রবিবার ২৭, নভেম্বর ২০২২
EN

নূর হোসেনকে ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ভারতীয় পুলিশ

ভারতের কলকাতায় গ্রেপ্তার হওয়া নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন এবং তাঁর দুই সহযোগীর আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত

ভারতের কলকাতায় গ্রেপ্তার হওয়া নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন এবং তাঁর দুই সহযোগীর আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।


আজ রোববার স্থানীয় সময় দুপুর দুইটার দিকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সদর বারাসাতের দ্বিতীয় মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিম এ আদেশ দেন।

এর আগে আজ স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে নূর হোসেন ও তাঁর দুই সহযোগীকে নিয়ে বাগুইয়াটি থানা থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ। এরপর ওই তিনজনকে আদালতের গারদখানায় রাখা হয়।

শুনানি শেষে তিনজনের প্রত্যেকের আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। নূর হোসেন ও তাঁর দুই সহযোগীর পক্ষে আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়নি।

কলকাতার পুলিশ সূত্র জানায়, কলকাতায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর-সংলগ্ন বাগুইয়াটি থানা এলাকার কৈখালির ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনের চারতলা থেকে গতকাল শনিবার রাত নয়টার দিকে নূর হোসেন ও তাঁর দুজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে কিছু টাকা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছে ভারতে আসার কোনো বৈধ কাগজপত্র বা পাসপোর্ট পায়নি পুলিশ। অনুপ্রবেশ, অস্ত্র আইন ও জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বাগুইয়াটি থানার পুলিশ।

পুলিশের বরাতে কলকাতার বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, আগে থেকেই পুলিশের নজরে ছিলেন নূর হোসেন। গতকাল রাতে পুলিশ জানতে পারে, কৈখালির একটি আবাসনে নূর হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা জুয়ার আসর বসিয়েছেন। এরপর কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াডের (এটিএস) সদস্যরা বাগুইয়াটি থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া নূর হোসেন ও তাঁর দুই সহযোগী কলকাতায় চিকিত্সার নাম করে কৈখালির ওই আবাসনের চারতলার ঘর ভাড়া করেছিলেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি সাত খুন মামলার আসামি নূর হোসেন কি না, তা গতকাল রাতে নিশ্চিত করেনি কলকাতার পুলিশ। তবে নারায়ণগঞ্জের জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) খন্দকার মহিদ উদ্দিন আজ সকালে গণমাধ্যমকে জানান, কলকাতা পুলিশের সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন। তাঁকে দেশে আনার আইনগত প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে।

কলকাতার পুলিশ জানায়, বাংলাদেশের পুলিশের অনুরোধে ওই অভিযান চালানো হয়। তবে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে। এর আগে ২৮ এপ্রিল নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।

এর আগে আলোচিত এ খুনের ঘটনায় র‌্যাবের চাকরিচ্যুত তিনজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আরিফ হোসেন ও এম এম রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন যে নূর হোসেনের পরিকল্পনায় এ সাত খুনের ঘটনা ঘটে।

এছাড়া কামাল নামের এক ব্যক্তিও রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। এতে তিনি স্বীকার করেন নূর হোসেন হত্যাকাণ্ডের পর ভারতে পালিয়ে যান। তাছাড়া এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে নূর হোসেনের একটি ফোনালাপের অডিও প্রকাশ পায়।

সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের বিরুদ্ধে গত ২৭ মে রেড ওয়ারেন্ট জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। ফ্রান্সভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটি ২৭ মে বিকালে তাদের ওয়ানটেড পারসনের রেড ওয়ারেন্ট পাতায় নূর হোসেনের নাম সংযুক্ত করে।

এর আগে রেড ওয়ারেন্টভুক্ত করতে গত ২২ মে পুলিশ সদর দফতরকে চিঠি দেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন। পরে পুলিশ সদর দফতর রেড ওয়ারেন্টের জন্য ইন্টারপোলকে চিঠি দেয়। নূর হোসেন বর্তমানে ভারতে পালিয়ে আছে নিশ্চিত হয়েছিল র‌্যাব।
ঢাকা, ১৫ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *