মঙ্গলবার ৪, অক্টোবর ২০২২
EN

প্রশ্নপত্র ফাঁস : বরখাস্ত ১, গ্রেফতার ৬

এসএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় কুড়িগ্রামে আরও ৩ জনসহ এ পর্যন্ত একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) এর মধ্যে গ্রেফতার হন নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমান, ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক আমিনুর রহমান ও ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক জোবায়ের ইসলাম।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতার হন একই বিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞানের শিক্ষক হামিদুল ইসলাম, বাংলা বিষয়ের শিক্ষক সোহেল আল মামুন ও অফিস সহায়ক (পিয়ন) সুজন মিয়া।  

মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃত তিনজনকে বুধবার ও বুধবার গ্রেফতারকৃত তিনজনকে বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম আদালতে প্রেরণ করে ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশ।

এদিকে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার আরও দুটি পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। স্থগিত পরীক্ষা দুটি হল জীব বিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত। 

এর আগে বুধবার গণিত, পদার্থ, রসায়ন ও কৃষি বিজ্ঞান পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন তারিখ ঘোষণা করে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপ পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) বিপুল চন্দ্র বিশ্বাসের স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানা গেছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, চলমান এসএসসি পরিক্ষা ২০২২ এ দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলাধীন ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) মো. আব্দুর রহমানকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধি মালা ২০১৮ (২)( খ) (আ) অনুসারে অসদাচারণের দায়ে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার আদম মালিক ২০ সেপ্টেম্বর রাতে একই বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমান, ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক আমিনুর রহমান ও ইসলাম শিক্ষা শিক্ষক জোবায়ের ইসলাম ও অফিস সহকারী আবু হানিফের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা আরো ১০/১২ জনের নামে ভুরুঙ্গামারী থানায় মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে তিনজন গ্রেফতার করলেও এজাহার নামিয় আসামি অফিস সহকারী আবু হানিফ পলাতক রয়েছে।

ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, এ পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁস ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ৬ জনকে গ্রেফতার হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শামছুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

অপরদিকে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক মো. ফারাজ উদ্দিন তালুকদারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উমা) প্রফেসর মো. হারুন অর রশিদ মণ্ডল এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. আকতারুজ্জামান। তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামে এসে তদন্ত শুরু করেন।

এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শামসুল আলম বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত কেন্দ্র সচিব ও নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পিয়নসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত আছেন কেউ ছাড় পাবে না। 

এন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *