রবিবার ৩, জুলাই ২০২২
EN

চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ

বহুল আলোচিত চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন আজ। দেশের ৯৭টি উপজেলা পরিষদে ভোটগ্রহণ হবে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে হয়রানির অভিযোগের মধ্য দিয়েই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই নির্বাচন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে হয়রানি ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ দলটির।

বহুল আলোচিত চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন আজ। দেশের ৯৭টি উপজেলা পরিষদে ভোটগ্রহণ হবে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে হয়রানির অভিযোগের মধ্য দিয়েই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই নির্বাচন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে হয়রানি ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ দলটির। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও চতুর্থ উপজেলায় নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে চায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট। প্রচার প্রচারণার প্রথম থেকে সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। সেই সাথে সরকার সমর্থিতদের বেলায় নীরব ভূমিকা পালন করছে আইনশৃঙ্খলারক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। বিএনপির অভিযোগ প্রচারণা শেষ হওয়ার দিন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানের নির্বাচনী এলাকা থেকে দুই শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। বিএনপির স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনে ভোটারদের আতঙ্কিত করার জন্য সরকার সমর্থিত প্রার্থী প্রশাসনকে দিয়ে গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে। এতে ভোটাররা যেমন নিরুৎসাহিত হবেন তেমনি প্রার্থীরাও থাকবেন আতঙ্কে। এ অবস্থায় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া কঠিন হবে। গত ডিসেম্বর মাসে সরকারবিরোধী আন্দোলনে জড়িত বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের নামে করা মামলায় পুলিশ হয়রানি করছে বলেও বিভিন্ন স্থান থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতারা বলছেন, আগের মামলা থাকলেও তাতে আমরা হয় জামিনে রয়েছি না হয় মামলা তদন্তাধীন আছে। পুলিশ সরকারদলীয় প্রার্থীকে সুবিধা দিতে পরিকল্পিতভাবে আমাদের হয়রানি করছে। রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা বলেন, প্রতিনিয়ত আমাদের নেতাকর্মীরা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। মামলা হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনী কাজ করতে পারছেন না। অথচ স্থানীয় প্রশাসন নীরব রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে ইতোমধ্যে কেন্দ্র দখলের ঘোষণা দিয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে মনে হচ্ছে না। তবে উপজেলাগুলোতে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে দুই প্রধান দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে জানা গেছে। কিছু উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অন্য প্রার্থীদের হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রথম ধাপে ৯৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে আজ। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। প্রথম ধাপে ১০২টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয় ১৯ জানুয়ারি। এর মধ্যে সীমানা জটিলতার কারণে রংপুর সদর, পীরগাছা, গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া পীরগঞ্জ উপজেলার ভোটগ্রহণের দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি। এদিকে, উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের বাধা, গ্রেফতার ও গুম করা হচ্ছে বলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনে দলটির একটি প্রতিনিধি দল এ অভিযোগ জানায়। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার সাথে ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু ও সহদফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন। রিজভী আহমেদ কমিশনে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, গত ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পথেই হাঁটছে কমিশন। দেশের বিভিন্ন উপজেলায় নেতাকর্মীদের হয়রানি করে আসছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দল সমর্থিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। বাড়িঘর ভাঙচুর করা হচ্ছে। সরকারদলীয়রা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন অথচ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। কমিশনের কাজ নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয়, এর ব্যবস্থা করা। কিন্তু কমিশন নির্লিপ্ত, তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন না। কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করে ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখবেন বলে আমরা আশা করি। নির্বাচন যেন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে কমিশনের কাছে আমরা আহ্বান জানিয়েছি। এসব বিষয় নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বারিত একটি চিঠি নিয়ে আমরা সিইসির সাথে দেখা করার জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি উপস্থিত না থাকায় নির্বাচন কমিশনের সচিব সিরাজুল ইসলাম চিঠিটি গ্রহণ করেছেন। এর আগে সকালে জাতীয় প্রেস কাবে এক প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেছেন, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। কারণ বিভিন্ন স্থানে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, তাদের স্বাভাবিক ক্যাম্পেইন করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে যেসব উপজেলায় ভোট : খাগড়াছড়ি সদর, রামগড়, পানছড়ি, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও মহালছড়ি; ঝিনাইদহ সদর, কালিগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও শৈলকূপা; ভোলার লালমোহন; মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, শিবালয়, সিঙ্গাইর ও সাটুরিয়া; গাজীপুরের কাপাসিয়া; রাজবাড়ীর পাংশা; পঞ্চগড়ের সদর, বোদা, অটোয়ারী, দেবীগঞ্জ, কাহারোল ও খানসামা; রংপুরের তারাগঞ্জ ও মিঠাপুকুর; কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারি, উলিপুর ও ফুলবাড়ী; গাইবান্ধার সাঘাটা; বগুড়ার সারিয়াকান্দি, শেরপুর, ধুনট ও নন্দীগ্রাম; দুপচাঁচিয়া ও সোনতলা; চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল; নাটোরের সিংড়া; সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া ও কাজীপুর; সিরাজগঞ্জ সদর; মেহেরপুর সদর; কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও সদর; নড়াইলের কালিয়া, জামালপুর সদর, সরিষাবাড়ী, সদর ও বালিয়কান্দি, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী, মকসুদপুর, মাদারীপুরের কালকিনি, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা, জাজিরা ও গোসাইরহাট; সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ছাতক, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, হবিগঞ্জের মাধবপুর, নীলফামারীর ডিমলা, সৈয়দপুর ও জলঢাকা, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, নওঁগার মহাদেবপুর, রানীনগর, পাবনার সাঁথিয়া, আটঘড়িয়া, সুজানগর, যশোরের অভয়নগর, মাগুরা সদর, শ্র্রীপুর, বরিশালের বাকেরগঞ্জ, গৌরনদী, নেত্রকোনার দুর্গাপুর, কেন্দুয়া, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, নিকলী, করিমগঞ্জ, ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ, নরসিংদীর পলাশ, বেলাবো, সিলেটের বিশ্বনাথ, জকিগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, গোয়াইনহাট, জৈন্তাপুর, হবিগঞ্জের বাহুবল, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, মীরসরাই, সাতক্ষীরার আশাশুনি, রাজশাহীর মোহনপুর, খুলনার দীঘলিয়া ও কয়রা। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রথম ধাপের নির্বাচন শেষ করতে মাঠে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী। নির্বাচনের পরবর্তী দুইদিন পর্যন্ত তারা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহায়তায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে রয়েছেন তারা। প্রতি উপজেলায় এক প্লাটুন করে সেনাবাহিনীর সদস্য টহল শুরু করেছেন। বড় উপজেলায় এ সংখ্যা আরো বেশি। পাশাপাশি প্রতি উপজেলায় সেনাবাহিনীর দুই থেকে তিনটি গাড়ি থাকবে। সাথে সেনাবাহিনীর কমান্ডিং অফিসার ও একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন। এ ছাড়া মোবাইল ফোর্স হিসেবে পর্যাপ্ত র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রার্থে ৩৮৮ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটও মাঠে রয়েছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও ইসি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করেছে ইসি। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা তিন দিন এ সেল কাজ করবে। জানা গেছে, নির্বাচন পূর্ব, নির্বাচনের দিন ও পরবর্তী অনিয়ম নিয়ে কাজ করবে এ সেল। এ ছাড়া এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে এ সেল। উল্লেখ্য প্রথম দফায় ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল ২৫ জানুয়ারি, তা যাচাইবাছাই হয় ২৭ জানুয়ারি এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ৩ ফেব্রুয়ারি। এ ছাড়া দ্বিতীয় দফায় ১১৬ উপজেলায় ২৭ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় দফায় ৮৩ উপজেলায় ১৫ মার্চ এবং চতুর্থ ধাপে ৪২ জেলায় ৯২টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ২৩ মার্চ। ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // কে বি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *