সোমবার ১৭, জানুয়ারী ২০২২
EN

নকল পরিচয়পত্রের হিড়িক, নিশ্চুপ ইসি

দেশেরনাগরিকদের পরিচিতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নিশ্ছিদ্র সেবা গ্রহণের সুবিধার্থে দেয়া ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র এখন ব্যবহার হচ্ছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে

দেশেরনাগরিকদের পরিচিতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নিশ্ছিদ্র সেবা গ্রহণের সুবিধার্থে দেয়া ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র এখন ব্যবহার হচ্ছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় যত্রতত্র তৈরি হচ্ছে নকল জাতীয় পরিচয়পত্র।

অভিযোগ উঠেছে হরহামেশা নকল জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন(ইসি)। ফলে ক্রমেই বাড়ছে সরকারপ্রদত্ত এই পরিচয়পত্রের অপব্যবহার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্রনকলকরে স্ত্রী সেজে অন্যের পেনশনের টাকা উত্তোলন করছে অপরাধী চক্র। দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা নকল আইডি কার্ড ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখফাঁকি দিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশে।

মোবাইল ফোন কোম্পানির সিম (সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিফিকেশনমডিউল) ক্রয়ের জন্য   জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমাদান বাধ্যতামূলক করায় সেখানেও ব্যবহার হচ্ছে নকল পরিচয়পত্র। এসব কোম্পানির ডিলাররা দ্রুত ও বেশি সিম বিক্রিরকমিশন পেতে নকল আইডি কার্ড সংগ্রহ করে  জমা দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এছাড়াওসরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও একাউন্ট খুলতে গেলে এই পরিচয়পত্র নেয়াহচ্ছে। আবার বীমাসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠন বাপ্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন করতেও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যাদের ন্যাশনাল আইডি কার্ড নেই তারাসহ অপরাধীরাও এসব প্রতিষ্ঠানে  নকল  আইডি কার্ড ব্যবহার করছে।  আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কোটিকোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু একটি চক্র।

জাল আইডি কার্ড ব্যবহার করার কারণে বিভিন্ন অপরাধ করার পরও  প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করতে পারছেনাআইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ কারণে ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে দূর্ধর্ষ এসব সন্ত্রাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল রাজধানীর পূর্ব ধোলাইপাড় এলাকা থেকেআমিনুল ইসলাম ওরফে মামুন ও তৌফিক ইসলাম নামের দু’জনকে ৫৩ হাজার ভুয়া জাতীয়পরিচয়পত্রসহ গ্রেফতার করে পুলিশ।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৬ হাজারপাসপোর্ট সাইজের ছবি, একটি ১৭ ইঞ্চি স্যামসাং মনিটর, একটি সিপিইউ, দুটিকালার প্রিন্টার, ১৫টি এয়ারটেল ও ৮টি বাংলালিংক সিম এবং প্রিন্টারে ব্যবহূত২০ বোতল কালি। এ ঘটনার পরই জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি নিয়ে অনুসন্ধানেরসিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

এর আগে জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াত চক্রের  ৪ সদস্য র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারহয়। তাদের কাছ থেকেও চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য বেরিয়ে আসে। ওই চারজনের কাছ থেকে১০ হাজার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকটি, ২ হাজার ৬১০টি মোবাইল সিম এবং ১২হাজার ছবি উদ্ধার করা হয়েছিল।

এছাড়া সম্প্রতি শতাধিক নকল জাতীয় পরিচয়পত্র ও ৩ শত পাসপোর্ট সাইজের ছবিসহ ৩ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর এ বিষয়টি  দেখেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা নির্বাচন কমিশন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নকল আইডি  কার্ড দুইভাবে করা  হচ্ছে। এদের একটি হচ্ছে ইসির বাইরে কোনোদুষ্কৃতিকারী কোনো ছাপাখানায় এগুলো বানাচ্ছেন, যার কোনো তথ্য ইসির কাছেনেই।

আবার ইসির ডাটাবেজে আছে এমন অনেক আইডির নাম বা জন্ম তারিখ বা ঠিকানাপরিবর্তন করেও ভুয়া আইডি তৈরি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ইসির জাতীয় পরিচয়পত্রঅনুবিভাগের কর্মকর্তারা অনেক সময় যাচাই-বাছাই না করেই বা হেঁয়ালি করেই কোনোব্যক্তির আইডি সংশোধন করে দিচ্ছেন। ফলে ভুয়া আইডিতে পরিণত হচ্ছে আসল আইডিকার্ড।
তারা বলেন, ন্যাশনাল আইডি কার্ডের অপব্যবহার রোধে প্রথমেই সবার জাতীয়পরিচয়পত্র প্রদানের পূর্বে এর বাধ্যতামূলক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকেআইডি কার্ডে আরও গোপন নিরাপত্তা নম্বর বা হলমার্ক বা বারকোড দিতে হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ  আব্দুল মোবারক বলেন,  একটি অসাধু চক্রনকল আইডি  কার্ড তৈরি করছে।  যারা নকল আইডি তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধেব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে শিগগিরই চিঠি দিবে নির্বাচন কমিশন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৎকালীন নির্বাচন কমিশনভোটারদের ন্যাশনাল আইডি কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।  সে সময়  ১৮বছরের উর্ধ্বে  ৬৩ শতাংশ নাগরিক এ আইডি কার্ড পান। বর্তমানে ৯ কোটি ১৩লাখ ১৪ হাজার ৫৯২ জনের ন্যাশনাল আইডি কার্ড রয়েছে।

ঢাকা, এএ, ৬ জুলাই (টাইমনিউজিবিডি.কম) এআর

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *