়োগ লাভের আগে তারা ভারতে বিভিন্ন দোকানে কর্মচারি হিসেবে কাজ করতেন। কেউ করতেন ক্ষুদ্র ব্যবসা। শৈলেন এপিএস নিয়োগ হওয়ার পরই পাল্টে যায় তাদের জীবন যাত্রা। এখন শৈলেনের  ভাই রবিন চন্দ্র কোলকাতার ৪ নং সন্তোষ রাইবাজার  রোডে একটি বাড়ির মালিক। আরেক ভাই সচীন চন্দ্র  ভারতের চব্বিশ পরগনার ১৫৪, হাঁসপুকুর, গ্রীণ পাকজোকায় বাড়ির মালিক।  বোন নমিতার নামেও রয়েছে  কোলকাতার ২৩/১, রামগোপাল পাল রোড, মিত্রপাড়ায় একটি বাড়ি। এছাড়া তাদের প্রত্যেকের আলাদা ব্যবসা রয়েছে।

এদিকে শৈলেনের অবৈধ সম্পদের সুষ্ঠু অনুসন্ধানে ভারত যাওয়ারও প্রয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন প্রথম পর্যায়ের অনুসন্ধানকারী দুদকের উপ-পরিচালক আহসান আলী। আহসান আলী গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শৈলেনকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছিলেন। কিন্তু গত মাসে তাকে হুট করে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়েছে।

এদিকে গত ২ জুন রমনা থানায় দুদকের উপ-পরিচালক  কে এম মিছবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে  দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারয় রমনা থানায় একটি  মামলা নং-৪ দায়ের করেন।  পরে গত, ৯ জুন বিকালে দুদকের উপ পরিচালক এ কে এম মেসবাহ উদ্দিনের  নেতৃত্বে  পুলিশের সহযোগিতায় দুদকের একটি টিম শৈলেনকে রাজধানীর  বেইলি  রোডের নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে।

পরদিন ১০ জুন শৈলেনকে ঢাকা সিএমএম  আদালতে হাজির করে ৯ দিনের রিমান্ডে আনে দুদক। তবে গ্রেফতারের পর থেকেই দিনের বেলায় একটা নির্ধারিত সময় আসামি শৈলেন দুদকের কাছে থাকে। আর বাকি পুরো সময় শৈলেনকে রমনা থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়ে।

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর এপিএস থাকাকালে  শৈলেন অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে   ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩৯ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। তিনি এই অর্থ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, শৈলেন গত ৪ বছর ১১ মাসে  তার  মোট আয় ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৫৩ টাকা হবার কথা।  অথচ  গত ৪ বছর ১১ মাসে তার ১  কোটি ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৪২ টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। তার আয়কর বিবরণী অনুসারে ২০১৩-১৪ করবর্ষে ৩০ লাখ ৯০ হাজার ৬২১ টাকার নীট আয়, সোনালী ব্যাংকের বায়তুল মোকাররম শাখায় ৬৪ লাখ ১০ হাজার ২৯ টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকে জমাকৃত ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ১৮৬ টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংকে জমাকৃত ৪ লাখ ১২ হাজার ৪৯৩ টাকা, নিজস্ব জিপ গাড়ি ও মেয়েকে  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিবাবদ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ তার বৈধভাবে  আয় করা অর্থ বাদ দিলে তার অবৈধ অর্থ ও সম্পদের পরিমান ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩৯ টাকা।

ঢাকা, একে ১৬ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *