রবিবার ২৭, নভেম্বর ২০২২
EN

ডা. শাকির বিন ওয়ালী নির্দোষ, দাবি পরিবারের

রাজধানীর রামপুরা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিচয়ে সদ্য এমবিবিএস পাস করা শাকির বিন ওয়ালী নামে এক চিকিৎসকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করা হলেও পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। সংস্থাটি বলছে, শাকির নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রামপুরা থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় চিকিৎসক শাকির বিন ওয়ালীসহ দুজনকে পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ডে যাওয়া অন্য জন হলেন আবরারুল হক ভিলা। দুই জনকে আদালতে হাজির করে তাদের ১০ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক এস এম মিজানুর রহমান। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবির তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তবে শাকিরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে তার পরিবার। পরিবারের বক্তব্য - শাকিরকে বেআইনি ভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আড়াল করার জন্য এমন অভিযোগ আনা হচ্ছে। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সকল অভিযোগ ভুল প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জও করা হয় পরিবার থেকে। বুধবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে ডা. শাকিরের বাবা চিকিৎসক এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ বলেন, বিভিন্ন পত্র পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারছি যে, তাকে কিছু মিথ্যা, বানোয়াট মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার ছেলে কোনও রাজনৈতিক দল বা কোনও সংগঠনের সঙ্গে কখনও জড়িত ছিল না। তিনি আরও বলেন, আমরা শাকিরকে অন্যায় ভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেবো। আইনের মাধ্যমেই প্রমাণ করবো আমার ছেলে নির্দোষ। সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শাকিরের স্ত্রী আয়শা বিন্তে মুস্তাফিজ ও ছোট বোন লাবিবা বিন্তে ওয়ালী।

সিটিটিসি জানায়, শাকির বিন ওয়ালীকে মঙ্গলবার রাজধানীর রামপুরার হাজীপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাকিরের বাবা এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞ ও সার্জন। তিনি বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে পূর্ব হাজীপাড়ার ৬৮/১ নম্বর বাসায় তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন। গত রোববার বেলা তিনটার দিকে সিআইডি পরিচয়ে সাদাপোশাকে চার ব্যক্তি বাসায় যান। তখন পেশাগত কাজে তিনি (ওয়ালী উল্লাহ) বাইরে ছিলেন। তারা শাকিরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে নিয়ে যান। তারা নিজেদের নাম-রিচয় না জানিয়ে শুধু বলেছেন, ‘আমরা সিআইডির লোক’।

বাবা ওয়ালী উল্লাহ আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি রামপুরা থানায় যোগাযোগ করেন। থানা থেকে বলা হয়, পুলিশ এ ব্যাপারে কিছু জানে না। সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চাইলে পুলিশ সেটি নেয়নি। ওয়ালী উল্লাহ বলেন, থানা থেকে ফেরার পর ওই দিনই রাত ১০টার দিকে চার থেকে পাঁচজনের একটি দল আবার বাসায় আসে। তারা নিজেদের সিআইডির লোক বলে পরিচয় দেন। পরে শাকিরের ঘর তল্লাশি করে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যান। এখন শাকিরকে জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তারের কথা জানাল সিটিটিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *