শনিবার ২২, জানুয়ারী ২০২২
EN

ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্টের ৩ দিনব্যাপী বিজয় উৎসব উদযাপন

বাংলাদেশের ত্রিশ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্ট ৩ দিন ব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচীর মাধ্যমে বিজয় উৎসব উদযাপন করে।

অন্যান্য বছরের মতো এবারও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মানসূচক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া আলোচনা, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদির আয়োজন ছিল প্রতিদিনের অনুষ্ঠানে।

গত ১৫ ডিসেম্বর ডিসিএইচ ট্রাস্টের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ-এর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ সারিয়া তাসনিম এবং প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডা: মাহমুদর রহমান।

এই অনুষ্ঠানে এবারের ডিসিএইচ ট্রাস্টের সম্মননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় বীরমুক্তিযোদ্ধা ডা: এম. এ. মোবিনকে। ডা: মোবিন রণাঙ্গনে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা প্রতিদানকারী ভারতের মেলাঘরে ফিল্ড হাসপাতাল “বাংলাদেশ হাসপাতাল”-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন । তিনি বর্তমানে বৃটেনের কুইন মাদার হাসপাতালে পলি ট্রমা কনসালটেন্ট সার্জন হিসাবে কর্মরত আছেন।

অনুষ্ঠানে ডিসিএইচ ট্রাস্ট চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা: কাজী কামরুজ্জামান অঅমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভূমি আলোচনাকালে লন্ডনে বসবাসরত বাঙালী বিশেষ করে মেডিকেল ছাত্র ও চাকুরিরত ডাক্তারদের ভূমিকা সবিস্তারে আলোচনা করেন।

এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, একাত্তর সালে বাংলদেশ সরকার স্বাস্থ্যগত ও স্বাধীনতা আন্দোলনে কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন জানার জন্য ডা: মোবিন ও ডা: জাফরুল্লাহকে ভারতে প্রেরণ করা হয়।

ডা: মোবিন অনুষ্ঠানে তার মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। ডা: মোবিন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ সরকারের অনুমতিক্রমে ভারতে রয়ে গেলেন আর ডা: জাফরুল্লাহ বিলাতে ফিরে এসে বাংলদেশ সরকারের সাহায্যার্থে অর্থ উত্তোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলনকে জোরদার করার কাজে নিয়োজিত হলেন।

কিভাবে ভারতের মেলাঘরে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন ডা: মোবিন তার বিবরণ তুলে ধরেন। এসময় স্বত:স্ফূর্তভাবে বহু মেডিকেল ছাত্রছাত্রী এবং অন্যান্য যুবক যুবতী ভলান্টিয়ার হিসাবে সার্ভিস প্রদান করার জন্য হাসপাতালে যোগদান করে। হাসপাতালটি ২নং সেক্টরে ফিল্ড হাসপাতাল হিসাবে কাজ করে। অনেক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের এখানে চিকিৎসা করা হয়।

এই হাসপাতালে স্পিস্নন্টা ইনজির্উড হয়ে খালেদ মোশাররফ আসেন । ডা: মোবিন তাকে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তুলেন । স্বাধীনতার পর এই হাসপাতালটি গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা কমিউনিটি নার্সিং কলেজ ও ইন্সটিটিউ অব কমিউনিটি হেল্থ-বাংলাদেশ এর অনুষ্ঠান যেখানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ডা: মাখদুমা নার্গিস এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন কাজী হাবিবুর রহমান। এতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

৩য় দিনের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় ১৯ ডিসেম্বর। ডা: ওমর শরীফ ইবনে হাসান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক মো: শহীদুল ইসলাম।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ইতিহাস। তার মতো ক্ষণজন্মা নেতার জন্ম হয়েছিল বলেই বাংলাদেশের জন্ম সম্ভব হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধুর ২৩ বছরের সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশের প্রাচীন কাল থেকে এপর্যন্ত বাঙালীর ইতিহাসের উপর সংক্ষেপে আলোকপাত করেন। বাংলদেশের স্বাধীনতার পর স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের বিশেষ করে নারী সমাজের অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরেন। আলোচনায় আরো অংশগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা: আবদুল মালেক, প্রফেসর এ. এস. এম. মনিরুল আলম এবং ডা: আশরাফুল ইসলাম ইরফান। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃুতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ-উপলক্ষে বিকালে একটি পিঠা উৎসবেরও আয়োজন করা হয়।

টাইম নিউজ/এবিএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *