বুধবার ৮, ডিসেম্বর ২০২১
EN

ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে পীরগঞ্জে হামলার সূত্রপাত: র‍্যাব

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) জানিয়েছে, ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্টকে কেন্দ্র করে রংপুরের পীরগঞ্জের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। র‍্যাবের আরও দাবি, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) জানিয়েছে, ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্টকে কেন্দ্র করে রংপুরের পীরগঞ্জের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। র‍্যাবের আরও দাবি, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এই দাবি করেন।

র‍্যাবের দাবি, রংপুরের পীরগঞ্জের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার অন্যতম হোতা সৈকত মণ্ডল (২৪) ও সহযোগী রবিউল ইসলামকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) রাতে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, “পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে পরিতোষ ও উজ্জ্বল। ফেসবুকে উসকানিমূলক মূল পোস্টটি দিয়েছিলেন পরিতোষ। পরিতোষ আর উজ্জ্বলের মধ্যে বৈরি সম্পর্ক ছিল এবং তাদের নিজস্ব বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরিতোষ পোস্ট দিয়ে উজ্জ্বলকে বলে, ‘ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট দিলে তোর কেমন লাগে!’ এরপর পোস্টটি সে ডিলিট করলেও উজ্জ্বল তা কপি ও সেভ করে। এরপর সেটিই উজ্জ্বল নিজের ফেসবুক পেইজ থেকে প্রচার করে। এরপর সে পোস্টটি পিক করে সৈকত। সৈকতের মাধ্যমে সেটি জেনেই রবিউল মসজিদে মাইকিং করে, হামলার নেতৃত্ব দেয় এবং নিজেও অংশ নেয়।”

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, “রবিউল ইসলাম পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। কিন্তু, ঘটনাস্থলের পাশের মসজিদ থেকে মাইকিং করা হয়। যে মসজিদের মুয়াজ্জিন নন রবিউল। কিন্তু, রবিউলই মাইকিং করেন এবং সৈকত মণ্ডলের নির্দেশে তিনি মাইকিং করে লোকজন জড়ো হতে আহ্বান জানান। পরবর্তী সময়ে রবিউল মাইকিংয়ের দায়িত্ব দেন তাঁর কাজিনকে। তারপর থেকে তাঁর কাজিন নিয়মিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাইকিং করতে থাকেন। যদিও মাইকিংয়ে হামলা বা অগ্নিসংযোগের ব্যাপারে কোনো কথা শোনা যায়নি বলে আমরা এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি।”

ঠিক কী উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়েছিলেন সৈকত?

জানতে চাইলে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, “তাঁর (সৈকত) ফেসবুক পেজে ২ হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ ফলোয়ার রয়েছে। সেটিকে কাজে লাগিয়েছেন ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইমেজ বাড়বে বলেও মনে করেছিলেন তিনি। হিন্দুদের আক্রমণে এক মুসলিমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলেও উসকানিমূলক পোস্ট দেন সৈকত মণ্ডল।”

সৈকত ছাত্রলীগের নেতা কি-না? এমন প্রশ্নে খন্দকার আল মঈন বলেন, “সৈকত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানিয়েছেন। সরাসরি তাঁর কোনো রাজনৈতিক দলীয় পদ আমরা পাইনি। তিনি রংপুরের একটি কলেজের ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে নিজেকে হয়তো পরিচয় দিয়ে থাকতে পারেন। তবে, তিনি কোনো দলের নেতা বা কর্মী কি না, এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা প্রমাণ আমাদের দিতে পারেননি।”

এমবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *