মঙ্গলবার ৭, ডিসেম্বর ২০২১
EN

নির্যাতিত এক নারী আইনজীবীর সাক্ষাৎকার

অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম নির্যাতিত এক নারী আইনজীবী। সুপ্রিমকোর্টের ইতিহাসে বর্বরোচিত হামলায় নির্যাতনের স্বীকার একমাত্র নারী আইনজীবী। তিনি বলেছেন, নারী অধিাকার রক্ষায় বছরে একবার নয়, প্রতিদিনই নারী দিবস পালন করতে হবে।

অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম নির্যাতিত এক নারী আইনজীবী। সুপ্রিমকোর্টের ইতিহাসে বর্বরোচিত হামলায় নির্যাতনের স্বীকার একমাত্র নারী আইনজীবী। তিনি বলেছেন, নারী অধিাকার রক্ষায় বছরে একবার নয়, প্রতিদিনই নারী দিবস পালন করতে হবে।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম খান ১৯৭০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার নেওয়ারগাছা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম প্রকৌশলী হাসান ইমাম খান। মায়ের নাম মৃত সালেহা হাসান। তিনি ১৭ বছর বয়সে পাবনা সাথিয়ার প্রকৌশলী কামাল পাশার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার স্বামী একজন লেখকও বটে।

সিমকী ইমাম খান উল্লাপাড়া হামিদা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, চান্দাইকোনা হাজী ওয়াহেদ মেমোরিয়াল মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে বিএ, রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টর্স ডিগ্রী ও রংপুর ল’ কলেজ থেকে এলএলবি পাশ করেন।

তিনি ২০০২ সালে ঢাকা জজ আদালতে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি আন্তর্জাতিক আইনজী্বী সমিতি, ইনকাম টেক্স আইনজীবী সামিতি ও সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সামিতির আজীবন সদস্য।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ঢাকা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আইন পেশার পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতা ও বই লিখেন। তিনি মুন ড্রপ এস্টেট ম্যানেজমেন্ট এন্ড কনসালট্যান্ট লি. এর চেয়ারম্যান।

২০১২ সালে তিনি বিএনপি প্যানেল থেকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ নির্বচন করতে চান। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর মার্চ ফর ডেমোক্রেসিতে সুপ্রিমকোর্টে আওয়ামী লীগের হামলার স্বীকার হন।

নারী দিবস উপলক্ষ্যে টাইমনিউজবিডির আইন প্রতিবেদক গালীব ইহসান অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম খান এর বিশেষ সাক্ষাতকার নেন। সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

টাইমনিউজবিডি,

-কেমন আছেন?

সিমকী ইমাম,

-আলহামদুলিল্লাহ। আপনি?

টাইমনিউজবিডি,

-অপনার পরিবারে কে কে আছেন?

সিমকী ইমাম,

-আমার চার মেয়ে, আমার স্বামী ও আমি। মোট ছয়জন। আমার চার মেয়ের মধ্যে বড়

দুই মেয়ে জমজ। তারা দু’জনই ইঞ্জিয়ার। তৃতীয় মেয়ে আইন বিষয়ে পড়াছে। আর ছোট

মেয়ে স্টান্ডার ওয়ানে পড়ে। আমরা দুই ভাই, দুই বোন। আমি তৃতীয়। আমার পিতা

বেঁচে আছেন। মা নেই।

টাইমনিউজবিডি,

আপনার শখ কী?

সিমকী ইমাম,

ঘর গুছানো।

টাইমনিউজবিডি,

-অবসর কী ভালোবাসেন?

সিমকী ইমাম,

-গান শুনতে। গান ভালো হলে সব ধরনের গান শনতেই ভালো লাগে।

টাইমনিউজবিডি,

-জীবনে কী হওয়ার স্বপ্ন ছিলো?

সিমকী ইমাম,

-কোনো কিছু হওয়ারই চিন্ত ছিলো না। ১৭ বছর বয়সে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ভালো স্ত্রী এবং মা হওয়াই স্বপ্ন ছিলো। কিন্তু আমার বাবা ও স্বামীর অনুপ্রেরণায় পড়া-লেখা চালিয়ে যাই। এরপর এক সময় আইন পেশা শুরু করি। আইন পেশায় সফলতা পেয়ে আইনকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নিই। বর্তমানে জনগণের সেবা করার জন্য সংসদ সদস্য অথবা মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখি।

টাইমনিউজবিডি,

-কখন থেকে রাজনীতি করেন?

সিমকী ইমাম,

-স্কুলে জীবন থেকেই আমি রাজনীতির সাথে জড়িত। সব সময় আমি জাতীয়তাবাদের পক্ষে। তবে গত পাঁচ বছর ধরে আমি রাজনীতির সক্রিয় কর্মী। জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য আমি আমার জীবন দিতেও প্রস্তুত।

টাইমনিউজবিডি,

-আইনজীবী হিসেবে নারীদের জন্য কী করতে চান?

সিমকী ইমাম,

-নারী আইনজীবী হিসেবে আমি একজন প্রতিষ্ঠিত নারী। আমি নারী অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করতে চাই। কিন্তু আপনারা কিছু দিন আগেই সুপ্রিমকের্টে আমার ওপর সন্ত্রাসী হামলা দেখেছেন। এভাবে নারীদের ওপর হামলা চললে নারীরা কখনো মুক্তি পাবে না। আর নারীরা মুক্তি না পেলে জাতিও সামনে এগুবে না। দেশ-জাতির উন্নতি করতে চাইলে প্রথমে নারীর অধিকার রক্ষা করতে হবে। সরকার যদি সবক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করে তাহলে অবশ্যই নারীরা আরও অবদান রাখবে।

টাইমনিউজবিডি,

-সুপ্রিমকোর্টে হামলার ঘটনায় কোনো মামলা করেছেন কিনা?

সিমকী ইমাম,

-আমি এখনো কোনো মামলা করিনি। আসলে এ নিয়ে আমি মানসিক ভাবে চাপে আছি। আর তাছাড়া আমি গত কিছু দিন হলো চিকিৎসা সেড়ে ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরেছি। আবার ব্যাংকক যেতে হবে। এই মুহুর্তে এ নিয়ে কিছু ভাবতে চাই না। আগে সুস্থ হই,পরে চিন্তা করব।

টাইমনিউজবিডি,

-এই হামলার ঘটনায় আপনার পাশে কি বিচার বিভাগ ছিলো?

সিমকী ইমাম,

-না। সুপ্রিমকোর্টে হামলার ঘটনায় আমার পাশে আইনজীবী সমজ ও সাংবাদিক ছাড়া আর কেউ ছিলো না। ওই হামলা থেকে সাংবাদিক ভাইয়েরা আমাকে যেভাবে বাচিয়েছেন। তার কৃতজ্ঞতা শেষ হওয়ার নয়। ওই হামলার প্রতিবাদ একমাত্র আইনজীবী আর

সাংবাদিকরাই করেছেন। বিচার বিভাগ এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকারও ওই ঘটনার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এমন কি কোন মানবাধিকার সংস্থাও আমার জন্য কোনো কাজ করেনি। মানবাধিকার সংস্থার কাজতো মানবের অধিকার রক্ষা করাই। আইনজীবী হিসেবে না হউক নারী হিসেবেতো অন্তত আমার জন্য তাদের কিছু করা দরকার ছিলো। বিএনপিও আমার জন্য তেমন কিছু করেনি।

টাইমনিউজবিডি,

-দেশ নিয়ে আপনার মতামত কী?

সিমকী ইমাম,

-যেভাবে দেশ চলছে এভাবে কোনো স্বাধীন দেশ চলতে পারে না। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকো ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। নারী-পুরুষ একসাথে কাজ করলেই দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। নারী বৈষম্য দূর করতে হবে। নারীকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতে হবে।

টাইমনিউজবিডি,

-নারীদের প্রধান কাজ কী হওয়া উচিত?

সিমকী ইমাম,

-নারী হিসেবে একজন নারীর প্রধান কাজ হলো সংসার। যে নারী সংসারে ভালো কাজ করে সংসার ঠিক রাখে। সে নারী দেশ জাতির জন্যও অনেক কিছু করতে পারে। আর যে নারী নিজের সংসার ঠিক রাখতে পারে না, সে কখনো কারও জন্য ভালো কিছু করতে

পারে না। দেশতো অনেক দূরের বিষয়।

টাইমনিউজবিডি,

-নারী দিবস নিয়ে আপনার মতামত কী?

সিমকী ইমাম,

-এভাবে নারী দিবস করলেই নারীর মুক্তি মিলবে না। নারীদের মুক্তি শুধু বইয়ে থাকলেই হবে না। আর একদিন নারী দিবস পালন করলেই নারীর অধিকার রক্ষা হবে না। প্রতিদিনই একটি করে নারী দিবস পালনের রেওয়াজ সৃষ্টি করতে হবে। নারীদের মা ও বোনের মতো মনে করতে হবে। নারীরা সব জায়গায় ভিক্টিম। সুতরাং নারীদের প্রতি সব ধরণের বৈষম্য দূর করতে হবে। আর আমাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

টাইমনিউজবিডি,

-আপনাকে ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

সিমকী ইমাম,

-আপনাকেও ধন্যবাদ।

ঢাকা, জিই, ৮ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *