মঙ্গলবার ১৬, অগাস্ট ২০২২
EN

খেলাপি ঋণ আরও বাড়লো

বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলের মধ্যেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে ব্যাংকগুলোতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলের মধ্যেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে ব্যাংকগুলোতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। তবে, ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকৃত খেলাপি ঋণ আরও অনেক বেশি। কারণ, অনেক ব্যাংক বড় অঙ্কের ঋণ আদায় করতে পারছে না। আবার ওই ঋণগুলোকে খেলাপি হিসেবেও চিহ্নিত করছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত তিন মাসে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা। এর আগে, জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। আর ৯ মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২২ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা (অবলোপন ছাড়া)।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘ঋণ আদায় না হওয়ায় খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আর ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ এখনও চলমান। আশা করি ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপির পরিমাণ কমে আসবে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলামও মনে করেন, ‘ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে আসবে।’

তবে, ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ মার্চ ও জুনে খেলাপি ঋণ কিছুটা বাড়ে। তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বরে) কমে আসে। কিন্তু এবার বেড়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে ছাড় দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করেছে। এছাড়া, জাতীয় নির্বাচনের আগে অনেকে ঋণ পুনঃতফসিল করেছিলেন। এসব পুনঃতফসিল করা ঋণ এখন নতুন করে খেলাপি হয়ে পড়েছে। যে কারণে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। তিন মাসের ব্যবধানে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি ব্যাংকে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৫৪৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৭ দশমিক শূন্য ৪৩ শতাংশ।
গত জুন শেষে বেসরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা, যা ওই সময়ে তাদের বিতরণ করা ঋণের ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯২২ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৩১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এর আগের প্রান্তিকে এসব ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ছিল ৫৩ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা, যা ওই সময়ের বিতরণ করা ঋণের ৩১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ওই হিসাবে গত মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা।

সেপ্টেম্বর শেষে বিদেশি ৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯১ কোটি ২৪ লাখ টাকা, যা ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ৬ দশমিক ১ শতাংশ। গত জুন শেষে এসব ব্যাংকে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২ হাজার ৫৭ কোটি ৬২ টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর দুই বিশেষায়িত ব্যাংকের (কৃষি ও রাকাব) খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার ৭০০ কোটি ৪১ লাখ টাকা, গত জুন শেষে যা ছিল ৪ হাজার ৬৯৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ব্যাংক দু’টির বিতরণ করা ঋণের ১৭ দশমিক ৮১ শতাংশ খেলাপি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব মতে, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৫৪ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৬৫ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ছিল ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা।

এদিকে, খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে ঋণ পুনঃতফসিল করার জন্য এ পর্যন্ত পাঁচবার আবেদনের সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুধু তা-ই নয়, ঋণ পুনঃতফসিল করা গ্রাহক যেন ব্যাংক থেকে আরও ঋণ নিতে পারেন, সেজন্য নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঋণ পুনঃতফসিলের পর ব্যাংক ও গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন করে ঋণ দিতে পারবেন। একইভাবে বিশেষ নিরীক্ষা ছাড়া টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদেরও ঋণ দেওয়া যাবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ঋণখেলাপিরা মাত্র দুই শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন। পুনঃতফসিল হওয়া ঋণ পরিশোধে তারা সময় পাবেন টানা ১০ বছর। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরাও এই সুযোগ পাচ্ছেন। এ ধরনের ঋণখেলাপিকে প্রথম এক বছর কোনও কিস্তিও দিতে হবে না। আর চিহ্নিত ঋণখেলাপিদের গুনতে হবে ৯ শতাংশেরও কম সুদ।

এএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *