রবিবার ২, অক্টোবর ২০২২
EN

খোকনের বিরুদ্ধে ২৩তম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২৩তম সাক্ষী জীবন কৃষ্ণ দাশের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ। সোমবার বিচারক এম ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২৩তম সাক্ষী জীবন কৃষ্ণ দাশের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ। সোমবার বিচারক এম ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। জীবন কৃষ্ণ দাশ )৭৪) বলেন, একাত্তরের বৈশাখে পাকিস্তানী সেনারা ফরিদপুরে পৌঁছালে খোকন রাজাকার, তার বড় ভাই জাফর রাজাকার, বাচ্চু, আয়নাল, আতাহারসহ আরও অনেকে তাদের অভ্যর্থনা জানায়। এরপর তাদের কাছ থেকে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেয়। তিনি বলেন, বৈশাখ মাসে খোকন রাজাকার, জাফর রাজাকাররাসহ অন্যান্য রাজাকাররা তাদের গ্রাম জঙ্গুরদী বাগুটিয়ায় এসে লুটপাট চালায়, বাড়িঘর পোড়ায় এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মান্তরে বাধ্য করে। সাক্ষীকেও ধর্মান্তরে বাধ্য করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি পুরো পরিবারসহ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তিনি বলেন, একাত্তরের জৈষ্ঠ্য মাসের প্রথম দিকে খোকন রাজাকার,তার বড় ভাই জাফর রাজাকারসহ অন্যান্য রাজাকাররা তাদের গ্রামে এসে রমেশ রায় ও কানাই লাল মণ্ডলের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। পরে তাদের বাড়িতে এসে হত্যা,বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া এবং ধর্মান্তরিত করার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করে। তিনি বলেন, ওই সময় আমার বড় ভাই সন্তুষ দাশ ভয়ে ১০০০ টাকা দেয়। তারা আমার স্ত্রীর কাছ থেকে জোরপূর্বক সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। গ্রামের অন্যান্যদের কাছ থেকেও জোরপূর্বক টাকা আদায় করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যায়। জীবন কৃষ্ণ দাশ বলেন, ওই ঘটনার ২/৩ দিন পরে আবার তাদের বাড়িতে মৌলভীসহ আসে রাজাকাররা। তারা আমাদের চার ভাইসহ প্রতিবেশী নিতাই দাশকে ওই মৌলভী সাহেবকে দিয়ে কলমা পড়ায়ে মুসলমান বানায়ে তাদের সঙ্গে আনা টুপি পড়িয়ে দেয় আমাদের। এরপর আমাদের চার ভাইয়ের স্ত্রীদের ঘর থেকে টেনে বের করে শাঁখা ভেঙ্গে, মাথার সিঁদুর মুছে তাদেরও মুসলমান বানায়। আমাদের সবার মুসলমান নাম রাখা হয়। সাক্ষী বলেন, সেদিন চলে যাওয়ার পরেও রাজাকাররা মাঝেমধ্যে খোঁজখবর নিতো। তাদের ভয়ে মাথায় টুপি দিয়ে নামাজ পড়তেন তারা। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের জেষ্ঠ্য মাসের মাঝামাঝি সময়ে চাঁদের হাটে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে রাজাকারদের যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে নগরকান্দা থানার রাজাকার কমান্ডার জাফর রাজাকার নিহত হয়। এছাড়া আরো তিনজন নিরীহ গ্রামবাসী নিহত হয়। সাক্ষী বলেন, তার ভাই জাফরের মৃত্যুর পর রাজাকার কমান্ডার হয় খোকন রাজাকার। ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে পরে তিন দিন ধরে পুরো এলাকাতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ধর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। তিনি বলেন, আষাঢ় মাসের শেষ দিকে খোকনসহ রাজাকাররা জঙ্গুরদী বাগুটিয়া গ্রামে এসে কানাই লাল মণ্ডলকে তার বাড়ির পাশের পাটক্ষেত থেকে ধরে এনে নদীর পাড়ে নিয়ে গুলি করে। তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়।পরে ডান হাতে গুলিবিদ্ধ কানাই লালকে তার পরিবারগ্রামের ডাক্তার বুদাইকে দিয়ে চিকিৎসা করায়। সাক্ষ্য শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আব্দুশ শুকুর খান। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেন ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ৯ অক্টোবর জাহিদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১১টি অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। [b]ঢাকা, জিই, ২৪ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর[/b]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *