বুধবার ৭, ডিসেম্বর ২০২২
EN

দায় স্বীকার করলো তারেক সাঈদ

র‌্যাবের সাবেক ২ কর্মকর্তা মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানার পর এবার র‌্যাব ১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন

র‌্যাবের সাবেক ২ কর্মকর্তা মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানার পর এবার র‌্যাব ১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সাঈদ আদালতে এই খুনের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ বিবরণ দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার সকালে কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে দিয়ে র‌্যাব থেকে অবসরে পাঠানো তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কে এম মহিউদ্দিনের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা পৃথক ২টি মামলায় তারেক সাঈদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে বিকালে সাড়ে ৩টার দিকে কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দেন আদালত।

এদিকে এ মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে দ্রুত ভারতে থেকে দেশে ফেরত আনার দাবিতে আজ দুপুরে আদালতপাড়ায় আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন জানান, র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ আদালতে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার এবং হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ বিবরণ দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে র‌্যাবের সাবেক ২ কর্মকর্তা মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার স্বীকার করে এবং হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

এর আগে পঞ্চম দফায় গত ৯ জুন নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম চাঁদনী রূপমের আদালত তারেক সাঈদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের পর প্রথমে ৫ দিন, প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৫ জনকে হত্যার ঘটনায় দ্বিতীয় দফায় ৮ দিন, একই মামলায় তৃতীয় দফায় ৫ দিন, আইনজীবী চন্দর সরকারসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চতুর্থ দফায় ৫ দিন এবং ৬ষ্ঠ দফায় গত শনিবার আবার তারেক সাঈদকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

কে এই তারেক সাঈদ মাহমুদ

র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক হিসেবে নারায়ণগঞ্জে কর্মরত ছিলেন লেফটেনেন্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ। ছয় কোটি টাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জে প্যানেল মেয়র নজরুলসহ সাতজনকে হত্যার সাথে সম্পৃত্ততার অভিযোগে গত মে মাসেই তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

লেফটেনেন্ট কর্নেল তারেক সাঈদ বড় হয়েছেন সেনা পরিবারে। বাবা কর্নেল মুজিব সেনাবাহিনীর ইঞ্জিয়ারিং কোরে থাকা অবস্থায় অবসরে যান।

তারেকের মায়ের নাম দেলোয়ারা বেগম। মুজিব-দেলোয়ারা পরিবারে তারেকরা চার ভাই স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। বড়ভাই খালেদ সুমন পেশায় চিকিৎসক, তারেক লেফটেনেন্ট কর্নেল, টুটুল মুসা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লেফটেনেন্ট কমান্ডার এবং সবার ছোট ওমর ডানিডার (ডেনিস ডেভেলপমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি) ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত।

তারেক কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ এবং টুটুল-ওমর মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করেন। তারেক বিয়ে করেছেন ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মেয়েকে।

র‌্যাব-১১ এর কমান্ডার হিসেবে লেফটেনেন্ট কর্নেল তারেক সাঈদের আওতাধীন এলাকা ঢাকা (নবাবগঞ্জ এবং দোহার থানা ), নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষীপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

ঢাকা, ১৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *