বুধবার ৮, ডিসেম্বর ২০২১
EN

টিভিগুলোতে পে-চ্যানেল সিস্টেম চালু হবে

ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া শেষে টিভি চ্যানেলগুলোকে পে-চ্যানেল সিস্টেমের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিশ্ব টেলিভিশন দিবস উপলক্ষে আজ রোববার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স—অ্যাটকো আয়োজিত আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি।

ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া শেষে টিভি চ্যানেলগুলোকে পে-চ্যানেল সিস্টেমের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিশ্ব টেলিভিশন দিবস উপলক্ষে আজ রোববার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স—অ্যাটকো আয়োজিত আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি।

বিশ্ব টেলিভিশন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠকে টেলিভিশন শিল্প উন্নয়নে পরিকল্পনা ও গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। অ্যাটকোর নবনির্বাচিত সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী অনুমোদনহীন আইপি টিভি বন্ধ এবং টেলিভিশনের মান রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানান।

এ সময় অঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘আইপি টিভি এবং বিভিন্ন ধরনের অনলাইন চ্যানেলে প্রচারিত কনটেন্টগুলো যেমন বস্তুনিষ্ঠ নয়, তেমনি একই সঙ্গে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব কনটেন্ট ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির বিষয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার ছড়ানোর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। আমরা আশা করছি যে সরকার অনুমোদনহীন, অনিবন্ধিত আইপি টিভি বন্ধ করবে।’

অ্যাটকোর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ জানান, খুব শিগগিরই পে-চ্যানেল সিস্টেম কার্যকর হবে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নিজস্ব ইচ্ছা অনুযায়ী পে-চ্যানেলের আওতায় আসতে পারবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি যে আমরা ধীরে ধীরে এই ক্যাবল অপারেটিং সিস্টেমকে ডিজিটালাইজড করতে পারব। করতে পারলে তখন পে-চ্যানেল হিসেবে যে কেউ আত্মপ্রকাশ করতে পারবে। পে-চ্যানেল হবে সেটি তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত।’

ক্লিন ফিড ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর দেশীয় চ্যানেলগুলো লাভবান হচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশি চ্যানেলগুলোর প্রচারে আরো শৃঙ্খলা আনা হবে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে যে ক্লিন ফিড হওয়ার কারণে এই টেলিভিশন শিল্প যে ৫০০ কোটি টাকার বা ৭০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন হারাত, সেই বিজ্ঞাপনগুলো এখন টেলিভিশনগুলো পাওয়া শুরু করেছে। সম্প্রচার আইন সেটিও অনেক দূর এগিয়েছে। আমরা পার্লামেন্টে পাঠাতে পারব বলে আশা করছি। গণমাধ্যম কর্মী আইন আগেই হবে।’

বিশ্ব টেলিভিশন দিবসে বৈঠক আয়োজনের জন্য অ্যাটকোকে ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আগে একটি টেলিভিশন ছিল, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বেসরকারি টেলিভিশনের যাত্রা শুরু করেছিলেন। আজকে একে একে ৩৪টি টেলিভিশন সম্প্রচারে আছে, আরো কয়েকটি প্রস্তুতি নিচ্ছে, ৪৫টির লাইসেন্স দেওয়া আছে। সাংবাদিক, কলাকুশলী ছাড়াও টেলিভিশন শিল্পে সব মিলিয়ে প্রায় লাখখানেক মানুষ যুক্ত। আরো অনেকেই কন্টেন্ট ও বিজ্ঞাপন বানায় ও বিক্রি করে। প্রায় পাঁচ কোটি বাড়িতে টেলিভিশন আছে। প্রচণ্ড ব্যস্ত মানুষটিও একটি সময় একটু হলেও টেলিভিশন দেখেন, আমিও দেখি। সবকিছু দেখার সময়-সুযোগ হয় না, খবর দেখি।’

টেলিভিশনকে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের একটি অংশ বর্ণনা করে ড. হাছান বলেন, ‘অনেকের ঘরে টেলিভিশন না থাকলেও দেখা যায় চায়ের দোকানে বসে টেলিভিশনে নাটক, সিনেমা দেখছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি মানুষের জীবনের ওপর টেলিভিশনের একটা প্রভাব আছে। পুরো টেলিভিশন শিল্পটা জীবন গঠনে ভূমিকা রাখবে। টেলিভিশন জীবন, সমাজ, দেশ গঠনে এবং রাষ্ট্রকে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য টেলিভিশন কাজ করবে, এটিই বিশ্ব টেলিভিশন দিবসে আমার প্রত্যাশা।’

‘প্রধানমন্ত্রী টেলিভিশন লাইসেন্সগুলো একজন একজন করে দিয়েছেন, কোনো টেন্ডারের মাধ্যমে নয়’ স্মরণ করিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যাদের উপযুক্ত মনে করেছেন তাদের দিয়েছেন, যাতে দেশ, সমাজ, সাংবাদিকরা উপকৃত হবে এবং একইসাথে দেশ ও সমাজ গঠনে অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তাই এ দিবসে আমার বিনীত অনুরোধ, আমরা যেন দেশাত্মবোধ, মমত্ববোধ, মূল্যবোধ এবং মেধায় সমৃদ্ধ একটি নতুন প্রজন্ম গঠনে এই টেলিভিশন শিল্পকে কাজে লাগাতে পারি, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করব।’

টেলিভিশন শিল্পের উন্নয়নে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপগুলো নিয়ে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অনেক সমস্যা সমাধান হয়েছে এবং অনেক সমস্যা আছে। বাংলাদেশে বিদেশি যে কোনো চ্যানেল সম্প্রচার করতে পারে। তবে তাকে আইন অনুযায়ী ক্লিনফিড পাঠাতে হবে। বাংলাদেশের কেউ কেউ বিদেশি চ্যানেলগুলোর ফিড ক্লিন করার দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। কারণ, আইন অনুযায়ী ক্লিনফিড পাঠানো বিদেশি চ্যানেলগুলোরই দায়িত্ব। তারা নেপাল, শ্রীলংকা, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাঠায়, সেখানে বাজার অনেক ছোট। আর আমাদের দেশে পাঠাবে না, আমরা দায়িত্ব নিয়ে ক্লিনফিড করব, তার প্রয়োজন নেই। ক্যাবল নেটওয়ার্কে টিভির ক্রম ঠিক ছিল না, এখন হয়েছে। ক্যাবল অপারেটররা নিজেরাই বিজ্ঞাপন দেখাতো, সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে এটি দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়েছি।’

বিদেশি শিল্পীদের দিয়ে বিজ্ঞাপন বানালে শিল্পীপ্রতি দুই লাখ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হবে। এতে আমাদের শিল্পীরা উপকৃত হবে উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, মানুষকে ভাবায়, কাঁদায় এমন অনেক দেশি বিজ্ঞাপন আছে। বিদেশি বিজ্ঞাপনকে ডাবিং করে এখানে প্রচার বন্ধ করার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করেছি, পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ক্লিনফিড হওয়ার কারণে দেশের টেলিভিশন শিল্প যে পাঁচশ বা সাতশ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন হারাতো সেগুলো এখন দেশের টিভিগুলো পাওয়া শুরু করেছে।

‘দেশে টেলিভিশনগুলোর রেটিং বা টিআরপি একটা সংস্থা করতো, অন্যান্য দেশে কিভাবে করা হয়, বিশেষ করে ভারতে কিভাবে করা হয় অনেকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা একটা সিদ্ধান্ত এসেছি এবং খুব সহসা আমরা এতে শৃঙ্খলা আনবো’, জানান তিনি।

ক্যাবল অপারেটিং সিস্টেম ডিজিটাল করা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সেটি একদিনেই চট করে হয়ে যাবে না, সেটিকে আমরা ভাগ করে দিয়েছি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রথম, পরে মেট্রোপলিটন শহর, পুরনো জেলা শহর, তারপর অন্যান্য জেলা শহরগুলোতে করব। এজন্য সবার সহযোগিতা ও প্রচার প্রয়োজন, কারণ মানুষকে সেট টপ বক্স নিতে হবে। এতে সরকারের বক্তব্য স্পষ্ট। জনগণের ওপর যাতে অযাচিতভাবে বেশি টাকায় সেট টপ বক্স বিক্রি করা না হয় সেটা আমরা মনিটর করব।

অনুষ্ঠানে অপর বক্তারা দেশে টেলিভিশনকে বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং এই শিল্পের বিকাশে সরকারের অব্যাহত সহায়তা কামনা করেন। টেলিভিশনকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আবেদন রাখেন তারা।

অ্যাটকোর সভাপতি অঞ্জন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সিনিয়র সহসভাপতি ডিবিসি২৪ চ্যানেলের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীর পরিচালনায় বৈঠকে প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ, প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, অ্যাটকোর সহসভাপতি ও দেশ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হাসান, অ্যাটকোর পরিচালক, আরটিভির ভাইস চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, অ্যাটোকোর পরিচালক ও এনটিভির পরিচালক মোহাম্মদ আশফাক উদ্দিন আহমেদ, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান, বাংলাভিশনের আব্দুল হক, সময় টিভির আহমেদ জোবায়ের, নাগরিক টিভির ড. রুবানা হকসহ অ্যাটকোর নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *