মঙ্গলবার ৩০, নভেম্বর ২০২১
EN

জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জামায়াতের

ডিজেল, কেরোসিন ও এলপি গ্যাসসহ জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

ডিজেল, কেরোসিন ও এলপি গ্যাসসহ জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম শনিবার এ বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার কোনো কারণ ছাড়াই ৩ নভেম্বর ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে। পূর্বে লিটার প্রতি দাম ছিল ৬৫ টাকা, যা বর্তমানে ৮০ টাকা। অপর দিকে ১২ কেজির এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে ৫৪ টাকা। প্রায় প্রতিমাসেই এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করে সরকার একতরফাভাবে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনগণের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে। এর মধ্যে তেল ও গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রভাব সকল কিছুর মধ্যে পড়বে।

জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রী, সেচ, কৃষিপণ্য ও পরিবহন ভাড়াসহ সকল ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইতোমধ্যে ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে পরিবহন বন্ধ থাকায় নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এমনিতেই মানুষ অনেক কষ্টে জীবন-যাপন করছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের এই অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি জনগণের জন্য ‘মরার উপর খাড়ার ঘাঁ’ হয়ে দাঁড়াবে। আমরা সরকারে এই অযৌক্তিক ও অন্যায্য সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এ টি এম মাছুম বলেন, দেশব্যাপী করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে চাকরি হারিয়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে দেশের মানুষ অত্যন্ত অসহায় জীবন-যাপন করছে। খেটে খাওয়া মানুষের তিন বেলা ডাল-ভাত খেতেই অনেক কষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি ‘দ্য পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার’ এবং ‘ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের’ এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশে ৩ কোটি ৫৪ লাখ লোক নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত খুবই অযৌক্তিক ও জনস্বার্থবিরোধী।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী এই সরকারের জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও সরকার দলীয় লোকজনের স্বার্থ হাসিলেই ব্যস্ত ক্ষমতাসীনরা। আর এ কারণেই আবারো তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।

অবিলম্বে ডিজেল, কেরোসিন ও এলপি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী যাতে জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বিজ্ঞপ্তি।

এবিএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *