বুধবার ৮, ডিসেম্বর ২০২১
EN

পবিত্র কাবা: আল্লাহর প্রথম ঘর কাবা ঘিরেই এবাদতের চাঞ্চল্য

শারীরিক ও আর্থিক দিক থেকে সক্ষম মুসলমান নরনারীর ওপর হজ ফরজ। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম হজ।

শারীরিক ও আর্থিক দিক থেকে সক্ষম মুসলমান নরনারীর ওপর হজ ফরজ। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম হজ। ইসলামে হজ ফরজ হওয়ার আগে বিভিন্ন নিয়মরীতিতে হজ পালিত হয়েছে। রাসূলও সা: আগে কোরাইশদের রীতি অনুযায়ী হজ পালন করেছেন বলে কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়।

হজ একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত ইবাদত। হজরত আদম আ: থেকে শুরু করে হজরত মুহাম্মদ সা: পর্যন্ত অনেক নবী-রাসূলের স্মৃতিময় হজ। হজের আহকামের মধ্যে বিশেষ করে হজরত আদম আ:, হজরত ইবরাহীম ও ইসমাঈল আ: এবং হজরত মুহাম্মাদের সা: স্মৃতির সাথে একাকার হতে হয় হাজীদের। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘নিঃসন্দেহে সর্বপ্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য স্থাপিত হয়েছে, সেটাই হচ্ছে এ ঘর, যা বাক্কায় (মক্কায়) অবস্থিত এবং সারা জাহানের মানুষের জন্য হিদায়াত ও বরকতময়।

এতে রয়েছে মাকামে ইবরাহিমের মতো প্রকৃষ্ট নিদর্শন। আর যে ব্যক্তি এর ভেতরে প্রবেশ করবে, সে নিরাপত্তা লাভ করবে। যে লোকের সামর্থ্য রয়েছে এ পর্যন্ত পৌঁছার সে যেন আল্লাহর জন্য হজ করে। আর যে লোক কুফরি করে (তা মানে না), আল্লাহ সারা বিশ্বের কারো মুখাপেক্ষী নন।’ (সূরা-আলে ইমরান আয়াত : ৯৬-৯৭)।

কাবাঘরই হচ্ছে প্রথম ঘর যা মানুষের ইবাদতের জন্য নির্মিত হয়েছে এবং যেকোনো মসজিদ বা উপাসনালয়ের চেয়ে কাবাঘর বেশি প্রাচীন। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম মানব হজরত আদম আ:-ই কাবাঘরের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সমস্ত নবীই এই ঘর জিয়ারত করেছেন। পরবর্তীকালে হজরত ইবরাহিম আ: কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করেন এবং এই ঘর জিয়ারতের ধারা চালু হয়।

কাবাঘর আল্লাহর ক্ষমতার অন্যতম নিদর্শন। মুসলমানরা কেবলামুখি হয়ে প্রতিদিন পাঁচবার সালাত আদায় ছাড়াও প্রতি বছর কাবাঘরে সমবেত হন। কাবাঘরের দেয়াল উঁচু করার সময় হজরত ইবরাহীম আ: একটা বড় পাথরের ওপর দাঁড়াতেন। ইবরাহিমের আ: স্মৃতিবাহী এই পাথরকেও মুসলমানগণ পরম শ্রদ্ধার চোখে দেখেন এবং এটিই ‘মাকামে ইবরাহিম’ নামে পরিচিত।

সব তাওয়াফের পর এই পবিত্র স্থানের কাছে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করতে হয়। এই সালাত ওয়াজিব।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন ‘যখন আমি কাবাগৃহকে মানুষের জন্য সম্মিলনস্থল ও শান্তির আলয় করলাম, আর তোমরা ইবরাহিমের দাঁড়ানোর জায়গাকে মুসল্লা (নামাজের জায়গা) বানাও এবং আমি ইবরাহিম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, অবস্থানকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো।

যখন ইবরাহিম বললেন, পরওয়ারদিগার! এ স্থানকে আপনি শান্তিময় স্থান করুন এবং বাসিন্দাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও কিয়ামতে বিশ্বাস করে, তাদেরকে ফলের দ্বারা রিজিক দান করুন। (সূরা-আল বাকারা-১২৫-১২৬)।

এবিএস

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *