রবিবার ৩, জুলাই ২০২২
EN

প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন, বিশেষজ্ঞদের অভিমত

ভোট কেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান, ব্যালট বক্স ছিনতাই আর বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীদের উপর হামলার মধ্য দিয়ে শেষ হল চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন যথাযথ ভূমিকা পালনে পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

ভোট কেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান, ব্যালট বক্স ছিনতাই ও বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীদের উপর হামলার মধ্য দিয়ে শেষ হল চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন যথাযথ ভূমিকা পালনে পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সাধারণ সম্পাদক ড বদিউল আলম মজুমদার টাইম নিউজ বিডিকে বলেন, সারাদেশে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখলসহ বিভিন্ন ধরনের নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এধরণের ঘটনা অবাধ, সুষ্ট ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্তরায়। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এ সকল ঘটনায় জড়িতদের ব্যাপারে উদাসিন। তারা কোন ব্যবস্থা পযর্ন্ত নিতে পারেনি। এভাবে  নির্বাচনকেন্দ্রীক হানাহানি চলতে থাকলে দেশের জন্য তা কখনো ভাল ফলাফল বয়ে আনবে না। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ট নির্বাচন করা যে দূরহ ব্যাপার-এ সকল ঘটনা দ্বারা এটাই আবারও প্রমাণিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বদিউল আলম মজুমদার। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপজেলা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন  স্থানে সংঘর্ষের ঘটনার সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমের  কাছে আমরা জানতে পেরেছি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আন্তরিক হলে এসব দূর্ঘটনা থেকে জাতি রক্ষা পেতে পারত। কিন্তু তা হয়নি। এর দ্বারা প্রমানিত হয় শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন ছাড়া সুষ্ট নির্বাচন সম্ভব নয়।   উল্লেখ্য, ১১৫ উপজেলায় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে এ ভোট গ্রহন। এ ধাপে অংশ নেয় ১ হাজার ৩৫২ প্রার্থী।  এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫০০ জন, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৫০৬ জন ও নারী ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৩৩৪ জন প্রার্থী ছিল। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে ভোটকেন্দ্র সংখ্যা ৮ হাজার ৬৩টি। ভোটকক্ষ ৫১ হাজার ৩১৫টি। মোট ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯২ হাজার ৬৪৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৮ লাখ ৪০ হাজার ৮৬৮ জন আর নারী ভোটার ৯৮ লাখ ২১ হাজার ৭৮০ জন। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের ভোট কারচুপিতে নির্বাচন কমিশন নীরর থাকায় এই মুহুর্তে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ ছাড়া গণতন্ত্রের ন্যূনতম কাঠামো থাকবে না। এছাড়া দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনকে ভোট কেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চিঠি দেওয়া হলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং সাংবিধানিক সত্তা বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার একদিকে যেমন শাসনতন্ত্রকে ব্যবহার করছে, অন্যদিকে দলীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা তান্ডব চালায়। পুলিশ ও গণমাধ্যমকে নীরব ভূমিকা পালন করতে বলা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ করেন  তিনি। [b]ঢাকা, এএ, ২৭ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b] 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *