শুক্রবার ৩, ফেব্রুয়ারি ২০২৩
EN

ডেসটিনির বিরুদ্ধে চার্জশিট আগামী সপ্তাহে

আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে বহুল আলোচিত ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে ৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা আত্মসাতের দুই মামলার চার্জশিট ঢাকা সিএমএম আদালতে জমা হচ্ছে। ডেসটিনি গ্রুপের এমডি মোহাম্মদ রফিকুল আমীন এবং চেয়ারম্যান লে.জে. (অব) এম হারুন অর রশিদসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে

আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে বহুল আলোচিত ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে ৩ হাজার ২৮৫ কোটি  টাকা আত্মসাতের দুই মামলার চার্জশিট ঢাকা সিএমএম আদালতে জমা হচ্ছে। ডেসটিনি গ্রুপের এমডি মোহাম্মদ রফিকুল আমীন এবং চেয়ারম্যান লে.জে. (অব) এম হারুন অর রশিদসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এই চার্জশিট দাখিল করা হচ্ছে। নাম না প্রকাশের শর্তে এই বিষয়টি টাইমনিউজবিডিকে নিশ্চিত করেছেন দুদক চেয়ারম্যানের দফতরের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং মামলার একজন তদন্ত কর্মকর্তা। গত ১৬ জানুয়ারি কমিশনের এক সভায় ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে মানিলন্ডরিংয়ের ২ মামলায় ৫১ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয়া হয়। অভিযোগের সঙ্গে আরো প্রায় ১ হাজার পৃষ্ঠার তথ্য উপাত্ত রয়েছে। মামলার চার্জশিটের বক্তব্যের সঙ্গে ওইসব অভিযোগের প্রমাণাদি সেটাপ  নিয়ে গত দুই মাসের বেশি সময় পাড় করছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিচালক  মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক  মো. তৌফিকুল ইসলাম। একই সঙ্গে এই দুই মামলার চার্জশিটের অনুমোদনকালে ডেসনিটি গ্রুপের মালিকদের সহযোগিতার সুনিদিষ্ট অভিযোগে সমবায় অধিদফতরের অতিরিক্ত নিবন্ধক,যুগ্ম নিবন্ধক উপনিবন্ধক,জেলা সমবায় অফিসারসহ ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সিন্ধান্ত হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেড  প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে দুই হাজার ৩৩৫  কোটি ৫৭ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা সংগ্রহ করেছে। ৬ কোটি ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩০টি গাছ লাগানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৭৮৪টি গাছ লাগিছে। বাকি দুই হাজার ১০৬  কোটি ৬৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা গাছ না লাগিয়েই আত্মসাৎ করা হয়েছে। আর ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. মাধ্যমে সাড়ে ৮ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে ৪৬ শতাংশ লাভ দেয়ার কথা বলে ১ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছে। এরমধ্যে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ১ হাজার ১৭৮ কোটি ৬১ লাখ ২৩ হাজার ২৪ টাকা মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। এই অভিযোগে গত বছর ৩১ জুলাই কলাবাগান থানায় মানিলন্ডারিং আইনে ২ মামলা নং ৩১ ও ৩৩ দায়ের করে দুদক। ৩১ নম্বর মামলায় আসামি ১৯ এবং ৩৩ নম্বর মামলায় আসামি ২২ জন। এরমধ্যে ১৪ জন উভয় মামলার আসামি রয়েছেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই ২ মামলায়  পুরনো ২২  আসামির সঙ্গে নতুন আরো ২৪ জনকে চার্জশিটে  অন্তভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া চার্জশিটে উভয় মামলায় কমন আসামী ১৪ জন রয়েছেন। গত ৬ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক  মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক  মো. তৌফিকুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। দুই মামলায় ২২ আসামির মধ্যে  রফিকুল আমীন,তার স্ত্রী ফারাহ দীবা,মোহাম্মদ হোসাইন,সাবেক সেনা প্রধান (লে.জে অব.) হারুন অর রশিদ,গোফরানুল হক,সাঈদ-উর-রহমান,মেজবাহ উদ্দিন স্বপন,  সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন,ইরফান আহমেদ সানি,জমসেদ আরা চৌধুরী, শেখ  তৈয়বুর রহমান, নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস,লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম, জাকির হোসেন, আজাদ রহমান, আকরাম হোসেন সুমন, শিরিন আক্তার,রফিকুল ইসলাম সরকার,মজিবুর রহমান,সুমন আলী খান,সাইদুল ইসলাম খান ও আবুল কালাম আজাদ। নতুন আসামির মধ্যে রয়েছেন, মেজর (অব.) শফিকুর রহমান হক,এ এসএম আহসানুল কবির,এএইচ এম আতাউর রহমান,মো. গোলাম কিবরিয়া,মো. আতিউর রহমান,বেনজির আহমেদ,একেএম শফিউল্লাহ, শাহ আলম,দেলোয়ার হোসেন,এম হায়দারুজ্জামান,জয়নাল আবদীন, কাজী ফজলু করিম,মো. আলামিন,বাগের হাটের জিয়াউর হক, বনানী ইসলাম ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের মালিক শফিউল ইসলাম, মোসাম্মদ জেসমিন আক্তার, ফিরোজ আলম, শাহজাত পুরের সেতু ইন্টারন্যাশনালের মালিক সিকদার কবিরুল ইসলাম, বনানী মমতাজ এন্টাপ্রাইজের মালিক ওমর ফারুক, ডেসিটিনির গোলাম হোসেন, সুনিল বরণ কর্মকার, এম শহিদুজ্জামান, আবদুর রহমান, ফরিদা আক্তার এবং শরিফুল হক। [b]ঢাকা, একে, ১৮ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *