শুক্রবার ২১, জানুয়ারী ২০২২
EN

নারীদের হাড় ক্ষয় রোধে করণীয়

শরীরের হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়াকে বোঝায় অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয়। এতে হাড় অতি দ্রুত ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

শরীরের হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়াকে বোঝায় অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয়। এতে হাড় অতি দ্রুত ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

মারাত্মক হাড় ক্ষয়ে হাঁচি বা কাশি দিলেও তা ভেঙে যেতে পারে। ৫০ বছর পেরুবার পর থেকে শরীরের হাড় ক্ষয় বা এর লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। কারও কারও আগেও হয়।

যাদের ক্ষেত্রে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি তাদের দ্রুত হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। নারীদের পিরিয়ডের পর হাড় ক্ষয়ের হার বেড়ে যায়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে শরীরে হাড়ের সমস্যা দেখা দেয়। হাড়ের এই সমস্যাকে বলে অস্টিওপোরোসিস। সাধারণত পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের এই সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। আধুনিক এবং সঠিক চিকিৎসায় হাড়ের ক্ষয় অনেকটা কমিয়ে আনা যায়।

হাড় গঠন শরীরের একটি চলমান প্রক্রিয়া। শরীরে সব সময় ব্যথার অনুভূতি বাড়িয়ে স্বাভাবিক হাঁটাচলা, কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটিয়ে জীবনের ভোগান্তি বাড়ায়। ৫০ বছর বয়সের আগে হাড়ের বৃদ্ধি বেশি হয় আর ক্ষয় কম হয়। এরপর থেকে হাড়ের ক্ষয় বেশি হয়, বৃদ্ধি কম হয়। হাড় ক্ষয় নির্ভর করে হাড়ের ঘনত্বের সঙ্গে সঙ্গে ক্যালসিয়াম, ফসফেট, কোলাজেন ফাইবারের উপস্থিতির ওপর।

গর্ভধারণ এবং মায়ের দুধ পান করানোর ফলে নারীদের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়। এ কারণে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া মেনোপজের সময় এস্ট্রজেন হরমোনের অভাবে শরীরে ক্যালসিয়ামের শোষণ কমে যায়। ফলে খুব দ্রুত হাড় ক্ষয় হতে থাকে।

এছাড়া আরও কয়েকটি কারণে হাড় ক্ষয় হতে পারে। যেমন- ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত শরীর চর্চা না করা, অলসতাপূর্ণ জীবনযাপন করা, কিছু ওষুধ যেমন- ডাই-ইউরেটিক্স, হেপারিন, জন্মনিয়ন্ত্রণের ইনজেকশন দীর্ঘদিন ব্যবহার করা ইত্যাদি কারণে হাড় ক্ষয়ের মাত্রা বেড়ে যায়।

জীবনধারাবিষয়ক বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগে জানানো হয়েছে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধে খাবারগুলোর কথা।

১. দই

দই ভিটামিন-ডি’র ভালো উৎস। প্রতিদিন এক কাপ দই শরীরের ক্যালসিয়ামের চাহিদার অনেকটাই পূরণ করে; হাড়কে শক্তিশালী করে। নিয়মিত দই খেলে অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধ হয়।

২. দুধ

ক্যালসিয়ামের একটি চমৎকার উৎস দুধ। নিয়মিত দুধ খেলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। দুধ খেলে শরীরে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনের চাহিদার অনেকটাই পূরণ হয়।

৩. কাঠবাদাম

প্রতিদিন আধা কাপ কাঠবাদাম খেলে দৈনিক ক্যালসিয়ামের ১৮ ভাগ পূরণ করে। এটি কেবল হাড় মজবুতই করে না, এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং হার্টকে ভালোও রাখে।

৪. ব্রকলি

ব্রকলির মধ্যে উচ্চ পরিমাণ ভিটামিন-কে ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। এটি হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ব্রকলি রাখলে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ করা যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

৫. কমলার রস

কমলার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-সি। এতে হাড় শক্তিশালী করার উপাদান ক্যালসিয়ামও রয়েছে।

এটি হাড়ের গঠনে কাজ করে। দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদার ৬ ভাগ পূরণ করতে পারে একটি কমলা।

 

এএস

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *