রবিবার ২, অক্টোবর ২০২২
EN

পিতা-পুত্রসহ ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার টেক্সিচালক মনসুর আলম হত্যা মামলায় পিতা-পুত্রসহ ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে প্রত্যেককে পাঁচশ’ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার টেক্সিচালক মনসুর আলম হত্যা মামলায় পিতা-পুত্রসহ ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে প্রত্যেককে পাঁচশ’ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আকবর হোসাইন মৃধা সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি ছিলেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মফুর আলী ও আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মো. সাজ্জাদুর রহমান। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই ইউনিয়নের কুশিঘাট পালপুর গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে তারেক আহমদ, তার সহোদর হানিফ আহমদ ও সাবের আহমদ, একই এলাকার নবাব মিয়া ওরফে আক্তার ও তার ছেলে আবিদ হোসেন অপু, আকমল হোসেন ও শহরতলীর টুকেরবাজার চরন্ডগাঁও গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে রুহেল আহমদ, গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জ উত্তর মাইজভাগের মৃত আহাদ আলীর পুত্র আলা উদ্দিন। এদের মধ্যে আবিদ হোসেন অপু, আক্তার হোসেন, রুহেল আহমদ ও আলা উদ্দিন পলাতক রয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই ইউনিয়নের কুশিঘাট পালপুর গ্রামের রহিম উদ্দিন রসুপীর নিজেকে পীর দাবি করে এলাকার নিরীহ লোকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন। একই এলাকার মৃত নুরুল হকের ছেলে বেবিটেক্সিচালক মনসুর আলমের (২৫) পরিবার এর প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এ নিয়ে ভন্ডপীর রহিম উদ্দিন ওই পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতে থাকে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসীর চাপের মুখে ভণ্ডপীর রহিম উদ্দিন মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। গত ২০০৩ সালের ১১ নভেম্বর সকালে ভণ্ডপীর রহিম উদ্দিনের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মনসুর আলমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মুমুর্ষু অবস্থায় মনসুরকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের চাচা আব্দুল হক ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৪/৫ জনকে আসামি করে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি শফিকুর রহমান মুকুল পরবর্তী বছরের ১১ এপ্রিল ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০০৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর এ মামলার বিচার শুরু করেন। মামলায় ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে এই দণ্ডাদেশ দেয়া হয়। [b]ঢাকা, ১ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *