রবিবার ২৭, নভেম্বর ২০২২
EN

ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুইদিন পর জীবিত শিশু উদ্ধার

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভায় ভূমিকম্পের পর আটকে পড়া লোকদের খুঁজে বের করার জন্য কাজ করছে উদ্ধারকারীরা।

কর্মকর্তারা বলেন, ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৬৮। নিহতদের মধ্যে বহু শিশু রয়েছে। এ ছাড়া ১৫১ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে এবং ১ হাজার জনেরও বেশি আহত হয়েছে।

এরই মধ্যে দুইদিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশুর নাম আজকা মাওলানা মালিক। তাকে সিয়ানজুরের নাগরাক গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দাদির মরদেহের পাশ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।এর আগে তার বাবা-মায়ের মরদেহও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানায় দেশটির সংবাদমাধ্যম।শিশুটিকে উদ্ধারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারের পর অনেকটা শান্ত ছিল মালেক। সালমান আফসারি নামে তার এক আত্মীয় জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে তার মার মৃত্যু হয়েছে। এখন সে তার মাকে খুঁজছে, বাড়িতে ফিরতে চাচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে আঘাতের তেমন কোনো চিহ্ন নেই। তবে দুইদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা থাকায় এবং খাবার না খাওয়ায় শিশুটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

উল্লেখ্য, সোমবার একটি পার্বত্য অঞ্চলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে, এতে সৃষ্ট ভূমিধ্বসের ফলে পশ্চিম জাভা শহর সিয়ানজুরের কাছের গ্রামগুলো চাপা পড়ে। ভূমিকম্পে রাস্তাঘাট এবং বিশাল এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভুক্তভোগীদের শনাক্ত এবং তাদের সহায়তা করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

ভূমিকম্পের সময় এপ্রিজাল মুলিয়াদি নামে একজন স্কুলের একটি কক্ষ ধসে পড়ার পরে আটকা পড়েছিলেন৷

১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর বলেন, তার পা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিল। কিন্তু তাকে তার বন্ধু জুলফিকার নিরাপদে টেনে নিয়ে বের করেছিল। পরে জুলফিকার নিজে আটকা পড়ে মারা গেছে।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার মিটিগেশন এজেন্সি জানায়, ২২ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

দেয়াল ও ছাদ ভেঙে পড়ায় ভিকটিমরা পিষ্ট বা আটকা পড়ে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে এপ্রিজাল বলেন, এটা খুব দ্রুত ঘটে গেছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো মঙ্গলবার দুর্গম দুর্যোগ কবলিত অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, আমার নির্দেশনা হলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া।

ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প আঘাত হানে।দেশটিতে বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও সুনামির ইতিহাস রয়েছে। সেখানে ২০১৮ সালের সুলাওয়েসি দ্বীপে ভূমিকম্পে ২ হাজার জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান।

এবিএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *