শুক্রবার ৩, ফেব্রুয়ারি ২০২৩
EN

কে হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩ তম প্রধান বিচারপতি ?

বাংলাদেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অবসরে যাবেন আগামী ৩০ ডিসেম্বর। তার আগেই নিয়োগ দেয়া হবে দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি।

বাংলাদেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অবসরে যাবেন আগামী ৩০ ডিসেম্বর। তার আগেই নিয়োগ দেয়া হবে দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি।

কে হচ্ছেন পরবর্তী প্রধান বিচারপতি, এ নিয়ে আইনাঙ্গনে এখন শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় বুধবার বিচারিক জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

কিন্তু তিনি অবসরে যাবেন ৩০ ডিসেম্বর। ওই দিন দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতির বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হবে। সংবিধান অনুসারে বিচারপতি পদের মেয়াদ ৬৭ বছর পর্যন্ত।

বর্তমানে প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পাঁচজন বিচারপতি রয়েছেন। অন্যরা হলেন- বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো: নুরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। এ চারজনের মধ্য থেকেই নিযুক্ত হবেন দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি।

এ দিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতি নিয়োগের আগেই আপিল বিভাগে নতুন বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হতে পারে।

সাধারণত আপিল বিভাগের যিনি জ্যেষ্ঠ বিচারক, তাকেই পরবর্তী প্রধান বিচারপতি করা হয়। তবে জ্যেষ্ঠতার এ নিয়ম অনেকবার লংঘনও হয়েছে। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকেই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা উচিত বলে মনে করেন আইনবিদরা।

বিচার বিভাগের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী যদি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়, তাহলে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হওয়ার কথা আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি ইমান আলীর।

তবে জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ করা না হলে আপিল বিভাগের বাকি বিচারক বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো: নুরুজ্জামান ননী ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন রাষ্ট্রপতি।

সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগ করিবেন।’

সংবিধানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলা হয়নি। তবে দীর্ঘ দিনের রীতি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের যে বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন, তার বিষয়ে সম্মতি দিয়ে প্রথমে আইন মন্ত্রণালয়কে জানাবেন।

আইনজীবীরা মনে করছেন জ্যেষ্ঠতা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী, পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হতে পারেন বিচারপতি ইমান আলী। তবে আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি করা হতে পারে বলে অনেক আইনজীবী মনে করেন।

আইনজীবীরা বলছেন, আপিল বিভাগে চার বিচারপতির তিনজনেরই অবসরের মেয়াদ ২০২৩ সালের মধ্যে। সংবিধান অনুযায়ী, ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত বিচারপতি পদে থাকা যায়।

সে হিসেবে বিচারপতি ইমান আলী অবসরে যাবেন ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি। তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেলে তার মেয়াদকাল হবে এক বছর।

আর বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী নিয়োগ পেলে তার প্রধান বিচারপতির মেয়াদকাল হবে দেড় বছরের বেশি। কারণ তার মেয়াদকাল ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

এ ছাড়া বিচারপতি নুরুজ্জামান ননী অবসরে যাবেন ২০২৩ সালের ১ জুলাই এবং বিচারপতি ওবায়দুল হাসান অবসরে যাবেন ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। কে হবেন, সেটি তিনিই নির্ধারণ করবেন।

আর প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা উচিত নয় বলে মনে করেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ।

তিনি বলেন, যদিও সংবিধানে এ বিষয়ে পরিষ্কার কিছু বলা নেই, তারপরও এটা করা ঠিক না। যাকে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেয়া হলো তিনি এক বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করে চলে যেতে হয়, এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল মনে করেন, প্রধান বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের একটি সংস্কৃতি চলে আসছে। এটা বিচার বিভাগের জন্য অশনিসঙ্কেত।

আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ এবং আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া দরকার।

আইনজীবীরা জানান, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করলে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো: আব্দুল ওয়াহহাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।

পরবর্তী সময়ে বিচারপতি মো: আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির পদে থাকাকালীন প্রধান বিচারপতি হিসেবে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নিয়োগ চূড়ান্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

এ নিয়োগের দিন (২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিচারপতি মো: আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা।

বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞার তখন চাকরির মেয়াদ ছিল আরো ১০ মাস। তার আগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়ায় আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান পদত্যাগ করেন।

এইচএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *