বুধবার ১৯, জানুয়ারী ২০২২
EN

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন, প্রার্থী হলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

আগামী ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচন। সেখানে প্রথমবারের মতো সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তিতুল্য অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে লড়বেন অভিনেত্রী নিপুণ।

kanchan-nipun.jpg

আগামী ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচন। সেখানে প্রথমবারের মতো সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তিতুল্য অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে লড়বেন অভিনেত্রী নিপুণ।

তাদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বর্তমান কমিটির সভাপতি মিশা সওদাগর এবং সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের প্যানেল।

আজ রোববার ( ৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কাকরাইলে সংবাদ সম্মেলন করে ইলিয়াস কাঞ্চন নিজ প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন। সেখানে তিনি জানাবেন এই নির্বাচনে অংশ নেয়া নিয়ে বিস্তারিত।

তার আগে নির্বাচনে অংশ নেয়া নিয়ে সাথে কথা বলেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। জানিয়েছেন কেন তিনি এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন; নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলেই বা কী করবেন।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘নিপুণরা আমার কাছে এসে বলল, দীর্ঘদিন যারা এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেই নেতৃত্বের মধ্যে অন্যান্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে একটা রেষারেষি হচ্ছে, মনোমালিন্য হচ্ছে। এই মনোমালিন্য যদি চলচ্চিত্রে থাকে তাহলে তো উন্নয়ন হবে না। এই বিষয়টা আমাকে ভাবিয়েছে।’

চলচ্চিত্রের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে এই অভিনেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ১ হাজার কোটি টাকা হল মালিকদের বরাদ্দ দিয়েছেন, তাদের হলগুলো সংস্কার করার জন্য।

কিন্তু তাদের একজনও টাকা নেননি। তাদের কথা হলো, টাকাটা নিলে মাসে মাসে সুদ দিতে হবে। কিন্তু আমি যদি ছবি চালাতে না পারি এই টাকা নিয়ে মাসে মাসে সুদ গুনব কেন? আমার তো নিশ্চয়তা থাকতে হবে।’

নিজে জয়ী হতে পারলে এ বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস ইলিয়াস কাঞ্চনের কণ্ঠে, ‘আমরা যদি ছবির সংখ্যা বাড়াতে পারি, তাহলে এই ১ হাজার কোটি টাকা হল মালিকরা নেবেন, সিনেমা হলেরও সংস্কার হবে। আমরা বিজয়ী হতে পারলে সেই চেষ্টাটাই করব।’

সঙ্গে তিনি এও যোগ করেন, ‘আমি যতদূর জানি, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর একটা দুর্বলতার জায়গা হলো এফডিসি, যেহেতু তার বাবার হাতে এটি প্রতিষ্ঠিত।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, তিনি যে টাকাটা দেবেন, কার কাছে দেবেন? কে এটা হ্যান্ডেল করবেন? এমন একটা ব্যক্তি তো লাগবে। এই কথাগুলো আমাকে নিপুণরা বুঝিয়েছে। তখন আমার মনে হয়েছে প্রস্তাবটা আসলেই ভালো।’

শিল্পী সমিতির সভাপতি পদে প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়াতে ছেলের (মীরাজুল মঈন জয়) কাছ থেকেও উৎসাহ পেয়েছেন বলে জানান ‘বেদের মেয়ে জ্যোছ্না’র নায়ক। জানালেন সেই কথাও, ‘তারা (নিপুণরা) আমার ছেলেকেও ধরেছে।

ছেলে আমাকে বলল, ‘বাবা শিল্পী সমিতি থেকে তোমার তো কিছু নেয়ার নেই। তুমি যে পর্যায়ে গেছ সেখান থেকে চিন্তা করলে এই সংগঠনের সভাপতি হওয়া তোমার জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছুও না।

কিন্তু তুমি তো ওখান থেকেই এসেছ। তুমি দেশের জন্য এতকিছু করছ, যে জাগয়া থেকে এসেছো সেই জায়গার মানুষগুলোকেও যদি একটা কিছু করে দিতে পার, ওই মানুষগুলো তোমাকে সবসময় স্মরণ করবে।

এই চিন্তাটা মাথায় নিয়েই আমি এগিয়েছি। দেখি, সব রেষারেষি বাদ দিয়ে, সবাইকে সাথে নিয়ে কী করতে পারি।’

ইলিয়াস কাঞ্জন বলেন, ‘প্রযোজক, পরিচালক কারো সঙ্গে কারো মিলমিশ নেই। আমি সংগঠনে না থাকলেও করোনার সময় জায়েদের (জায়েদ খান) ঘটনা কিন্তু মেটানোর চেষ্টা করেছি। ওটাই, আমি চাচ্ছি সবাইকে নিয়ে এগোতে।’

নন্দিত এই অভিনেতার ভাষ্য, ‘সবাই যদি থাকে, সবাই যদি হাত বাড়ায়, তাহলে এর উন্নতি হবে। না হলে হবে না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলেও তো সবাইকে নিয়ে যেতে হবে। একা গেলে হবে না।

কারণ, আপনি গেলেন, শিল্পী সমিতি গেল, আর কেউ গেল না; বাকিরা তো তখন বাধা দেবে। তাই আমি সবাইকে নিয়েই চেষ্টা করব।’

এইচএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *