সোমবার ১৭, জানুয়ারী ২০২২
EN

ডিএসসিসির সাবেক প্রশাসক খলিলের জালিয়াতির নথি দুদকে চাপা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রথম প্রশাসক মো. খলিলুর রহমানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতি, প্রতারণা এবং অবৈধভাবে নীলক্ষেতে ১১২টি দোকান অস্থায়ী বরাদ্দের নামে ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রথম প্রশাসক মো. খলিলুর রহমানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে  জমি জালিয়াতি, প্রতারণা এবং অবৈধভাবে নীলক্ষেতে ১১২টি দোকান অস্থায়ী বরাদ্দের নামে ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

কিন্তু গত এক বছর যাবৎ অভিযুক্ত ৮ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পাঠানো নথিটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের দফতরে চাপা পড়ে রয়েছে।

অভিযুক্ত ওই ৮ কর্মকর্তার হলেন, ডিএসসিসির সাবেক প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান, সাবেক প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন, সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা দিদারুল আলম, কানুনগো মো. আলী, সার্ভেয়ার মুরাদ হোসেন, সার্ভেয়ার সৈয়দ রুমান এবং নীলক্ষেত ওই মার্কেটের দোকার-মালিক সমিতির সভাপতি একেএম শামসুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন।

জানা যায়, ওই জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল্লাহ আল হারুনকে আহবায়ক এবং প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, বাজার সার্কেলের  নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, উপ প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী সরদার, সহকারি আইন কর্মকর্তা এসএমকরীম খান।

এ কমিটির কর্মকর্তারা ২০১৩ সালে ৩ এপ্রিল প্রশাসকের দফতরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা,সচিব এবং দুদকের চেয়ারম্যানের দফতরসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেন।

অথচ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৮ জালিয়াতির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফৌজদারি এবং  বিভাগীয় মামলার সুপারিশ রয়েছে। কিন্তু গত এক বছরে ডিএসসিসিও রহস্য জনক কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি এবং বিভাগীয় মামলা দায়ের করেনি।

তারা শুধু মাত্র দুদকে তদন্ত প্রতিবেদনের একটি কপি পাঠিয়েই নিরব রয়েছেন। এ সুযোগে নীলক্ষেত এলাকায় জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে অস্থায়ী দোকান বরাদ্দ প্রাপ্তরা ইতোমধ্যে চার তলা মার্কেট নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। 

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে নীলক্ষেত লেপতোষকের মাকের্টের ছাদ এবং সংলগ্ন  প্রায় সোয়া এক বিঘা জমিতে চারতলা পর্যন্ত ছাদের উপর ছাদ নির্মাণ করে নেয়ার জন্য ব্যবসায়িদের অস্থায়ি ১১২টি দোকন বরাদ্দ দেয়া হয়। আর এ ১১২ টি দোকানের আবেদনকারীদের নামের তালিকায় মাত্র ১০/১৫ জনই স্বাক্ষর করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়,২০১২ সালে ১ এপ্রিল সাবেক আইনপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের সুপারিশ সম্বলিত একটি আবেদন পত্রের উপর ভিত্তি করে ১৪ এপ্রিল কানুনগো মোহাম্মদ অলী ১১২টি দোকান বরাদ্দের পক্ষে প্রশাসকের নির্দেশ রয়েছে বলে নথি সম্পত্তি বিভাগে উপস্থাপন করেন।

ওই নথিতে সার্ভেয়ার সৈয়দ রুমান, সার্ভেয়ার মো. মুরদ হোসেন ১৯ এপ্রিল দোকান বরাদ্দের প্রস্তাবের পক্ষে মতামত দেন। ২৩ এপ্রিল সম্পত্তি কর্মকর্তা দিদারুল আলম এবং ৩০ এপ্রিল প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বরাদ্দের পক্ষে নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন মন্তব্য করেন। পরে তৎকালীন প্রশাসক মা. খলিলুর রহমান ২০১২ সালে ১০ মে লিখিতভাবে ১১২টি দোকান বরাদ্দের নির্দেশ দেন।

তার নিদের্শে ১১২টি দোকানের মধ্যে প্রথম তলায় দোকান (নং-৫০/১-৮৪) ৩৮টি, প্রথম তলার ছাদে দোকান (নং ১-৩৭) ৩৭টি, দ্বিতীয় তলার ছাদে দোকান (নং-১-৩৭) ৩৭টি রয়েছে।দোকান বরাদ্দের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ১৬ কর্মকর্তাকে প্রদানের কথা থাকলেও বাস্তবে কাউকে অনুলিপি দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনছার আলী খান বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এছাড়া তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন কোথায়, কি অবস্থায় আছে তাও  তিনি জানেন না। অথচ গত ২ বছরের অধিক সময় মোহাম্মদ আনছার আলী খান ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন।

ঢাকা, একে, ২৩ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *