মঙ্গলবার ২৫, জানুয়ারী ২০২২
EN

ছাগল বিক্রির টাকা দিয়েও মেলেনি বয়স্কভাতার কার্ড

নিদানের সম্বল ছাগলটা বিক্রি করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে টাকা দেয়। তবে টাকা দিয়েও কোন কাজ হয়নি তার।

অতসীপর বৃদ্ধ তোফাজ্জেল হোসেন। শখ করে একটা ছাগল পালন করেছিলেন। মানুষের মুখে শুনতে পেয়েছিলেন গ্রামের মেম্বারদের কাছে গেলে নাকি বয়স্ক ভাতার কার্ড পাওয়া যায়। বয়স্ক ভাতার কার্ড পাওয়ার আশায় সেই মেম্বরের কাছেও গিয়েছিলেন। কিন্তু বিনিময়ে সে টাকা দাবি করে। সে জন্য নিদানের সম্বল ছাগলটা বিক্রি করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে টাকা দেয়। তবে টাকা দিয়েও কোন কাজ হয়নি তার।

অনেক বয়স হয়েছে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন তোফাজ্জেল। এখন সে সোজা হয়ে হাটতেও পারেন না। জীর্ণ-শীর্ণ দেহের সবটাই এখন তার রোগে-শোকে ভরা। চোখেও দেখতে পায় না ভালো।

বলছিলাম কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামের অতসীপর বৃদ্ধ তোফাজ্জেল হোসেনের কথা।

দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ের জন্ম দাতা এই তোফাজ্জেল। বর্তমানে ছেলে মেয়েদের সকলের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে মেয়েরা এখন আলাদা থাকেন। সন্তানদের মাঝে জমি জমাও ভাগ করে দিয়েছেন তিনি। রয়েছে শুধু তার ভাঙ্গা বাঁশের বেড়া দেওয়া একটি টিনের ঘর। সেখানেই তার বৃদ্ধ স্ত্রী মাজু খাতুনকে নিয়ে থাকেন তোফাজ্জেল।

অভাবের সংসার। তাই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোনমতে চলছে তার সংসার। প্রসঙ্গত, এই এলাকার মধ্যে সবার চেয়ে বয়স বেশি হওয়া সত্বেও এখন পর্যন্ত বয়স্ক ভাতার কার্ড হয়নি তার।

বৃদ্ধ তোফাজ্জেল বলেন, কানে ভালোমতো শুনতে পারি না। হাটাচলাও ঠিক মতো করতে পারিনা। প্রায় সময়ই অসুখ লেগেই থাকে। চোখেও কম দেখি।

তিনি জানান, ছেলে মেয়েরা যে যার মতো। তারা আমার খোঁজ রাখে না। ভাতার কার্ড করার জন্য মেম্বরকে বলেছিলাম সে করে দেয়নি। কতো লোকের কাছে গিয়েছি কেউ কোন কাজ করেনি। আচ্ছা কত বছর বয়স হলে ভাতা হয়? আমার চেয়ে বয়সে যারা ছোট তারা ভাতা পায়, আমি পাবো কবে?

এত বৃদ্ধ বয়সে রোজা রাখার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, মরতে তো হবেই। আলাহর হুকুম পালন করেই যায় যে ক’দিন বাঁচি। তাই রোজা রেখেছি।

তোফাজ্জেলের স্ত্রী মাজু খাতুন জানান, কত লোকই তো আসে ভোটের কার্ড দেখে যায়, কেউ আবার নিয়ে যায় তবে ভাতা তো হয় না। মেম্বরকে টাকাও দিয়েছিলাম ছাগল বিক্রি করে। সে টাকা তো ফেরত দিলো না আমার কার্ডও হারিয়ে ফেলেছিলো সে। অনেকদিন পরে ফেরত দিয়েছিলো ভোটের কার্ড।

তিনি আরো জানান, আমিও অসুস্থ্য। চোখে কম দেখি। চোখ অপারেশন করার পরে এক চোখে আর দেখতেও পাই না। এই শেষ বয়সে যদি একটু ভাতার কার্ড হয় তাহলে খুব উপকার হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য হাসিনা খাতুন জানান, তোফাজ্জেল ও তার স্ত্রী মাজু আমার কাছে অনেকদিন ধরেই বলে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়া জন্য। তবে নানা কারনে তোফাজ্জেলের এত বয়স হওয়া সত্বেও ভাতার কার্ড হয়নি। তবে সে আমাকে কোন টাকা পয়সা দেয়নি।

তিনি আরও জানান, ভেবেছিলাম যদি আবারো নির্বাচিত হতে পারি তাহলে এবার তোফাজ্জেলের বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেব। কিন্তু এবার তো আর ভোটে পাস করতে পারিনি, তাই আমার আর কিছু করার নেই।

এ ব্যপারে আমলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এতো বয়স হওয়া সত্ত্বেও কেন বয়স্ক ভাতার কার্ড হয়নি তা খোঁজ খবর নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমআইএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *