শনিবার ২৯, জানুয়ারী ২০২২
EN

দারিদ্রের কারণ ও আমাদের করণীয়

আজ ১৭ অক্টোবর বিশ্ব দারিদ্র দুরীকরণ দিবস। দারিদ্র শব্দটি অপ্রীতিকর এবং পীড়াদায়ক। ব্যক্তি বা দেশ হিসেবে দরিদ্র হওয়া কারোর জন্য কাম্য নয়। বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন সময়ে অথূনীতিবিদগণ দারিদ্রের কারণ হিসাবে বিভিন্ন মতামত রেখেছেন। কারো মতে দারিদ্র ভাগ্যের লিখন, কারো মতে এটা ব্যক্তিগত চেষ্টার অভাব, আর কারো মতে এটা সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার ফলাফল।

আজ ১৭ অক্টোবর বিশ্ব দারিদ্র দুরীকরণ দিবস। দারিদ্র শব্দটি অপ্রীতিকর এবং পীড়াদায়ক। ব্যক্তি বা দেশ হিসেবে দরিদ্র হওয়া কারোর জন্য কাম্য নয়। বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন সময়ে অথূনীতিবিদগণ দারিদ্রের কারণ হিসাবে বিভিন্ন মতামত রেখেছেন। কারো মতে দারিদ্র ভাগ্যের লিখন, কারো মতে এটা ব্যক্তিগত চেষ্টার অভাব, আর কারো মতে এটা সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার ফলাফল।

বিশ্ব ব্যাংক দারিদ্র্য নির্ণয়ের জন্য তিনটি বিষয়কে মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করেছে। (১) মাথাপিছু ক্যালরি গ্রহন বা মাথাপিছু প্রকৃত ব্যয়; (২) দারিদ্র্য রেখা এবং (৩) জনসংখ্যার মধ্যে দারিদ্র্যের মাত্রা নির্ধারণের জন্য একটি সমষ্টিগত পরিমাপ।

বিশ্ব দারিদ্র দুরীকরণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠ নীতিমালা ও সার্বিক উন্নয়ন কৌশল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে গঠিত জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী দারিদ্র দুরীকরণ, শিক্ষা ও জনস্বাস্থের উন্নয়ন , মানব সম্পদ উন্নয়ন, মানব নিরাপত্তাসহ নানাবিধ কল্যাণমূলক কাজে বিভিন্ন ব্যবস্থা করেছে।

২০০০ সালের সেপ্টম্বর মাসে জাতিসংঘ আয়োজিত বিশ্বসম্মেলনে গৃহীত লক্ষ ও উদ্দেশ্যগুলোই 'মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল' (Millennium Development Goal) নামে পরিচিত।

'মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল' (Millennium Development Goal)-এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ হলো ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা, সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করা, নারী পুরুষ সমতা আনা ইত্যাদি।

'মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল' (Millennium Development Goal)-এর ৮টি গোল রয়েছে। এর ১ নম্বর উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে "চরম দারিদ্র ও ক্ষুধা দূর করা।"

আর এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মাত্রা নির্ধারণের নির্দেশকগুলো হলো: দৈনিক মাথাপিছু এক ডলারের কম আয়ের জনসংখ্যার হার, দারিদ্র ব্যবধান হার, জাতীয় আয় ও ভোগে দারিদ্রদের অংশ, স্বল্প ওজন বিশিষ্ট শিশুর হার এবং নূন্যতম প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণে অক্ষম জনসংখ্যার হার।

কাজেই 'মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল' (Millennium Development Goal)-এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে দারিদ্র দুরীকরণ সম্ভব।

পি আর এস পি (Poverty Reduction Strategy Paper) হলো বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ (International Momentary Fund) কর্তৃক নির্দেশিত দারিদ্র হ্রাসকরণ কৌশলপত্র। পি আর এস পি নির্দেশিত দারিদ্র হ্রাসকরণ কৌশলপত্র গহণ করলে বিশ্ব দারিদ্র নিরসন করা সম্ভব বলে মনে করা হয়।

এর নির্দেশনা অনুসারে কৃষি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, মানব সম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারলে দারিদ্র্য নিরসন সম্ভব।

বর্তমানে বিশ্বের একটি অন্যতম সমস্যা হলো দারিদ্রতা। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক অমর্ত্য সেনের মতে, সমন্বিত জনউদ্যোগ ও জনক্রিয়া, যা দরিদ্র মানুষের অবস্থানকে সুসংহত করে, দারিদ্র পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে এরূপ গ্রামীণ জনউদ্যোগ বিকাশ উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

যে দেশে দারিদ্রের প্রকোপ যত বৃদ্ধি পাবে সে দেশের আর্থ-সামাজিক স্থিতিশীলতা তত বিপন্ন হবে এবং উন্নয়ন প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে। কোন দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধন এবং জনগণের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি করতে হলে প্রথমেই দারিদ্র দূরীকরণের প্রতি বিশেষ জোর দেয় উচিৎ।

এমকে

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *