রবিবার ২৯, মে ২০২২
EN

পুলিশের জন্য আসছে নতুন ব্যাংক

‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ’ নামে আসছে পুলিশের ব্যাংক। ব্যাংকটির অনুমোদন দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ’ নামে আসছে পুলিশের ব্যাংক। ব্যাংকটির অনুমোদন দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বৈঠকে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বোনাস ও আয়ব্যয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলেও জানা গেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রাস্ট্র ব্যাংকের আদলে পুলিশ বাহিনীর জন্য একটি স্বতন্ত্র ব্যাংকের অনুমোদন চেয়ে গত মার্চে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করে পুলিশ সদর দপ্তরের কল্যাণ ট্রাস্ট। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটি দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিল।

এবিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, পর্ষদ বৈঠকে অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল কমিউনিটি ব্যাংকের অনুমোদন। পর্ষদ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে ব্যাংকটির অনুমোদন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এরপর ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের কাছে কিছু ক্রাইটেরিয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। সেসব পূরণ হলে চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। এরপর তারা কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন পাবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ পুলিশ বাণিজ্যিকভাবে এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে ২০১৭ সাল থেকে কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে মূলধনের ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ শুরু করে। পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে গত ফেব্রুয়ারিতে মূলধন সংগ্রহ শেষ হয়। গুলশানে পুলিশ প্লাজা কনকর্ডে করা হয়েছে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়। এরই মধ্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মিডল্যান্ড ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি মশিউহুল হক চৌধুরীকে।

পুলিশ সদর দপ্তরের কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুরুতে ঢাকাসহ সারা দেশে ছয়টি শাখায় ব্যাংকের কার্যক্রম চলবে। পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানায় ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রচলিত অন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতোই এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সব ধরনের গ্রাহক লেনদেন করতে পারবেন এই ব্যাংকে। তবে পুলিশ সদস্যরা স্বল্পসুদে ঋণ নেওয়ার সুবিধা পাবেন।

সারা দেশে পুলিশের এক লাখ ৬৬ হাজার সদস্য মূলধনের পুরো টাকা জোগান দিয়েছেন। তবে যারা তিন বছরের মধ্যে অবসরে যাবেন তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি। অবশ্য তারাও ব্যাংকের সব সুবিধা পাবেন। ব্যাংক লাভজনক হলে তিন বছর পর মূলধন যোগানের ওপর প্রত্যেকে নির্ধারিত হারে লভ্যাংশ পাবেন। তা ছাড়া আরো বেশ কিছু সুবিধা পাবেন পুলিশ সদস্যরা। জমি কেনা, বাড়ি নির্মাণ, ব্যবসা উদ্যোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সদস্যরা স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা পাবেন।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গত ২৪ জানুয়ারি পুলিশের কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ডসভায় নতুন ব্যাংকটির নাম ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ করার সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে প্রাথমিকভাবে নাম করা ছিল বাংলাদেশ পুলিশ ব্যাংক।

জেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *