বৃহস্পতিবার ২৬, মে ২০২২
EN

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় জামায়াত

সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এনিয়ে সোমবার (২৪ জানুয়ারি) সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মাওলানা এ টি এম মাছুম একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এনিয়ে সোমবার (২৪ জানুয়ারি) সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মাওলানা এ টি এম মাছুম একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের নির্দেশনা থাকলেও স্বাধীনতার ৫০ বছরে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। সরকার জনগণের মূল দাবি পাশ কাটিয়ে নিজেদের ক্ষমতায় আসার পথ পরিস্কার করার জন্য নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের নামে জনগণের সাথে আরেকটি প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করেছে। বর্তমান সংসদ জনগণের নির্বাচিত সংসদ নয়। আইন প্রণয়নে এই সংসদের কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

সকল রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এলক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা এবং তার অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উদ্দেশ্যে গ্রহণযোগ্য একটি কমিশন গঠন করা। সরকার জনগণের সে দাবি অগ্রাহ্য করে নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের নামে মূলত জনগণের সাথে প্রহসনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

সরকারের প্রস্তাবিত আইনটি একটি সার্চ কমিটি গঠনের আইন। সার্চ কমিটির মাধ্যমে পরপর দুটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এই আইন প্রণয়ন করে মূলত আওয়ামী লীগ সার্চ কমিটিকে আইনী বৈধতা দানের মাধ্যমে তাদের কূটকৌশল বাস্তবায়ন করতে চায়।

সংসদে আইনমন্ত্রী যে আইনটি উত্থাপন করেছেন তার শিরোনাম হচ্ছে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২’; প্রস্তাবিত আইনে সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদের প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে না। আইনটির মূল উদ্দেশ্য হবে দেশে একটি স্থায়ী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা। সেটি না করে সরকার যেভাবে আইনটি প্রণয়ন করতে যাচ্ছে, তাতে নির্বাচন বা ভোটাধিকার প্রশ্নে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না। নির্বাচন কমিশন নিয়োগের আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার নিজেদের পছন্দ মতো নির্বাচন কমিশন গঠনের একটি মতলবি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

আমরা মনে করি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সর্বাগ্রে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হওয়া দরকার। এ সরকার একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। মধ্যরাতের নির্বাচনে ক্ষমতা দখলকারী সরকারের দ্বারা কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না। তাই আমরা নীল-নকশার আরেকটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে নিজেদের ছক অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য উপস্থাপিত মতলবি আইনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।-বিজ্ঞপ্তি।

এমআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *