মঙ্গলবার ২৫, জানুয়ারী ২০২২
EN

ছাত্রী টিউশন মানে মরণ ফাঁদ!

বর্তমানে অনেক দেয়ালে ও পোস্টারে লেখা থাকে শিক্ষিকা চাই। কিন্তু এ বিজ্ঞাপনের পিছনে রয়েছে মরণ ফাঁদ যা একটি সুন্দর সাজানো গুছানো জীবনকে ধ্বংশ করে দিতে পারে মুহুর্তের মধ্যে। এ রকম অনেক ঘটনা ঘটেছে আমাদের এ নগর জীবনে। তেমনি একটি ঘটনার বর্ননা দিয়েছে সপ্না (ছদ্ম নাম) নামে একটি মেয়ে।

বর্তমানে অনেক দেয়ালে ও পোস্টারে লেখা থাকে শিক্ষিকা চাই। কিন্তু এ বিজ্ঞাপনের পিছনে রয়েছে মরণ ফাঁদ যা একটি সুন্দর সাজানো গুছানো জীবনকে ধ্বংশ করে দিতে পারে মুহুর্তের মধ্যে।

এ রকম অনেক ঘটনা ঘটেছে আমাদের এ নগর জীবনে। তেমনি একটি ঘটনার বর্ননা দিয়েছে সপ্না (ছদ্ম নাম) নামে একটি মেয়ে।

সপ্না বলেন, আমি ইউনিভার্সিটির হল থেকে বের হওয়ার সময় হলের গেইটের পাশের দেয়ালে "শিক্ষিকা চাই" নামে একটা পোস্টার দেখতে পাই।

সেখানে লিখা ছিল "ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ২য় শ্রেণির ছাত্রকে পড়াতে হবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবা বুয়েটের যে কোন ডিপার্টমেন্টের ছাত্রী আবশ্যক"

বিজ্ঞাপনটি দেখে আমার আশার আলো জাগে কারন এ মুহুর্তে একটা টিউশনি খুবই প্রয়োজন। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা আর ছোট ভাইয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নেয়ার সাথে সাথে আমার খরচটাও চালানো যাবে।

এটা ভেবে আমি দেরি না করে পোস্টারে প্রদত্ত ফোন নাম্বারটিতে যোগাযোগ করি ,মোটামুটি সব কিছুই নির্ধারণ করে দেয়া হল, সপ্তাহে ৩ দিন মনোযোগ সহকারে বেশি সময় ধরে পড়াতে হবে। তার বিনিময়ে আমাকে দেয়া হবে মাসে ৫০০০ টাকা।

আমি অনেক খুশি হয়ে গেলাম, মনে হলো আকাশের চাঁদ হাতে পেয়ে গেলাম, এই ৫০০০ টাকা দিয়ে এখন আমার মা-ভাইয়ের জন্য অনেক কিছুই করতে পারবো বলে মনে মনে ভাবছিলাম।

তাই নির্ধারিত দিনেই আমি ছাত্রের বাসায় গিয়ে উপস্থিত হলাম। কলিং বেল চাপার পর কেউ একজন দরজা খুলে দিল, ঘরে ঢোকার পর এমন কিছু ঘটলো যার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

দু-তিনজন লোক আগে থেকেই আমাকে দেখতে পেয়েছিল।

আমি বাসার দরজা দিয়ে প্রবেশের সাথে সাথেই আমার উপর পশুর মত ঝাপিয়ে পড়ে সেই লোকগুলো, কয়েক ঘন্টা পাশবিক নির্যাতনের পর আমার জীবনে অন্ধকার নেমে আসলো, মনে হলো আমার সুন্দর জীবনটা একটা ভুলের কারনে ধ্বংশ হতে চলেছে।

তারা আমার জীবননাশের ভয় দেখিয়ে তারা বাসা থেকে আমাকে বের করে দেয়। বিধ্বস্ত ও হতাশা নিয়ে হলে ফিরে আসলাম। কারো সাথে বিষয়টা শেয়ারও করতে পারছিলামনা।

তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়। এরপর শুরু হলো অন্য ঘটনা, তারা আমাকে যে পাশবিক নির্যাতন করেছিল তার ভিডিও টেপ করার সেই দৃশ্য ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবে বলে আমাকে ব্লাকমেইল করতে থাকে।

এখন এ মেয়েটির আত্মহত্যা ছাড়া কি আর কোন পথ আছে?

আপনাদের সবার জানা আছে টিউশনির নাম করে এমন অনেক ঘটনা আমাদের চারপাশে হরহামেশাই ঘটছে।

কয়েকটা নির্দিষ্ট গ্রুপ আছে যারা এইসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে, কিন্তু এরা ধরা ছোয়ার বাইরে। তাই নিজেদের সচেতন হতে হবে,একা একা অপরিচিত জায়গায় টিউশনিতে গেলে অবশ্যই সাথে কাউকে নিয়ে যাওয়া উচিত।

আরও একটা বিষয়,ক্লাশ "টু" এর বাচ্চা পড়াতে ঢাবি,বুয়েটের স্টুডেন্ট কেন লাগবে? তাও আবার ছাত্রী আবশ্যক!!!

সময়ের তুলনায় টাকার পরিমাণ কি একটু বেশি? ইত্যাদি বিষয়ে খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে টিউশনিতে যাওয়া উচিত।

মনে রাখবেন,ছোট্ট একটি বাজে ঘটনা সাজানো গুছানো সুন্দর একটি জীবনকে সুনামির মত ধ্বংস করে দিতে পারে।

এসএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *