রবিবার ২, অক্টোবর ২০২২
EN

নেতৃত্বের কোন্দলে দ্বিধাবিভক্ত ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষ

ফের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলিরা। এ নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক গ্রুপের সঙ্গে আরেক গ্রুপ কথাবার্তা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে।

ফের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলিরা। এ নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক গ্রুপের সঙ্গে আরেক গ্রুপ কথাবার্তা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের নেতৃত্ব নিয়ে প্রধান কৌঁসুলি ও কৌঁসুলিদের প্রধান সমন্বয়কের দ্বন্দ্বের কারণে কেউ কারো নির্দেশ মানছেন না। অপরদিকে কৌঁসুলিদের মধ্যে বিরোধ সুরাহায়ও কোনো উদ্যোগ নেয়া যাচ্ছে না। এই সঙ্কট নিরসনে আইন মন্ত্রণালয় দায়িত্ব নিলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষ। যার প্রতিফলন জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের সময় দেখা যায়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এই অর্ন্তকোন্দলের কথা স্বীকার করেছেন। একপক্ষ বলছে কোন্দল ব্যাক্তিগত। এর কোনো প্রভাব মামলায় পড়ছে না। অপরপক্ষ বলছে, নিজেদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা থাকায় এর প্রভাব মামলার ওপরও পড়ছে। জামায়াত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী মোহাম্মদ আলী আরেক আইনজীবী ড. তুরিন আফরোজকে নিয়ে গণমাধ্যমে বিষোদগার করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ তুরিন আফরোজ মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর গত ৫ মার্চ মোহাম্মদ আলী ড. তুরিনের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে ফের কোন্দলের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। প্রধান কৌঁসুলি ব্যর্থ হলে বর্তমানে অভিযোগ গুলো নিষ্পত্তির জন্য আইনমন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের এক কৌঁসুলি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা নিজেদের ঘাম ঝরিয়ে ট্রাইব্যুনালের মামলা এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। আর এখন একজন এসে এক ঘন্টা আধা ঘন্টা যুক্তি দিলেই সে সব করে ফেলেছে বললেইতো আর হবে না। রাষ্ট্রপক্ষের অপর এক কৌসুলি বলেন, আমরা যারা সরাসির মুক্তিযোদ্ধা তারাই শুধু এই ট্রাইব্যুনালে আন্তরিকতার সাথে কাজ করছি। অন্যরাতো নাম ফাটানোর জন্য এসেছেন। এদের আর সহ্য করা চলবে না। তুরিন আফরোজের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু ও কৌঁসুলিদের প্রধান সমন্বয়ক এমকে রহমানের বিরোধ প্রকাশ পায়। প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান সমন্বয়ক এমকে রহমানের নিয়োগকে অবৈধ দাবি করেছেন। তিনি কৌঁসুলিদের এমকে রহমানের কোনো নির্দেশনা না মানার জন্য লিখিত নোটিশ দেন। অপরদিকে এমকে রহমান নিজের নিয়োগকে বৈধ দাবি করেন। এরপর তিনি প্রধান কৌঁসুলিকে না জানিয়ে কৌঁসুলিদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করেন। তারপর থেকে কৌঁসুলিদের বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়। ট্রাইব্যুনালের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জেয়াদ আল মালুম ও ড. তুরিন আফরোজের নেতৃত্বে কৌঁসুলিদের একটি ভাগ গোলাম আরিফ টিপুকে সমর্থন করছেন। তারা আবার সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের অনুসারি ও বাম রাজনীতির সাথে জড়িত। আদালত পাড়ায় তাদের বাম হিসেবেই সকলে জানেন। অপরদিকে জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি হায়দার আলী ও মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে আরেকটি ভাগ প্রধান সমন্বয়ক এমকে রহমানের সমর্থক। এরা আবার সাবেক আইনপ্রতিমন্ত্রী ও বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মতের লোক। যাদের অধিকাংশের হাতে কোনো মামলা নেই। সূত্র জানায়, সম্প্রতি তুরিন আফরোজ ও মোহাম্মদ আলীর বিরোধের জেরে অনেক কৌঁসুলিদের বাম আখ্যায়িত করে তাদের অপসারণ করার দাবি করেন সাহারা খাতুন। অপসারণের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ও গওহর রিজভীর সঙ্গে দেখা করেন। অপর দিকে, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর ও অধ্যাপক মুনতাসির মামুন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাথে দেখা করে বিষয়টি সুরাহা করার তাগিদ দেন। তারা বলেন দরকার হলে ড. তুরিন আফরোজ কৌঁসুলি পদ ছেড়ে দেবেন। আইনমন্ত্রী তাদের সম্যসা সমাধানে দ্রুত পদেক্ষপ নেয়ার আশ্বাস দেন। দুই সপ্তাহ চলে গেলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে জানেত চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আমার কাছে বিরোধের খবরটি এসেছে। আমি চেষ্টা করছি সমস্যার সমাধান করতে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে। তিনি আরও বলেন, সমাধান করার জন্য প্রয়োজনে কৌঁসুলি পুনর্গঠন করা হবে। সূত্র জানায়, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলায় চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের এ দুই গ্রুপের মধ্যে প্রথম বিরোধ দেখা দেয়। এরপর মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দাখিল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা যায়। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করা নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। ঔদিন হাতাহাতি পর্যায়ে চলে গেলে তুরিন আফরোজ অঝোরে কাঁদেন। এরপর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিযে আবার কোন্দলের সৃষ্টি হয়। সবশেষ নিজামীর মামলায় দ্বিতীয় ধাপে যুক্তি উপস্থাপনকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনালের এজলাসেই কৌঁসুলিদের বিরোধ দেখা যায়। ট্রাইব্যুনালের প্রতিটি মামলায় ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আইন সম্পাদক ড. তুরিন আফরোজের চূড়ান্ত আইনী যুক্তি দেয়া নিয়েই এই কোন্দল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু বলেন, বিরোধের কিছু নেই। এখানে কিছু লোক কাজ করবে আর কিছু লোক কাজ না করেও ফায়দা নেবে তা ঠিক নয়। যারা ফায়দা নিতে চায় তারাই বিভিন্ন স্ক‌্যান্ডাল ছড়াচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যাবস্থা নেয়া হবে। অপরদিকে প্রধান সমন্বয়ক এমকে রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। [b]ঢাকা, ইএইচ, জিই ১৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *