সোমবার ১৭, জানুয়ারী ২০২২
EN

কালশী ট্রাজেডি: গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইলিয়াস মোল্লা জড়িত!

মিরপুরের কালশীতে বিহারী ক্যাম্পে হামলা ও ১০ বিহারীকে হত্যার ঘটনায় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লাকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা

মিরপুরের কালশীতে বিহারী ক্যাম্পে হামলা ও ১০ বিহারীকে হত্যার ঘটনায় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লাকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সংস্থাটির একটি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে বিহারীদের উপর ওই হামলা চালানো হয়।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, কালশীতে বিহারী হত্যার ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে খুব গুরুত্বসহ দেখতে বলা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাইরে কালশী ট্রাজেডি নিয়ে যাতে কোনো ধরণের ইস্যু তৈরি না হয় সে জন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ওই গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কালশী হত্যাকাণ্ডের পর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনার তদন্ত শুরু করে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। ইতোমধ্যে বিহারী পল্লীতে হামলার ঘটনার কারণ, এর সাথে কারা জড়িত এবং হামলার নিদের্শদাতার সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তা বিশ্লেষণ করে খুব শিগগিরই সরকারকে জানানো হবে।

সূত্রটি আরও জানায়, ঘটনায় যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার পরিমাণ, ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি, ঘটনার দিন বিভিন্ন নাগরিকের ব্যক্তিগত মোবাইলে তোলা ছবিও সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী ও হামলার শিকার বিহারী সদস্যদের বক্তব্যও তদন্তে অন্তর্ভূক্ত করা হচ্ছে বলেও জানায় সূত্রটি।

তদন্ত অনুযায়ী কারা কারা জড়িত জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশ না করে উচ্চ পর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম উঠে এসেছে। তবে বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না। প্রতিবেদন দাখিল হলে জানতে পারবেন।

তবে বিহারী ক্যাম্পবাসী ঘটনার পর থেকে অভিযোগ করে আসছেন, বিহারী ক্যাম্পে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। বহিরাগতরা এসে হামলা চালিয়েছে। সাথে হামলায় পুলিশও সহযোগীতা করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের তর্জনী স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার দিকেই। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মোল্লার লোকেরাই হামলা চালায় ও ১০ জনকে হত্যা করে। যার মধ্যে ৯ জনকেই পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এর আগে স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানিস জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটি (এসপিজিআরসি) বাংলাদেশের তথ্য ও বার্তা সম্পাদক শামসাদ শাকিল অভিযোগ করে বলেন, বিহারী ক্যাম্পের জমি দখল এবং ক্যাম্পের বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবসা কবজা করতেই এ সহিংসতা ঘটানো হয়েছে।

বিহারীদের অভিযোগ, ইলিয়াস মোল্লার লোকেরাই পুলিশ ও এলাকার যুবকদের নিয়ে বাউনিয়াবাদে নিয়ে আসে। আর এখন তারা এটাকে বিহারীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বলে চালিয়ে দিচ্ছেন।

তারা আরও বলেন, প্রায় ২০০-২৫০ পুলিশের ছত্রছায়ায় প্রথমে ২০০-২৫০ জন এবং পরে আরও ৪ থেকে ৫শ' জন আসে যাদের ২০-২৫ জনের কাছে পিস্তল, ধারালো অস্ত্র, ও লাঠিসোটা ছিল বলেও অভিযোগ বিহারীদের।

এদিকে বিহারী ক্যাম্পে হামলা ও ১০ বিহারীকে হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

ঢাকা, জেইউ, ২৩ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি // এআর

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *