শুক্রবার ৩, ডিসেম্বর ২০২১
EN

ঢাকায় মশকের উপদ্রব

করোনা ভাইরাস নিয়ে সম্প্রতি গোটা বিশ্বেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাস মহামারীর রূপ নিলেও আমরা এখনও কিছুটা নিরাপদে আছি। স্বাস্থ্য বিভাগ দেশকে করোনামুক্ত ঘোষণা করলেও এই কথায় কেউই আস্থা রাখতে পারছে না। সঙ্গত কারণেই আমরাও সতর্কাবস্থায় আছি।

করোনা ভাইরাস নিয়ে সম্প্রতি গোটা বিশ্বেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাস মহামারীর রূপ নিলেও আমরা এখনও কিছুটা নিরাপদে আছি। স্বাস্থ্য বিভাগ দেশকে করোনামুক্ত ঘোষণা করলেও এই কথায় কেউই আস্থা রাখতে পারছে না। সঙ্গত কারণেই আমরাও সতর্কাবস্থায় আছি।

এমতাবস্থায় এই ভাইরাসের বিস্তৃতি মোকাবেলায় মানুষ স্বাভাবিক চলাফেরা সীমিত করে দিয়েছে। অবলম্বন করা হচ্ছে নানাবিধ সতর্কতা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমাদের দেশেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশকে করোনামুক্ত ঘোষণার পরও এই বিষয়ে অতিসতর্কতা দেখা যাচ্ছে। অথচ মশক সমস্যা ঢাকা নগরীসহ সারাদেশেই জনজীবন দুর্বিষহ করে তুললেও বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু মশাবাহিত রোগগুলোও করোনার চেয়ে কোন অংশে কম নয় বরং ক্ষেত্র বিশেষে আরও ভয়াবহই বলতে হবে।

শুধু ঢাকা নগরীতেই নয় বরং সারাদেশেই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে মশকের উপদ্রব। ঢাকা সিটিতে এই সমস্যা এখন খুবই বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, বর্জব্যবস্থাপনায় নৈরাজ্য, পয়ঃনিষ্কাশনে অপ্রতুলতা, সেকেলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নগরীর অভ্যন্তরে খানা-খন্দক ও অপরিচ্ছন্ন জলাশয়, নগর ব্যবস্থাপনায় গতিহীনতা, সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও ব্যর্থতার কারণেই নগরীর এই সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। মশক নিধন বা নিয়ন্ত্রণের জন্য সিটি কর্পোরেশন মাঝে মাঝে মশা নিরোধী ঔষধ ছিটালেও তা পোড়া কেরোসিনের গন্ধ ও মেশিনের বিকট শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সিটি কর্পোরেশন মানহীন ঔষধ ছিটিয়ে নিজেদের দায় সারার চেষ্টা করছে বলে জনমনে অভিযোগও রয়েছে। ফলে ঢাকা নগরীতে মশক সমস্যা এখন প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় পুরো নগরীতে মশকবাহী রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অবস্থা সেদিকে গড়ালে তা জাতীয় বিপর্যয়ও সৃষ্টি করতে পারে বলেই অনেকেই ধারণা করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা কোন রোগ তৈরি করে না। তবে তা যদি কোন জীবাণু দিয়ে আক্রান্ত অবস্থায় মানুষকে কামড়ায়, তাহলেই শরীরে রোগ দেখা দিতে পারে। এই জীবাণু হতে পারে কোন ভাইরাস। মশাবাহিত রোগের মধ্যে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, গোদরোগ আর চিকুনগুনিয়া অন্যতম। এছাড়া মস্তিষ্কে সংক্রমণ (Encephalitis), পীতজ্বর (Yellow Fever) এই দুইটি অসুখও মশার কারণে হতে পারে।

মশাবাহিত অন্যতম রোগ হলো ডেঙ্গু। সাধারণত এডিস মশা এই ভাইরাসের বহন করে। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করলে রক্তনালী ভঙ্গুর হয়ে যায়। বিভিন্ন রক্তকোষ কমে যায় এবং যকৃত বিকল হয়ে পড়ে। আর চিকনগুনিয়াও একটি মশাবাহিত রোগ। এই রোগে শরীর ও গিঁটে ব্যথা বেশি তীব্র হয়, অনেক সময় গিঁটের নড়াচড়া কঠিন হয়ে পড়ে। প্রচন্ডভাবে, শরীরে ঠান্ডা অনুভূতি, বমি ভাব বা বমি, মাংসপেশিতে ব্যথাও এই রোগের লক্ষণ।

ম্যালেরিয়াও মশাবাহিত রোগ। স্ত্রী প্রজাতির এনোফিলিস মশা যদি প্লাজমোডিয়াম নামের পরজীবী দিয়ে আক্রান্ত হয়, আর সেই পরজীবী কামড়ের মাধ্যমে মানব শরীরে প্রবশে করে, তবেই ম্যালেরিয়া হয়। উচ্চমাত্রার জ্বরের সাথে শরীর ব্যথা, পেটে ব্যথা হতে পারে। রক্ত কমে যায়, যকৃত, প্লীহা ফুলে যেতে পারে। আর গোদরোগের আরেকনাম ফাইলেরিয়াসিস। এটি কয়েক ধরণের কৃমিজাতীয় জীবাণু দিয়ে হয়। মশা কামড় দিয়ে এই রোগ ছড়ায়। এটি শরীরের লসিকাগ্রন্থি আক্রান্ত করে। অনেক সময় পা, হাত ফুলে মোটা হয়ে যায়। মূলত মশাবাহিত সব রোগই যন্ত্রণাদায়ক। অনেক সময় এসব প্রাণহানির কারণ হিসেবেও দেখা দেয়। তাই মশক নিধনে নির্লিপ্ত থাকা কোনভাবেই কাম্য নয়।

স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীরা মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে বারবার সতর্ক করলেও আমাদের দেশে বিশেষ করে ঢাকা নগরীতে মশক নিধনে কার্যকর ও স্থায়ী কোন ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। অথচ গুরুত্ব বিবেচনায় এই কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া দরকার। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন তা খুব একটা ফলদায়ক হয় না। মূলত মশক নিধনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ও উদাসীনতার কারণেই পুরো ঢাকা নগরীই এখন মশকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শীতকালের পর বসন্তের শুরুতেই ঢাকার দুই সিটিতে আশঙ্কাজনকভাবে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতসহ এমন কোন স্থান নেই যেখানে মশার উপদ্রব নেই।

বর্ষা মওসুম আসার আগেই অনাকাঙ্খিতভাবে মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় মশাবাহিত রোগ-বালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি গত বছরের মত এবারও সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গুভীতিও পেয়ে বসেছে। এমতাবস্থায় নগরীতে মশা নিয়ন্ত্রণে অনতিবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য প্রাথমিকভাবে মশা নিধনের জন্য সম্ভাব্য প্রজননের স্থানগুলোতে মানসম্পন্ন ও কার্যকর ওষুধ ছিটানোর পরামর্শ আসছে বিভিন্ন মহল থেকেই। কিন্তু এই কর্মসূচি আগে থেকেই চলমান থাকলেও ঔষধের মানহীনতা ও সেবা কার্যক্রম দায়সারা গোছের হওয়ায় এ থেকে কোন ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

এক্ষেত্রে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতাও মোটেই সুখকর নয়। গত বছর এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে ঢাকা নগরীসহ সারাদেশেই। এই রোগে আক্রান্ত হন কয়েক লাখ মানুষ। এমতাবস্থায় মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম গ্রহণ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। কিন্তু সমালোচনা শুরু হয় ওষুধের মান, কার্যকারিতা ও কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা নিয়ে। এমনকি সৃষ্ট জটিলতা নিয়ন্ত্রণে ও ভয়াবহতা বিবেচনায় এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয় উচ্চ আদালতকেও। আর পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থতার জন্যই সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৩৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। অনেকটা বাধ্য হয়েই সরকার সে সময় ঢাকা সিটি সহ সারাদেশেই মশক বিরোধী কার্যক্রম জোরদার করে এবং ইতিবাচক ফলও পাওয়া যায়।
অবশ্য সে ধারাবাহিকতা বেশিদিন রক্ষা করা যায়নি। চলতি বছরের শুরু থেকেই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মশক নিধন কার্যক্রমে ভাটির টান লক্ষ্য করা গেছে। ফলে পুরা রাজধানী জুড়েই মশার উপদ্রব অনাকাক্সিক্ষতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এখন তা রীতিমত অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থীদের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল মশামুক্ত নগরী উপহার দেয়া। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

নগর প্রশাসনের দাবি, ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানে নানা ধরনের উদ্যোগ ও ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির পক্ষ থেকে এলাকা ভিত্তিক মশক নিধন কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি পরিচালনা করা হচ্ছে বিশেষ অভিযান। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল। এসময় ডেঙ্গু উপদ্রব অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু নগরবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার কারণেই গোটা নগরজুড়েই মশার উপদ্রব সহনীয় মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সূর্য ঢলে পড়তেই ঘরে-বাইরে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী। আর মশক দমনে করপোরেশনের কার্যক্রমকে ‘নামমাত্র’ বা দায়সারা গোছের বলেই মনে করছেন তারা।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরিপে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোর নাম উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, দুই সিটির মোট ১১টি ওয়ার্ডকে মশক ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে উত্তর সিটির ৫টি এবং দক্ষিণ সিটিতে ৬টি ওয়ার্ডের নাম উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, উত্তর সিটির ১, ১২, ১৬, ২০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড মশক ঝুঁকিতে রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে দক্ষিণের ৫, ৬, ১১, ১৭, ৩৭ এবং ৪২ নম্বর ওয়ার্ড। কিন্তু এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে মশক নিধনে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জোরালো অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সিটি কর্পোরেশনকেও রহস্যজনকভাবে নীরব থাকতে দেখা গেছে।

ঢাকা মহানগরীতে মশা উৎপন্নে অন্তত অর্ধশতাধিক জায়গা শনাক্ত করেছে সিটি কর্পোরেশন বলে দাবি করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে কিউলেক্স মশা জন্ম নিচ্ছে পয়ঃনিষ্কাশন খালে। আবার বেশির ভাগ খাল পড়েছে উত্তর সিটিতে। সিটি করপোরেশন দাবি, খালের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নয়। কিন্তু মশক নিধনের দায় সিটি করপোরেশনের। তাই ওয়াসা বা অন্যান্য সংস্থা খাল পরিষ্কার না করলেও সিটি করপোরেশনকে মশক নিধন করতে হয়। কিন্তু ভুক্তভোগীরা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের উল্লেখযোগ্য কোন সাফল্য নেই বরং প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে তাদের দায়দায়িত্ব। ফলে সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে।

বস্তুত, খাল ও জলাধার ছাড়াও নগরের বস্তি, রাস্তার পাশের ময়লার ভাগাড়, ঝোপঝাড়, টায়ারের দোকান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা মোটর যান মশা জন্মানোর জন্য খুবই সহায়ক। এছাড়া ঢালাই মেশিন, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা পলিথিন, কর্কসীট, বিভিন্ন মার্কেটের পরিত্যক্ত ছাদ, দুই বাড়ির মাঝের পেসেজে বৃষ্টির পানি ও ভবনের টাঙ্কির পানি জমে সেখানে মশা জন্মানোর সুযোগ পায়। নির্মাণাধিন ভবনে ঠিকাদার ও বাড়ি মালিকদের অসচেতনতায় সেখানে জন্ম নেয় এডিস ও কিউলেক্স উভয় ধরণের মশা। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকী। এসব মশা নিধনে সিটি করপোরেশন কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে নির্মাণাধীন ভবন মালিক ও ব্যবসায়িদের অসহযোগিতার বিষয়টিও বেশ জোরালো। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়কের পাশে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এসব পানিতে জন্ম নেয় বিভিন্ন ধরণের মশা। কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনের রাস্তা, বাংলামোটর মোড়, গাবতলী, সায়দাবাদ এর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কারো মাথা ব্যথার কারণ আছে বলে মনে হয় না।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, রাস্তার পাশে মশা জন্মালেও তা দেখার কেউ নেই। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হচ্ছে, ঢাকা শহরে যে পরিমাণ মশার ক্ষেত্র, ওষুধ দিয়ে তা শূন্যের কোঠায় নেয়া সম্ভব না। নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। ক্রাশ প্রোগ্রাম হচ্ছে, এটা চলমান কার্যক্রম। মশাকে একটা লেভেলে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকা শহরের মানুষ এবং এলাকার তুলনায় তাদের সক্ষমতা অপ্রতুল বলেও দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের এই বক্তব্যকে দায় এড়ানোর কৌশল বলেই মনে করছে সাধারণ মানুষ। আর এমনটি ভাবার যৌক্তিকতাও উপেক্ষা করার মত নয়।

ঢাকা নগরীসহ সারাদেশে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছলে বিষয়টিকে যেভাবে গুরুত্ব দেয়ার কথা সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। মশক নিধনে সিটি কর্পোরেশনের শুধুই কথামালার ফুলঝুড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ আছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অথচ জনস্বার্থে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেয়া উচিত বলে মনে করেন আত্মসচেতন মানুষ। কারণ, মশার মাধ্যমে অতিদ্রুত রোগ ছড়াতে পারে। আর তা সময়মত প্রতিরোধ করা না গেলে জাতীয় বিপর্যয়ও সৃষ্টি করতে পারে। প্রাণিবিজ্ঞানীদের ভাষায়, মশা এক প্রকারের ছোট মাছি প্রজাতির পতঙ্গ। যা বিভিন্ন রোগের জীবানু বহন করতে সক্ষম। অধিকাংশ প্রজাতির স্ত্রী মশা স্তন্যপায়ী প্রাণীর রক্ত পান করে থাকে। মেরুদন্ডী প্রাণীর, যেমন স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, সরীসৃপ, উভচর প্রাণী এবং এমনকি কিছু মাছের শরীর থেকে রক্ত শোষণ করে নানা প্রজাতির মশা।

যদিও যেসব প্রাণীর শরীর থেকে রক্ত শুষে নেয় তা তাদের শরীরের তুলনায় খুবই অল্প, কিন্তু কিছু মশা রোগজীবাণু সংক্রামক। মূলত এটিই হলো আতঙ্কের। মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া, পীতজ্বর, জিকা ভাইরাস প্রভৃতি রোগ সংক্রমিত হয়ে থাকে। তাই মশক নিধনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শৈথিল্য কাম্য হতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা নগরীতে মশক পরিস্থিতি খুবই জটিল আকার ধারণ করেছেন। পুরো মহানগরী এখন মশক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে বললে অত্যুক্তি হবার কথা নয়। বাসা-বাড়ী, অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি গণপরিবহনেও মশার উপদ্রব নগর জীবনকে অনেকটা বেসুরো করে তুলেছে। এমতাবস্থায় সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি ভিত্তিতে মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করা দরকার। আর তা দায়সারা গোছের হলে চলবে না বরং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অন্যথায় ঢাকা মহানগরীকে মশক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা সম্ভব হবে না।

লেখক: ইবনে নূরুল হুদা
inhuda71@gmail.com

(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)

 

এমবি 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *